বিবিধ

অনেক ভেবে নদী পেরিয়ে স্কুলে যাতায়াতের সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষক

আগামবার্তা: রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থা ভাল নয়, তাই বাসে চড়ে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব৷ কিন্তু কথায় বলে, ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়৷ আর সেই কথারই বাস্তবিক প্রয়োগ ঘটালেন কেরলের এক শিক্ষক৷ সময়মতো স্কুলে পৌঁছানোর জন্য কী যে করেন তিনি, তা জানার পর আপনার চোখ কপালে ওঠাই স্বাভাবিক৷ এভাবেও যে সময়ানুবর্তিতার পরিচয় দেওয়া সম্ভব, তা হয়ত ভাবতেই পারবেন না আপনি৷

কেরলের মালাপ্পুরমের বাসিন্দা আবদুল মালিক৷ চল্লিশ বছর বয়সী এই ব্যক্তি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক৷ বাড়ি থেকে তাঁর স্কুলের দূরত্ব মাত্র বারো কিলোমিটার৷ বাসে বা ট্রেনে বারো কিলোমিটার রাস্তা যেতে কতক্ষণই বা সময় লাগতে পারে? খুব বেশি হলে হয় তো ঘণ্টাখানেক৷ কিন্তু আবদুল মালিকের সেই রাস্তা যেতে প্রায় দু-তিনঘণ্টা সময় লেগে যায়৷ সৌজন্যে, রাজ্যের দুর্বল পরিবহণ ব্যবস্থা৷ শুধু সময় নষ্ট হয়, তা নয়৷ উপরি পাওনা হিসাবে সময়মতো স্কুলেও পৌঁছাতে পারতেন না ওই শিক্ষক৷ একজন শিক্ষক হয়েই যদি নিয়ম না মানেন, তবে কচিকাঁচাদের কী-ই বা শিক্ষা দেবেন তিনি? আপাত সৎ একটা মানুষ বিবেকের দংশনে ভুগছিলেন৷

তাই অন্য রাস্তার ভাবনাচিন্তা শুরু করেন৷ অনেক ভেবে নদী পেরিয়ে স্কুলে যাতায়াতের সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষক৷ নৌকায় চড়ে তিনি স্কুলে পৌঁছে যাবেন বলে ভাবছেন নিশ্চয়ই? অবাক লাগলেও, এটাই সত্যি প্রতিদিন সাঁতার কেটে স্কুলে পৌঁছান ওই শিক্ষক৷ নিয়ম করে সকাল ৯টায় বাড়ি থেকে বেরোন৷ নিজের পোশাক, জুতো, টিফিন বক্স প্লাস্টিকে জড়িয়ে কাঁধে তুলে নেন৷ একটি টায়ার টিউব কোমরে জড়িয়ে নেন৷ তার দিব্যি সাঁতার কেটে নদী পেরোন৷ নদীর পাড়ে পোশাক পরিবর্তন করেন৷ তারপর ধীরে সুস্থে পাহাড়ের কোল ঘেঁষা রাস্তা দিয়ে পৌঁছে যান স্কুলে৷

এক-দু’দিন নয়, টানা কুড়ি বছর ধরে এটাই তাঁর রোজনামচা৷ তবে এভাবে স্কুলে পৌঁছাতে কোনও ক্লান্তি নেই তাঁর৷ সময় এবং যাতায়াতের খরচ কমে যাওয়ায় দিব্যি খুশি স্কুল শিক্ষক৷ সময়ানুবর্তিতা অবাক করেছে তাঁর সহকর্মীদের৷ এমন শিক্ষকের কাছে পড়াশোনা শিখতে পেরে গর্বিত ছাত্রছাত্রীরাও৷ 

Leave a Reply

Back to top button
Close