International

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, স্প্যানিশ ফ্লু’য়ে স্পেনের মতোই আমেরিকার রোষানলে ইরান, কাতরাচ্ছে করোনায়

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : যা হয়েছিল স্পেনের সঙ্গে অনেকটা যেন তাই হচ্ছে ইরানের সঙ্গেও। সেবার স্প্যানিশ ফ্লু-য়ে স্পেনের হাত না থাকলেও বিশ্বযুদ্ধে পক্ষপাতের ফল ভুগতে হয়েছিল তাদেরকে। আমেরিকায় রীতিমত নিষেধাজ্ঞা জারি করা ছিল ফ্লু প্রসঙ্গে কোনও খবর প্রকাশে, অথচ দোষের ভাগিদার হয়ে বসে রয়েছে তারা। এমন ভাবেই অনেকটা আমেরিকার সঙ্গে দ্বন্ধে ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যাচ্ছে ইরান ও তাদের করোনা ভাইরাস নিয়ে চরম খারাপ অবস্থার কথা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন সে দিন যেমন আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়তে হয়েছিল স্পেনকে, আজ ১০০ বছর পর সেই একই লড়াই লড়তে হচ্ছে ইরানকেও। প্রথম দিকে ইরানের প্রচুর খবর প্রকাশ্যে এলেও ক্রমে তা কমে গিয়েছে। এখন প্রায় নেই বললেই চলে। অথচ চরম অবস্থা খারাপ সে দেশের। প্রকাশ্যে কখনও ইতালি, কখনও স্পেন হয়ে এবার শক্তিমান আমেরিকা। তারা আবার অ্যান্টি ভাইরাস তৈরির দিকেও এগিয়ে গিয়েছে বলে দাবী করে বসে আছে। ঘটনা হল, ইরানকে লড়তে হচ্ছে জোড়া ফলা। একদিকে করোনা অপরদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা।

ইরানই একমাত্র দেশ, যাকে এই ধরনের কঠিন পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। ব্যাঙ্ক ও অর্থ লেনদেনের উপর নিষেধাজ্ঞার কারণে কিনতে পারছে না চিকিৎসার জন্য জরুরি সরঞ্জাম। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে ভয়াবহ মাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ইরানে এখনও পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২৭,০১৭, মৃত ২,০৭৭।
ইতালি, চীনের পরে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তবু খবর থেকে হারিয়ে গিয়েছে তাদের এই পরিস্থিতি। খবর মিলছে , এত কিছুর পরেও ইরানের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কঠোর থেকে কঠোরতর করা হয়েছে।

বিশ্ববাজার থেকে অন্যান্য পণ্যের মতোই ওষুধ আর চিকিৎসা সরঞ্জামও কিনতে পারছে না তেহরান। ফলে মহামারির রূপ নেওয়া কোভিড-১৯ প্রতিরোধ করতে পারছে না দেশটি। পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় যে ইরান আইএমএফের কাছে জরুরি ভিত্তিতে ৫০০ কোটি ডলার ঋণ চেয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ইরানই একমাত্র দেশ যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিষ্ঠুর ও অমানবিক’ নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্ববাজার থেকে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনতে পারছে না।
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ইরানের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য বিশ্বের সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইউনাইটেড নেশনসের মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরেস। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ইরান যাতে এই স্পর্শকাতর সময়ে সহজে ও নির্বিঘ্নে করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে পারে, সে জন্য তেহরানের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার কথাও বলেছেন ইউনাইটেড নেশনসের মহাসচিব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close