offbeat news

আকাশে দৌড়ে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে ‘রেকর্ড’ প্রফেসরের

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : আকাশে ওড়া যায়, বাতাসে ভাসা যায়। তিনি আকাশে বাতাসে দৌড়ে চড়লেন পাহাড়। হ্যাঁ, এমন কাণ্ডই ঘটিয়েছেন মেঘনাদ সাহা ইন্সিটিউট অফ টেকনোলজির প্রফেসর অভিষেক তুঙ্গ। শুনে মনে হতে পারে প্রফেসর শঙ্কুর সেই বিমানের কথা, যা নিজের মতো চলতে পারত। না, এসব কোনও বিমান আবিষ্কার করেননি এই প্রফেসর। সম্পূর্ণ একা সহ্যাদ্রি পর্বতমালার একটি অংশ দৌড়ে উঠে পড়েছেন। পাহাড়ের উপর এই দৌড়ে উঠে যাওয়াকেই বলা হয় স্কাই রানিং। বাংলায় অর্থ করলে যা হয় ‘আকাশে দৌড়ানো’।
মাত্র ১২ দিনে ৬০০ কিলোমিটার দৌড়ে শেষ করেছেন অভিষেক। টেকনিক্যাল পরিভাষায় একে ট্রেল-রানিং অনেকক্ষেত্রে স্কাইরানিং বলে। গত ২৩ ডিসেম্বর গুজরাটের নবপুর থেকে শুরু করে ৩ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রের লোনাভালায় দৌড় শেষ করেন তিনি। সম্পূর্ণ দৌড়ে অভিষেকের কোনও সাপোর্ট ছিল না। সাধারণত এই ধরণের ইভেন্টে কেউ নিজের জিনিস বয়ে নিয়ে যায় না। অভিষেককে নিজের ব্যাগ নিজেই ক্যারি করেছেন। ৫ কেজি ব্যাগ নিয়ে প্রতিদিন ৫০ কিলোমিটার দৌঁড়ানোর অবিশ্বাস্য কাজ করেছেজ তিনি। অভিষেক জানিয়েছেন, ‘শেষ দুদিন পুরোটাই পাহাড় আর জঙ্গল, খাবার পাইনি, এনার্জি বার খেয়ে সারভাইভ করতে হয়েছে।’ অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস খেলোয়াড়রা বলছেন, ‘দীর্ঘদিনের অধ্যাবসায় এবং এডভেঞ্চারের উপর ভালোবাসা না থাকলে এটা সম্ভব না।’ অভিষেকের আগে এই রুটে আগে কেউ এতটা দৌড়াননি, সেই হিসেবে এটা নয়া রেকর্ড বলা যেতে পারে। আমরা গর্বিত।

যাদবপুর থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা মেদিনীপুরের অভিষেকের অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস প্রেমের গল্পের শুরু খুব সাধারণ ভাবেই। ঝোঁক চাপে ম্যারাথন দৌড়ের। সঙ্গে পাহাড় প্রেম। ক্লাইম্বিং শেখার পর শুরু হয় ট্রেল রান। এর আগে মাত্র ১২ ঘণ্টায় একদৌড়ে মানেভঞ্জন থেকে সান্দাকফু উঠে নজির গড়েছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র। ইয়াকসাম থেকে জোংরি টপে উঠেছিলেন মাত্র ৬ ঘণ্টায়। কঠিন থেকে কঠিনতর টার্গেট ছুঁড়ে দিতেই ভালো লাগে তাঁর। কারণ এটাই তাঁর ভালোবাসা, এটাই নেশা।

অভিষেক তুঙ্গা আবার অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস ক্লাব সোনারপুর আরোহীর সদস্যও। সদ্য তিনি ক্লাবের পক্ষ থেকে পেয়েছেন ‘মোস্ট প্রমিসিং মাউন্টেনিয়ার’ পদক। সোনারপুর আরোহীর সদস্যরা জানাচ্ছেন , ‘আমরা শুধুমাত্র কারও অতীত কৃতিত্বে তাকে বেছে নিই না। দেখা হয় তার ভবিষ্যৎ দৃষ্টি ও পরিকল্পনাও। মূলত উৎসাহব্যঞ্জক এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় ভবিষ্যতে সে যাতে আরও দৃষ্টান্তমূলক কাজ করে যেতে পারে, এটাই আমাদের আশা।
অতীতে এই অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন বসন্ত সিংহরায়, দেবাশীষ বিশ্বাস, দেবরাজ দত্ত, মলয় মুখার্জী সবাই। মোস্ট প্রমিসিং এডভেঞ্চারিস্ট এওয়ার্ড পেয়েছেন মাসুদুর রহমান, বুলা চৌধুরী। এরা সবাই নিজেকে প্রমাণ করে দিয়েছেন বারংবার।’ ক্লাবের অভিজ্ঞ সদস্যরা আরও জানাচ্ছেন, ‘এটাও আমাদের একটা শান্তি যে, আমরা ২০১৯ সালেও একদম ঠিক লোককে বেছে নিয়েছিলাম।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close