offbeat news

একই বৃন্তে দুইটি কুসুম, গীতাদেবীকে রক্ত দিয়ে প্রাণ রক্ষা সাবানার

স্টাফ রিপোর্টার , হাওড়া : রক্তের সম্পর্ক নেই। রক্তের রঙ তো লাল। আছে মানব সম্পর্ক। সেই বন্ধনেই বাঁধল হিন্দু মুসলিম। আবারও। হিন্দু মহিলাকে রক্ত দিয়ে প্রাণ রক্ষা করলেন এক মুসলিম মহিলা। অভিনব ঘটনার সাক্ষী থাকল উলুবেড়িয়ার বিশ্বাস পরিবার।

উলুবেড়িয়ার বাসিন্দা বছর উনষাটের গীতা বিশ্বাসের হঠাৎই শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। তাঁকে ভর্তি করা হয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা দ্রুত কমতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে গীতা দেবীকে রক্ত দেওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে। AB+ পজিটিভের রক্তের খোঁজে হন্য হয়ে ঘুরতে শুরু করেন বিশ্বাস পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা গ্রামীণ হাওড়ায় রক্তদান নিয়ে নিরন্তরভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়া রেজাউল করিমের দ্বারস্থ হন।

রেজাউল বাবু দেরি না করে গীতাদেবীর জন্য দ্রুত রক্তের সন্ধানে নিজের ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেন। তা দেখেই সঙ্গে সঙ্গেই রক্ত দিতে এগিয়ে আসেন উত্তর পাঁচলার বছর তিরিশের তরুণী সাবানা সুলতানা। সোমবার একটি বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে তিনি গীতাদেবীকে রক্তদান করেন। রক্ত দেওয়ার পর সাবানা সুলতানা বলেন,”মুমূর্ষু গীতাদেবীকে রক্তদান করতে পেরে খুব ভালো লাগছে।” রেজাউল বলেন,”ফেসবুকের মতো ভার্চুয়াল জগৎ থেকে আমার আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুমূর্ষু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত।”

২০১৯ সালের রমজান মাসে এমনই একটি সারা জাগানো ঘটনা ঘটেছিল। আসামের ঘটনা নজর কাড়ে বিশ্ববাসীর। এক মুসলমান তরুণ রোজা ভেঙে রক্ত দেন এক হিন্দুকে। ঘটনা ছিল আসামের মঙ্গলদই গ্রামে। রমজান মাসে সূর্যোদয়ের আগে খাবার খেয়ে নেওয়ার রীতি। সেই সময় ওই যুবক অর্থাৎ আহমেদ প্রথম খেয়াল করেন তার রুমমেট তাপস ভগবতী কোনও এক কারনে খুব চিন্তিত। তাপস নিজে সে রাজ্যের রক্তদানের একটি দল ‘টিম হিউম্যানিটি’র সদস্য। আগের রাতেই তাপস তার দলের সদস্যদের থেকে খবর পায় দুই ইউনিট ও নেগেটিভ রক্ত দরকার এক রোগীর। অনেক খোঁজার পরেও ধেমাজি জেলায় রোগীর পরিবার তাঁর গ্রুপের রক্ত জোগাড় করতে পারেননি।

আহমেদ এবং তাপস দুজনেই গুয়াহাটির ‘স্বাগত সুপার স্পেশালিটি সার্জিকাল হাসপাতালে’ কর্মরত। খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ ওই রোগীর হাসপাতালে ছুটে যান দুজনেই। আহমেদ জানান তিনি উপবাসে রয়েছেন, কিন্তু তাতেও রক্ত দিতে চান। চিকিৎসকেরা পরামর্শ দেন রক্ত দিতে চাইলে উপোষ ভাঙাই কাম্য। সেই মুহূর্তে রোজা ভাঙেন আহমেদ। রক্ত দানের আগে এক মৌলবির পরামর্শও নিয়েছিলেন যুবক। মৌলবিও তাঁকে সে কাজে উৎসাহ দেন।

লাল-নীল-গেরুয়া…! ‘রঙ’ ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা ‘খাচ্ছে’? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম ‘সংবাদ’!

‘ব্রেকিং’ আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের।

কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে ‘রঙ’ লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে ‘ফেক’ তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই ‘ফ্রি’ নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.
হ্যাঁ, আমি অনুদান করতে ইচ্ছুক >

অতিমারীর মধ্যে দেশি ব্র্যান্ডগুলি কতটা সমস্যার মধ্যে রয়েছে , তারাও কী ভাবছেন আগামী নিয়ে? জানাবেন ডঃ মহুল ব্রহ্ম।

Back to top button