offbeat news

কৃষক বিদ্রোহ চারু মজুমদারকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলছে: নাট্যকার চন্দন সেন

কলকাতা: বারবার মহামারী হয়েছে আর গেল গেল রব উঠেছে। আর‌ দেখা গিয়েছে মহামারীর সময় থিয়েটারের উপর আঘাত আসতে। কিন্তু প্রতিবারই থিয়েটার ফিরে এসেছে। এবারেও যখন করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউন শুরু হল তখন হতাশা এসেছিল নাট্যকার চন্দন সেনের মধ্যেও। কিন্তু লকডাউনে গৃহবন্দি অবস্থায় মানব সভ্যতার সেই সব ঘটনার কথা বইপত্রে পড়তে পড়তে আবার সেই হতাশা কাটে। বরং তিনি অনুভব করেন লেখাটা চালিয়ে যেতে হবে। করোনা সঙ্কটকালে তিনি লিখে ফেলেন তিনটি নাটক। যার মধ্যে একটির বিষয় বস্তু হল নকশাল নেতা চারু মজুমদারের জীবন, প্রেম ,রাজনীতি।

এই নাটকটির তিনি নাম দিয়েছেন “চারু লীলা দ্রোহকাল”। নাট্যকার জানিয়েছেন, দুই নাট্য ব্যক্তিত্ব দেব শংকর হালদার এবং বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায় এই নাটকটির ব্যাপারে খুবই উৎসাহী। বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় দেব শংকর হালদার অভিনীত এই নাটকটি সম্ভবত আগামী বছর এপ্রিল-মে মাসে নাগাদ মঞ্চস্থ হতে চলেছে। এই নাটকের কথা পুরনো হলেও আজও ভীষন প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছেন নাট্যকার চন্দন সেন। বিশেষত ঘটনাচক্রে এখন যেভাবে দিল্লি ঘিরে ধরেছে কৃষকরা।

স্কুলের ইংরেজির মাস্টারমশাই চন্দনবাবু গত সাড়ে পাঁচ দশক ধরে নাটকের সঙ্গে যুক্ত। শুরুতে থিয়েটারের অভিনেতা হলেও পরে মূলত নাট্যকার হয়ে গিয়েছেন। আবার এই মানুষটির সঙ্গে রাজনীতির যোগাযোগ একেবারে ছাত্র বয়স থেকে। কমিউনিস্ট আন্দোলনে জড়িয়ে গিয়ে কখনও কখনও জমি দখল করতে হাতে বন্দুক অথবা তীর-ধনুক তুলে নিতে দ্বিধা করেননি এই

এবিটিএ শিক্ষক নেতা। ফলে পুলিশে ধরেছে হাজতবাসের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিয়ের ১০ দিনের মধ্যে সত্যপ্রিয় রায় অনিলাদেবী সঙ্গে শিক্ষক আন্দোলনের করতে গিয়ে ১৪ দিন জেলে থাকতে হয়েছিল চন্দন সেনকে।

সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি তার ভূমিকার কথাও ব্যাখ্যা করেছেন। মনে করিয়ে দিয়েছেন নন্দীগ্রামেগুলি চলায় আরও কয়েকজনের সঙ্গে নাট্য আকাডেমির সদস্য পদ তিনিও ত্যাগ করেছিলেন। আবার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য তাঁদের কাছে আবেদন রাখায় চন্দনবাবু সে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করেন। সেই ঘটনার এত বছর পরে তিনি আজও মনে করেন দুটি সিদ্ধান্তই ঠিক এবং এর জন্য তিনি আদৌ লজ্জিত নন।

তবে গোটা দেশজুড়ে যেভাবে ফ্যাসিবাদী পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে তাতে এই সময়ে বামপন্থীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া উচিত। আর তা যদি হয় এবং বামেদের সঙ্গে গণতান্ত্রিক শক্তি যোগ দেয় তবে সেটা ভালো লক্ষণ বলেই মনে করছেন চন্দনবাবু। যদিও তিনি কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেন কমিউনিস্টরা ক্রমশ ভোট সর্বস্ব পার্টি হয়ে ওঠায়। তাঁর মতে, ৩৪ বছর এ রাজ্যে ক্ষমতায় থাকার ফলে এমনটা হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ তুলে ফের চারু মজুমদারের কথায় এসেছেন কারণ চারু বাবু অনুভব করেছিলেন এই ভাবে ক্ষমতা দখল ক্ষণস্থায়ী। দেশের কৃষকদের অন্ধকারে রেখে শুধুমাত্র মধ্যবিত্তরা আন্দোলন করে দেশের গদি পাল্টাবে- এমনটা ভাবলে সেটা আসলে ভুল।

চন্দনবাবুর বক্তব্য, চারু মজুমদারের রাজনীতি, মতবাদ কিংবা নকশালপন্থাকে তিনি পছন্দ করেন না ঠিকই, কিন্তু আবার ওই মানুষটির লড়াই ও আত্মত্যাগকে অগ্রাহ্য করতে পারেন না। যখন এই নাটকটি লিখছিলেন তখন চন্দনবাবু আদৌ জানতেন না হঠাৎ দিল্লিতে এমনভাবে কৃষক বিদ্রোহ হবে। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে এমনটাই ঘটছে। আগামী দিনে‌ ঈশ্বর গুপ্ত এবং ইলা মিত্রের জীবনী নিয়ে নাটক লেখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।Kolkata 24 x7এর প্রতিনিধি সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলাপচারিতায় নাট্যকার তুলে ধরলেন তাঁর অভিমত ও ব্যক্তি জীবনের নানা কথা।

অতিমারীর এক বছর কেটে গেলেও অমানবিকতার ছবি আজও সামনে আসছে ।সচেতন ও মানবিক হওয়ার বার্তা দিচ্ছেন কারডিওলজিস্ট বিনায়ক দেব।

Back to top button