Bangladesh

আম সংগ্রহের তারিখ নির্ধারণ

বাজারে নিরাপদ ও পরিপক্ব আম নিশ্চিত করতে এবারও বাগান থেকে আম সংগ্রহের তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার দুপুরে কৃষিবিদ, ফল গবেষক, চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সভা করে জেলা প্রশাসন আম সংগ্রহের তারিখ নির্ধারণ করে। অনলাইনে অনুষ্ঠিত এ সভায় জানানো হয় ১৫ই মে থেকে গাছ থেকে আম নামাতে পারবেন বাগান মালিক ও চাষিরা।

সভায় সবার মতামতের ভিত্তিতে আম নামানোর তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত দুই বছরের আম নামানোর সময়সীমাকেই এবারো আম নামানোর সময় সীমা হিসেবে নির্ধারণ করে। এতে, সব ধরনের গুটি জাতের আম নামানো যাবে আগামী ১৫ই মে থেকে। আর গোপালভোগ ২০ মে, লক্ষণভোগ বা লখনা ও রাণীপছন্দ ২৫ মে এবং হিমসাগর বা খিরসাপাত ২৮ মে থেকে নামিয়ে হাটে তুলতে পারবেন বাগানমালিক ও চাষিরা। এছাড়া ৬ জুন থেকে ল্যাংড়া, ১৫ জুন থেকে ফজলি ও আম্রপালি এবং ১০ জুলাই থেকে আশ্বিনা ও বারি আম-৪ নামানো যাবে।

সভায় জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ের আগে আম বাজারে পেলে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। তবে, কারও বাগানে নির্ধারিত সময়ের আগেই আম পাকলে তা প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে।
ভার্চুয়াল সভা শেষে জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, এটা প্রস্তাবিত সময়সীমা। দুই বছর ধরে একই সময় বেঁধে দেয়া হচ্ছে। এর এক সপ্তাহ আগে বা পরে আম পাকতে পারে। আম পাকলে বাজারে আনা যাবে। বাজারে পরিপক্ব ও নিরাপদ আম নিশ্চিত করতে প্রতিবছরই রাজশাহীতে তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এবারও সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতে তারিখ ঠিক করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরো জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে আমের বাজারগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার বিষয়টিও সভায় আলোচিত হয়েছে। হাটগুলোতে সার্বক্ষণিক পুলিশ থাকবে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনাররাও বিষয়টি দেখভাল করবেন।

রাজশাহীতে সবচেয়ে বড় আমের হাট বসে পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরে। এছাড়া পুঠিয়ার বাঘার আড়ানী, মনিগ্রাম, বাউসা ও পাকুড়িয়া এবং মোহনপুরের কামারপাড়ায় পাইকারী আমের হাট বসে। হাটগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে ইতিমধ্যে প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজশাহীতে এ বছর ১৭ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে আমবাগান আছে। গত বছর ১৭ হাজার ৫৭৩ হেক্টর জমিতে আমবাগান ছিল। এবার বাগান বেড়েছে ৩৭৩ হেক্টর জমিতে। এ বছর হেক্টর প্রতি ১১ দশমিক ৯ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে জেলায় এ বছর দুই লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে। তবে, খরার কারণে এবার আমের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

Share this:

TwitterFacebook

সূত্রঃ zoombangla

Back to top button