Islam

করোনাভাইরাস নিয়ে যা বলছে ধর্ম ও বিজ্ঞান

করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে৷ একইসঙ্গে বাড়ছে মানুষের ভেতর আতঙ্কও। বিভিন্ন ধ’র্মের অনুসারীরাও এর ব্যাখ্যা দিতে শুরু করেছেন৷ কেউ কেউ বলছেন, পৃথিবীর ধ্বংস অনিবার্য হয়ে উঠেছে৷

গত ডিসেম্বরে শুরু হয় করোনা ভাইরাসের প্রকোপ৷ এখন সারা’বিশ্বের প্রায় এক লাখ ২০ হাজার মানুষ এ ভাইরাসের আক্রান্ত। ‬

নানা সময়ে মহামা’রি ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে একেক ধ’র্মে একেকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়৷ যেমন, বাইবেলের উক্তি তুলে ধরে অনেক খ্রিস্ট্রীয় অনুসারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, এমন একটি সময় আসবে ‘যখন একটি রোগে অনেক মানুষ মা’রা যাবেন৷’একজন লিখেছেন, ‘দুঃখের দিনের শুরু’ ম্যাথু ২৪:৩-৮৷ আরেকজন ‘যিশু ফিরছেন’ এই হ্যাশট্যাগ দিয়ে লিখেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বনাঞ্চলের আ’গুন… করোনাভাইরাস… অ’প্রচলিত জায়গায় ভূমিকম্প… বিশ্বব্যাপী হিং’সা/খু’ন বেড়ে যাওয়া… ক্ষুধার্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া… আর তারা যারা পুনরুত্থানের কিতাবকে অবজ্ঞা করে।’

ইস’লাম ধ’র্মের অনেক অনুসারীও ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন৷ অনেকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বারবার হাত ধোয়ার পরাম’র্শের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার আগে ওযু করার সঙ্গে মিলিয়েছেন৷ অবশ্য বিশেষজ্ঞরা সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুতে বলেছেন৷

অনেকে হাদিসে বর্ণিত একটি অ’সুখের কথা উল্লেখ করে বলেছেন যে, পৃথিবী শেষ হবার আগে একটি রোগ সারা’বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে৷ অনেকে কেয়ামতের আগে কাবায় ‘তাওয়াফ’ বন্ধ হবে এই ঘটনার সঙ্গে চলমান করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কাবায় ওম’রাহ বন্ধের তুলনা করেছেন৷

অনেক হিন্দু ধ’র্মের অনুসারীও এ নিয়ে তাদের ব্যাখ্যা হাজির করেছেন৷ অল ইন্ডিয়া হিন্দু মহাসভার সভাপতি স্বামী চক্রপাণি এ ভাইরাসকে একটি ‘রাগী দেবতা’ বলে অ’ভিহিত করেছেন৷

‘করোনা ভাইরাস নয়, এটি নিরীহ প্রাণীকে রক্ষার অবতার৷ যারা এদের ভক্ষণ করেন, তাদের মৃ’ত্যু ও সাজার শা’স্তি শোনাবার জন্য এরা এসেছে’ বলেন তিনি৷

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের করোনার মূর্তি তৈরি করে ক্ষমা চাওয়ার দরকার ছিল বলে মনে করেন চক্রপাণি৷

‪আসাম বিজেপির সদস্য সুমন হরিপ্রিয় দাবি করেন যে, গোমুত্র ও গোবর করোনা ভাইরাসের দূষণ থেকে বাঁ’চায়৷‬

বিজ্ঞান যা বলছে?
বিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনা ভাইরাস প্রাণী ও মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ছড়াতে পারে৷ এটি ভাইরাসের একটি বিশাল পরিবার যা সাধারণ ঠাণ্ডা লাগা থেকে শুরু করে শ্বা’সক’ষ্টজনিত জটিল রোগ মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম (মা’র্স-কোভ) ও সিভিয়ার অ্যাক্যুট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম (সার্স-কোভ)-এর কারণ হতে পারে৷

এ পরিবারের নতুন সদস্য নতুন করোনা ভাইরাসটি, যা কোভিড-১৯ নামের নিউমোনিয়াসদৃশ রোগের কারণ হতে পারে৷ এই রোগ মানুষের মৃ’ত্যুর কারণও হতে পারে৷ ‬

সার্স ভাইরাসটি ছড়িয়েছিল সিভেট নামের একরকমের প্রাণী থেকে৷ মা’র্স ছড়িয়েছিল উট থেকে৷ তবে নতুন করোনা ভাইরাসটি কোথা থেকে ছড়িয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নন বিশেষজ্ঞরা৷

এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ ২০ হাজার মানুষ কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন এবং এদের প্রায় চার হাজার ৩০০ জন মা’রা গেছেন৷ এদের বেশিরভাগই চীনের হুবেই প্রদেশের৷

তবে পৃথিবীতে এর আগে রোগের এর চেয়েও ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব ঘটেছে৷ যেমন চতুর্দশ শতকে প্লেগের প্রাদুর্ভাব ঘটায় ইউরেশিয়া অঞ্চলের কমপক্ষে সাড়ে সাত কোটি থেকে ২০ কোটি মানুষ মা’রা গেছেন৷ এই প্লেগকে বলা হত ‘ব্ল্যাক ডেথ’৷ এটি ইঁদুর থেকে ছড়িয়েছিল ও এক রকমের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ৷

১৯১৮ সালে ‘স্প্যানিশ ফ্লু’ নামে পরিচিত ইনফ্লুয়েঞ্জা ৫০ কোটি মানুষকে আক্রমণ করে এবং ১.৭ কোটি থেকে ৫ কোটি মানুষ মা’রা যান৷ কেউ কেউ অবশ্য বলেন তখন ১০ কোটি মানুষ মা’রা গিয়েছিলেন৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close