offbeat news

কীভাবে এল ভাইফোঁটা, নজরে নেপথ্য কাহিনী

জনশ্রুতি, বোন যমুনার হাত থেকে ফোঁটা নিয়ে অমরত্ব লাভ করেছিলেন মৃত্যুর দেবতা যমরাজ৷ তখন থেকেই ভাইফোঁটার প্রচলনের শুরু৷ যদিও অন্য একটি মতে, দৈত্য নরকাসুরকে বধ করার পর শ্রীকৃষ্ণর কপালে ফোঁটা দিয়েছিলেন বোন সুভদ্রা৷ তখন থেকেই ভাইফোঁটার উৎপত্তি৷

পঞ্জিকা মতে, কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়ায় ভাইফোঁটার উৎসব হয়। এই বিশেষ দিনে চন্দনের ফোঁটা নিজের কনিষ্ঠা আঙুল দিয়ে ভাইয়ের কপালে ফোঁটা পরিয়ে দিয়ে ছড়া কেটে বোন-দিদিরা বলে থাকেন-

‘‘ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা।
যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা॥’’

স্বাভাবিকভাবেই বোন বা দিদিরা তাঁদের ভাই বা দাদা-দের দীর্ঘায়ু কামনায় সেই পুরাকাল থেকেই কালীপুজোর পর ভাইফোঁটা অনুষ্ঠানে মেতে ওঠেন৷ চারিদিকে যখন হানাহানি, অসহিষ্ণুতার আবহ ক্রমবর্ধমান তখন হিন্দুদের ভাইফোঁটার এই উৎসব যেন পরস্পরের আত্মিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করারই বার্তা দিয়ে থাকে৷

ছড়া কাটার পাশাপাশি মাথায় ধান ও দুর্বার শীষ রেখে শঙ্খ বাজিয়ে, উলুধ্বনি দিয়ে ভাই বা দাদাদের দীর্ঘায়ু কামনা করেন বোন ও দিদিরা৷ সারা দেশেই এই উৎসব পালিত হয়৷ স্বাভাবিকভাবে এই বিশেষ দিনে ভাই/দাদা ও দিদি/বোন-রা পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হন৷ পশ্চিমবঙ্গে এই উৎসবের নাম ভাইফোঁটা হলেও নেপাল ও এরাজ্যের দার্জিলিং এলাকায় এই উৎসবের নাম ভাইটিকা৷একইভাবে পশ্চিম ভারতে এটি ভাইগুজ নামে পরিচিত। মহারাষ্ট্র, গোয়া ও কর্ণাটকে ভাইফোঁটাকে বলা হয় ভাইবিজ৷ বিভিন্ন এলাকায় পৃথক নাম হলেও চন্দনের ফোঁটা পরিয়ে মিষ্টি মুখ করানোর রীতি সর্বত্রই একই৷ শুধু তাই নয় এই বিশেষ দিনে ভাই-বোনেরা পরস্পরের উপহার দিয়ে থাকেন৷

তাঁর মাধ্যমে বাংলাদেশের তাঁতবস্ত্র ও গামছা পৌঁছে গিয়েছে বিশ্বের দরবারে। মুখোমুখি বিবি রাসেল ।

Back to top button