International

এখন কেন ফর্সা তুমি! কমলা হ্যারিসের ছবি বিতর্কে ভোগ ম্যাগাজিন

ওয়াশিংটন: বিখ্যাত ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘ভোগ’ তাদের প্রচ্ছদে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট নেত্রী তথা আগামী মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের ছবি দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই ম্যাগাজিন প্রভাবশালী মহিলাদের যে তালিকা করেছে তাতে কমলার ছবি নিয়েই বিতর্ক।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর, ‘ভোগ’-এর প্রচ্ছদে পাওয়া ঠাঁই পাওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মহিলারী ও কৃষ্ণাঙ্গ ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস বর্ণবৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ, ওই ম্যাগাজিন কর্তৃপক্ষ কমলা হ্যারিস কে ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত ফর্সা দেখিয়েছে। ভোগ প্রচ্ছদে কমলা হ্যারিসকে দেখেই নেটিজেনরা সরব।

অভিযোগ, দুটি ছবিতেই কমলার গায়ের রঙ ফর্সা দেখানো হয়েছে, বাস্তবের সঙ্গে যা মেলে না। জনপ্রিয় পত্রিকাটির বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। টুইটারে ‘ভোগ’-কে ট্যাগ করে ক্ষোভ দেখাচ্ছেন বহুজন। বিতর্ক এখানেই।

কারণ, মার্কিন জাতীয় নির্বাচনের প্রচারে বারবার নিজের কৃষ্ণাঙ্গ ও এশীয় পরিচয় টেনে এনেছিলেন কমলা হ্যারিস। নির্বাচনের আগে মারাত্মক করোনাভাইরাস সংক্রমণের মাঝে প্রতিপক্ষ রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বর্ণবিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ ও কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা ঘিরে পরিস্থিতি ছিল উত্তাল।

খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর মন্ত্রীপরিষদ সদস্যদের ঘেরাও করেন কৃষ্ণাঙ্গরা। তীব্র আন্দোলনের ধাক্কায় ট্রাম্প কে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছিল। আর ট্রাম্প সমর্থকদের বিরুদ্ধে বারবার কৃষ্ণাঙ্গদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল। নির্বাচনে পরাজিত হয় রিপাবলিকানরা।

ডেমোক্র্যাট নেত্রী কমলা হ্যারিস ভোটে জিতে দেশটির প্রথম মহিলা ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। কিন্তু শপথগ্রহণের আগে মার্কিন হবু ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস পড়লেন ‘ফর্সা’ বিতর্কে।

ফেব্রুয়ারি মাসের প্রচ্ছদের জন্য কমলা হ্যারিস কে বেছে নিয়েছে ‘ভোগ’ ম্যাগাজিন। টুইটারে দুটি প্রচ্ছদ প্রকাশ করেছে এই পত্রিকা কর্তৃপক্ষ। এতে সবাই যেভাবে কমলা হ্যারিস কে দেখতে অভ্যস্ত, সেভাবেই ছবি দেওয়া হয়েছে। একটিতে তাঁর পরনে কালো ট্রাউজার্স ও জ্যাকেট, পায়ে সাদা কালো স্নিকার্স।

এই ছবি ঘিরেই তৈরি হয়েছে নয়া বিতর্ক

আর অন্যটিতে তিনি পরেছেন ধূসর ব্লু রঙের স্যুট। কিন্তু নেটিজেনদের দাবি, পোশাক যাই হোক ভোগ ম্যাগাজিন কর্তৃপক্ষ কমলা হ্যারিসকে একটু বেশি ফর্সা দেখেছেন। ছবির মতো এতটা ফরসা তিনি নন। ‘ভোগ’ ম্যাগাজিন সম্পাদক অ্যানা উইন্টর ক্রমাগত অভিযোগের তীরে বিদ্ধস্থ। অভিযোগ, তিনি শ্বেতাঙ্গ বর্ণের প্রতি বিশেষভাবে দুর্বল।

লাল-নীল-গেরুয়া…! ‘রঙ’ ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা ‘খাচ্ছে’? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম ‘সংবাদ’!

‘ব্রেকিং’ আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের।

কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে ‘রঙ’ লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে ‘ফেক’ তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই ‘ফ্রি’ নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.
হ্যাঁ, আমি অনুদান করতে ইচ্ছুক >

করোনাকালে বিনোদন দুনিয়ায় কী পরিবর্তন? জানাচ্ছেন, চলচ্চিত্র সমালোচক রত্নোত্তমা সেনগুপ্ত I

Back to top button