Islam

আল্লাহ তায়ালা যেদিন পৃথিবীর সব মানুষকে ক্ষমা করে দেয়ার কথা বলেছিলেন

আবদুল্লাহ তামিম ♦

বনি ইসরাইলের এক যুবকের ঘটনা। নিজের খারাপ কাজের জন্য খুব বদনামী হয়ে গিয়েছিলো। এলাকার লোকজন তাকে এলাকা থেকে বের করে দিলো। শহর থেকে বের করে দেয়ার কিছু দিন পর তার কাছে খাওয়া দাওয়া পান করার মত আর কিছু অবশিষ্ট থাকলো না।

মৃত্যু ছাড়া আর কোনো উপায় রইল না তার সামনে। সব আশা ছেড়ে দিলো সে। তার আত্মীয়-স্বজন, এলাকার লোক সবাই তাকে ছেড়ে দিয়েছে। কেউ তার খোঁজ নিতে গেলো না। সে কি মরে গেছে না বেঁচে আছে কেউ জানতেও গেলো না।

এভাবে মৃত্যুর সময় যখন ঘনিয়ে এলো সে এদিক সেদিক দেখলো। কেউ কোথাও নেই তাকে সাহায্য করার। ডানে তাকালো বামে তাকালো, উপরে তাকালো পিছনে তাকলো, না কোথাও কেউ নেই তাকে সাহায্য করার।

এর পর সে আসমানের দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করলো- ওগো ঐ সত্তা- যিনি ক্ষমা করলেও তার বিপুল ভাণ্ডারে কোনো ঘাটতি হয় না। তার ভাণ্ডার থেকে বিন্দু পরিমাণও কমে না। হে আমার স্রষ্টাو হে আমার আল্লাহ পৃথিবীর সব মানুষ আমাকে ছেড়ে দিয়েছে, আজ তোমার দরবারে হাত পাতলাম আমি। আমি তোমার নেক বান্দাদের কাছে শুনেছি তুমি বড় মেহেরবান দয়ালু। তুুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও মালিক। আমাকে তুমি মৃত্যু দাও। সে সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু বরণ করলো।

হজরত মুসা আ.কে আল্লাহ বললেন, হে মুসা আমার এক বান্দা জঙ্গলে আছে। তার জানাযা দাও। এলান করে দাও যে তার জানাযায় অংশগ্রহণ করবে তাকেও ক্ষমা করে দেয়া হবে।

কে সে যুবক? তার জীবনে গুনাহ ছাড়া আর কোনো ছিলো না। পৃথিবীর সবাই তাকে ছেড়ে দিয়েছে। শেষপর্যন্ত আল্লাহর কাছে মিনতি করায় আল্লাহ তায়ালা তার মর্যাদা কতটা বাড়িয়ে দিয়েছে।

মানুষজন ছুটে আসলো জানাযায়। লাশ দেখে অবাক। মুসা আ.কে বলল হে মুসা এটাতো সে যুবক যাকে আমরা জিনা করার কারণে শহর থেকে বের করে দিয়েছিলাম। সে এমন আল্লাহর প্রিয় কিভাবে হয়ে গেলো যে তার জানাযায় আসলে আমাদেরও আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন?

মুসা আ. আল্লাহ তায়ালাকে বললেন তারা যা বলছে সত্যিই বলছে। কিন্তু তার মৃত্যুর আগে সে পৃথিবীর দিকে তাকিয়েছে কেউ তাকে সাহায্য করার ছিলো না। শেষপর্যন্ত সে আমার কাছে প্রার্থণা করেছে, ক্ষমা চেয়েছে। আমার ইজ্জতের কসম, সে যদি পুরো দুনিয়ার মানুষের জন্য ক্ষমা চাইত আমি সবাইকে ক্ষমা করে দিতাম।

মাওলানা তারিক জামিলের বয়ান থেকে অনুবাদ

-এটি

বিষয়ঃ

Leave a Reply

Back to top button
Close