Bangladesh

একমাত্র আসামি মজনুর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করার ঘটনায় ধর্ষক মজনুর বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। গত ১৬ মার্চ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এই চার্জশিট দেওয়া হয়। ধর্ষণের ঘটনায় আরও কারও সম্পৃক্ততা না পাওয়া মজনুকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (এসআই) আবু সিদ্দিক সারাবাংলাকে জানান, মজনুর বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। আসামি মজনু কুর্মিটোলা এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন বিভিন্ন নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাবির ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন।
বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে শারীরিক মেলামেশা থাকায় মজনুর শরীরে এইচআইভি আছে কি না তা পরীক্ষা করা হয়। তবে সেই রেজাল্ট নেগেটিভ আসে, জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার দিন ভিকটিম সন্ধ্যা ৫টা ৪০ মিনিটে তার ব্যবহৃত একটি ব্লু কালারের ট্রাভেল ব্যাগে করে রাতে ব্যবহারের জন্য জামাকাপড় নিয়ে ঢাবির ক্ষণিকা বাসে করে বান্ধবীর বাসার উদ্দেশে রওনা হন। ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভুল করে শ্যাওড়া বাস স্ট্যান্ড না নেমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে নেমে পড়েন।
ভিকটিম ভুল বুঝতে পেরে তিনি শ্যাওড়ার দিকে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে থাকেন। সামান্য একটু সামনে যাওয়ার পর আশেপাশে লোকজন না থাকায় তিনি একটু ইতস্তত বোধ করে। অপর দিকে মজনু একজন ভবঘুরে লোক। ঢাকা শহরে তার কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই। সে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন শ্যাওড়া বটতলা এলাকায় ভাসমানভাবে ঘুরে বেড়াতেন।
ঘটনার দিন মজনু বিকেল ৫টার দিকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে যান। তার যৌন রোগ থাকায় হাসপাতাল থেকে ওষুধ নিয়ে আসতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। এরপর কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ড থেকে একটু পূর্বদিকে কুর্মিটোলা আর্মি গলফ ক্লাব যাওয়ার রাস্তার ফুটপাতের পাশে ইটের তৈরি বেঞ্চে বসেন। ৭টার দিকে ভিকটিম শ্যাওড়াস্থ তার বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার জন্য ফুটপাত দিতে যাওয়ার পথে মজনু তাকে পিছন দিক থেকে হঠাৎ কোলে তুলে নিয়ে পাশেই ঝোপের ভেতর ফেলে দেন। তখন ভিকটিম চিৎকার করতে থাকলে মজনু তার গলা চেপে ধরেন এবং মারধর করেন। মজনু ভিকটিমের গলা টিপে ধরায় সে নিস্তেজ হয়ে পড়েন
চার্জশিটে আরও বলা হয়, ভিকটিম একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তখন মজনু তাকে ধর্ষণ করে। কিছুক্ষণ পর ভিকটিমের জ্ঞান ফেরে। সেই সময় ভিকটিম মজনুর কাছ থেকে রেহাই পেতে চলে যেতে চান। মজনু ভিকটিমের কাছে থাকা টাকা, মোবাইল ফোন ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এরপর ভিকটিম ঘটনাস্থল থেকে চলে আসেন।
পরে মজনু টাকা নিজের কাছে রেখে দেয়। ভিকটিমের কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি ভাসমান এক যৌনকর্মীর কাছে বিক্রি করেন। এছাড়া ভিকটিমের ব্যবহৃত ব্যাগটি শ্যাওড়া ফুটওভার ব্রিজটি পার হয়ে রাস্তার পাশে বসার বেঞ্চের নিচে সিমেন্টের বস্তার মধ্যে লুকিয়ে রাখেন।
আসামি মজনু জীবিকা নির্বাহের নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। সে কখনও রিকশা চালায়, কখনও বোতল কুড়িয়ে বিক্রি করেন, কখনও রাস্তায় মানুষের বোঝাই ভ্যান ও ঠেলাগাড়ি ঠেলার কাজ করেন।
চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি মামলাটি ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ থেকে তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিন দুপুরে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন।
ঢাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় মজনুকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামি মজনু বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

সারাবাংলা/এআই/একে

সূত্রঃ সারাবাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close