offbeat news

কালীঘাট বন্ধ, পেটে তালা ভিক্ষুকদের, স্পেশ্যাল রেশন ৭৫-এ পা ‘আলিপুর সার্বজনীন’-এর

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : দীর্ঘ লকডাউন যন্ত্রণা এখন স্পষ্ট। কিন্তু করোনাঘাত কমেনি। চিন্তা বাড়িয়েই চলেছে। কিন্তু এদিকে বহু মানুষের পেট চলছে না। অনেকেই বাড়ি থেকে কাজ করলেও ওঁদের ‘work-from-home’ চলে না। ভক্তদের ভিক্ষাই যে ওঁদের ভরসা। ওদের কি হবে? বিভিন্ন ধর্মস্থানের পাশে ঠাই নেওয়া ভিক্ষুকদের নিয়ে ভাবছেন অনেকেই। কিন্তু করছেন ক’জন? ওঁদের পেট চলবে কিভাবে? ভেবেছে আলিপুর সর্বজনীন। রাস্তা থেকে ঝুপড়ি, পৌঁছে যাচ্ছে রেশন থেকে ওষুধ।
আলিপুর সার্বজনীন পূজো এইবছর পঁচাত্তর বছরে পদার্পণ করবে। আলিপুর চেতলা কালীঘাট সংলগ্ন বস্তি অঞ্চলে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন আলিপুর সার্বজনীন ক্লাবের সদস্যরা। বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন রেশন। তৈরি করেছেন গরীব মানুষদের জন্য রেশন কার্ড। সেই রেশন কার্ড দেখালেই আলিপুর সার্বজনীন ক্লাব থেকে মিলছে প্রতিমাসে রেশন ব্যবস্থা। আলিপুর সার্বজনীন ক্লাবের সভাপতি জয়দীপ ওরফে সাহেব দাসের কথায়, ‘আলিপুর সার্বজনীন ক্লাব এবছর ৭৫ বছরে পা দিল। অনেক স্বপ্ন ছিল এ বছরে। কিন্তু তার থেকেও বেশি আনন্দ লাগবে মূর্তি প্রতিমা থেকে সত্যিকারে প্রতিমা দের যদি বরণ করে নিতে পারি এই কঠিন যুদ্ধে। সাহায্যের মধ্যে রেখেছি হাজার হাজার আয়ুষ নির্ধারিত করণা প্রতিষেধক হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ও।’
পাশাপাশি কালীঘাট মন্দির মন্দির চত্বরে থাকা ভিক্ষুকদের পাশে দাঁড়ালেন তাঁরা। লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থীর ভিড় হয়ে বলে বেশিরভাগ ভিক্ষুক মন্দির চত্বরকেই বেছে নেয়। ইতিমধ্যেই দক্ষিণেশ্বর খুলেছে, বেলুড় মঠ খুলে গিয়েছে। কিন্তু কালীঘাট বন্ধ। কালীঘাটের সামনে ভিক্ষা করেন এরকম মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। আর এবার এই গরীব মানুষদের কথা ভেবে পুলিশকর্মীদের সহযোগিতায় বন্ধ মন্দিরের সামনেই তাদের কিছু সাহায্য করেন আলিপুর সর্বজনীনের সদস্যরা। প্ল্যাকার্ড নিয়ে আবেদন জানান মন্দির খোলবারও।

কালীঘাট মন্দির কবে খুলবে সে বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি মন্দির কর্তৃপক্ষ। তবে সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই দুই মন্দিরের জন্য দর্শনার্থীদের জন্য খুলে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, মন্দির চত্বরে সেবায়ত, ভক্ত প্রত্যেকের জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক হতে চলেছে। মন্দিরে প্রবেশের জন্য আপাতত তিনটি পথ খুলে দেওয়া হতে পারে। প্রতিটি দরজায় থাকবে স্যানিটাইজিং টানেল। সংক্রমণ মুক্তির জন্য এই টানেলের মধ্যে দিয়ে দর্শনার্থীদের মন্দিরে প্রবেশ করতে হবে। সেইসঙ্গে মন্দিরের তিনটি প্রবেশ পথে থাকবে হ্যান্ড স্য়ানিটাইজারের ব্যবস্থা। কোনও ব্যক্তি মাস্ক না পরে এলে মন্দির চত্বরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে তাঁদের জন্য মাস্কের ব্যবস্থা করবে মন্দির কর্তৃপক্ষই। সাধারণ সময়ে কালীঘাট মন্দিরের পাঁচটি দরজা দর্শনার্থীদের জন্য খালো থাকে। সূত্রের খবর, বর্তমান পরিস্থিতিতে আপাতত তিনটি দরজা খোলা হতে পারে। প্রতিটি দরজায় বসানো হবে স্যানিটাইজিং টানেল। এ ছাড়া মন্দির সংলগ্ন এলাকা স্যানিটাইজ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সরকারি নিয়ম অনুসারে প্রত্যেকের জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক হবে। তবে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১০ জন করে মন্দিরে প্রবেশের যে সরকারি নিয়ম আছে সেটি কীভাবে কার্যকর করা হবে, এখন সেই ভাবনাতেই ব্যস্ত মন্দির কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন।

জীবনের জয়গান মুকেশের এই অদ্ভুত লড়াই: Watch Aparajito Episode 2

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close