Education

করোনার মধ্যে বেতন নিয়ে বড় সুখবর পেলো প্রাথমিক শিক্ষকরা

সাধারণত প্রতি মাসের ৩ থেকে ৪ তারিখের মধ্যেই বেতন পান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তবে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারের ঘোষিত সাধারণ ছুটির কারণে নির্দিষ্ট সময়ে বেতন পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেক শিক্ষক।

|আরো খবর

  • প্রাথমিকসহ নতুন করে ছুটি বাড়ানো নিয়ে যা বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
  • সুখবর: প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ
  • পরিবারের জন্য নিজেই পিপিই বানালেন শিক্ষক

তবে শঙ্কায় থাকা শিক্ষকদের জন্য সুখবর দিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্ততের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. ফসিউল্লাহ। করোনা নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যেও শিক্ষকদের বেতন প্রদানে কোনো বিলম্ব হবে না বলে জানান প্রাথমিকের ডিজি।
রোববার সকালে মো. ফসিউল্লাহ বলেন, “শিক্ষকদের বেতনের অর্থ ছাড় করা হয়েছে। আগের মতোই নির্দিষ্ট সময়ে তাদের অ্যাকাউন্টে বেতন জমা হবে। এ বিষয়ে শঙ্কার কিছু নেই।”
উল্লেখ্য, বিশ্বে দাবানলের মত ছড়িয়ে যাচ্ছে করোনাভাইরাস। মুহুর্তের মধ্যেই বিশ্বের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস টা। আক্রান্তের দিক থেকে চীন ইতালি স্পেনকে ছাড়িয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস এখন বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের নাম। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪৮ জনের আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে এবংং মারা গেছেন ৫ জন। এছাড়া গত ৪৮ ঘন্টায় নতুন কোন রোগী আক্রান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর।

এদিকে, স্কুলের প্রতি শিশুদের আগ্রহ বাড়াতে পরিপাটি করা হচ্ছে দেশের ৩০ হাজার ২১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৪) আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রুটিন মেইনটেন্যান্স বা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ের জন্য ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
খুলনা, সিলেট ও রংপুর এই চার বিভাগের এসব বিদ্যালয়ের পরিপাটির কাজ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
জানা গেছে, এই টাকায় দরজা-জানালার ফিটিংস, কাচ, হাতল, লক, ফ্যানের সুইচ, রেগুলেটর, লাইট, বোর্ড মেরামত ও পুনঃস্থাপন করা যাবে। সাইড ওয়ালের টাইলস মেরামত, ড্রেন পরিষ্কার, বৃষ্টির পানি নির্গমন পাইপ মেরামত ও স্থাপন করা যাবে। ভবনের দেয়াল, মেঝে, ছাদে বা ভবনের গায়ে জন্ম নেওয়া আগাছা অপসারণ করতে হবে। পানির কল মেরামত ও স্থাপন, পানি সরবরাহ লাইন মেরামত-স্থাপন ও পরিষ্কার করতে হবে। বিদ্যালয়ের ওয়াশ ব্লক পরিষ্কার, টয়লেট মেরামত এবং চাহিদা অনুযায়ী দৈনিক ছোটখাটো মেরামতের কাজও করতে হবে। এছাড়া চাহিদা অনুযায়ী মেরামত কাজ করা যাবে এই অর্থ দিয়ে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পিইডিপি-৪-এর আওতায় এই চার বিভাগের আরও ৯ হাজার ৮৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছোটখাটো মেরামত কাজের জন্য ২ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ ব্যয় করতে হবে দরজা, জানালা, বেঞ্চ, চেয়ার, কলাপসিবল গেট ইত্যাদি মেরামতের কাজে। ছাদের আস্তর ও সিলিং মেরামত, ভবনের দেয়াল, কলাম, বিমের ফাটল মেরামত, বিদ্যালয় ভবনের দরজা-জানালা রং করা, টাইলস, সিলিং ও গেট মেরামত কাজে ব্যয় করা যাবে এ টাকা। এছাড়া ড্রেনেজ সিস্টেম মেরামত, ব্ল্যাকবোর্ড প্লাস্টার ও রং করা, টিউবওয়েল, টয়লেটের পাইপ, বেসিন, কমোড, প্যান ইত্যাদি মেরামত করা যাবে। বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট করাসহ প্রয়োজনে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তার স্বার্থে যেকোনও মেরামত করতে বলা হয়েছে। এছাড়া চাহিদাভিত্তিক মেরামত কাজে এই অর্থ ব্যয় করা যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ বলেন, ‘২০ হাজার ১৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৪০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ টাকা ব্যয় করা হবে শুধু পরিপাটির জন্য। এছাড়া ৯ হাজার ৮৫১টি বিদ্যালয়ের প্রতিটিকে ছোটখাটো মেরামতের জন্য ২ লাখ করে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
পরিপাটির কাজ ও মেরামত শেষে বিদ্যালয়ের পরিবেশ শিশুদের আরো বেশি আকৃষ্ট করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ
সূত্রঃ বাংলাদেশ জার্নাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close