বিনোদন

কেমন কাটলো ববিতার ঈদ?

আগামবার্তা ডেস্ক : ত্যাগের মহিমায় সারাদেশে উদযাপিত হলো ঈদুল আজহা। ঘরে-ঘরে কোরবানি, আত্মিয়-স্বজনের আসা-যাওয়া, খাওয়া-দাওয়া নানা আয়োজেনের মধ্য দিয়ে পালিত হয় ঈদ। তবে বাংলাদেশের ৭০ দশেকের সেরা অভিনেত্রী ববিতার ঈদটা কেটেছে অন্যরকম। রাইজিংবিডির সৌজন্যে আগামবার্তাের পাঠকদের কাছে ববিতার আলাপচারিতা হুবহু তুলে ধরা হলো- ঈদ মানে আনন্দ। আর এই আনন্দটা শৈশবে বেশি হতো। ঈদে অনেক মজা করতাম। ছোটবেলার ঈদ মানেই ছিল ঈদি কালেকশন। এটাই ছিলো মেইন মজা। সকালবেলা নতুন জামা-কাপড় পরে আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় যেতাম। চাচা-চাচি, দাদা-দাদি, নানা-নানিদের কাছ থেকে ঈদি কালেকশন করতাম। আমরা চাচাতো ভাই-বোনেরা মিলে এটা করতাম। বড় হওয়ার পর এর পরিবর্তন হয়েছে। তখন আর সেলামি নেয়া হতো না, এখন উল্টো দিতে হয়। কোরবানির ঈদে গরুর হাটে গিয়ে গরু পছন্দ করতাম। আমাদের বড় একটা গাড়ি ছিল। কোরবানির ঈদে মুখ ঢেকে এই গাড়ি করে গরুর হাটে চলে যেতাম। হাটে গিয়ে গাড়ির মধ্যে বসে থাকতাম। ছেলেরা সুন্দর সুন্দর গরু পছন্দ করে আমাদের গাড়ির কাছে নিয়ে আসতো। আমরা গাড়ির মধ্যে বসে পছন্দ করে দিতাম। এ হাট ও হাট ঘুরে বেড়াতাম। আমরা তিন বোন এগুলো অনেক বছর করেছি। কিন্তু এখন আর এটা হয়ে উঠে না। সেই মনমানসিকতাও এখন আর নেই। তাছাড়া শরীরে এখন আর কুলায় না। কোরবানির দিন মোড়া নিয়ে বসে কাটাকাটি করতাম। গত বছর পর্যন্ত কাটাকাটির কাজ করেছি। বসে থেকে নাম লিখে লিখে গরিব-দুঃখীদের জন্য প্যাকেট করেছি। এইবার আর এটা করতে পারব না। বাইরে দিয়ে দিয়েছি। ওরা বিলি করে দিবে। এখন আর একা আমার পক্ষে এই আয়োজন করা সম্ভব হয় না। এবার একটু সমস্যা হয়ে গেছে। এই ঈদে আমাদের পরিবারের সবাই দেশের বাইরে। আমার বোন চম্পা বিদেশে, বড় আপা বিদেশে। ছেলে মেয়েরা বিদেশে। আমি এখন একা। এছাড়া সবাই ডেঙ্গু নিয়ে খুব আতঙ্কে আছি। বাচ্চাদের নিয়ে সতর্ক থাকতে হচ্ছে।

আরো পড়ুন:- ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে টেলিভিশনের আয়োজন

কোরবানির সময় রান্না করার অভিজ্ঞতা বেশ রয়েছে। কোরবানির মাংসটা খেতে অন্যরকম একটা স্বাদ হয়। ঈদের দিন ১০-১৫ কেজি মাংস একসঙ্গে রান্না করি। আল্লাহর অশেষ রহমতে এই মাংসটা বেশি মজা হয়, অন্য সময় এটা হয় না। এই মাংসগুলো কিছু জ্বালিয়ে পুরান করে করে ভাজা ভাজা করে খেতে খুব মজা লাগে। অনেকদিন ধরে খেতে খুব ভালো লাগে। আর একটা জিনিস প্রিয় তা হলো— ‘গরুর ওঝরি’ (গরুর ভুড়ি)। ওটা খুব সুন্দর করে নারকেলের দুধ নিয়ে রেসিপি করলে খুব মজা হয়। সুন্দর করে রান্না করলে কি যে মজা হয়! তা বলে বুঝাতে পারব না। আমরা এটা খুব পছন্দ করি। চম্পা-বড় আপা সবাই এটার খবর রাখতো। ফোন করে বলতো ওটা পাকিয়েছো? আমার জন্য রেখে দিও। একমাত্র কোরবানির সময় এই মজাগুলো করি। একটা ঘটনা মনে পড়ল। এক ঈদে ভারতে শুটিং পড়েছিল। শান্তি নিকেতনে সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ সিনেমার শুটিং হচ্ছিল। ঈদের দিন শুটিং করতে হয়েছে বলে খুব কেঁদেছিলাম। কারণ ঈদের দিন কত মজা করি আর সেদিন আমাকে শুটিং করতে হচ্ছে? এটা ভেবে ঈদের দিন খুব কেঁদেছিলাম। এরপর দেখলাম শুটিং ইউনিট এত সুন্দর আয়োজন করেছে যে, আমি খুশি হয়ে গিয়েছিলাম। সেই সন্ধ্যায় আমার জন্য বাবুর্চিকে বলে সেমাই রান্না করিয়েছিলেন। সন্দীপদা (সত্যজিতের পুত্র) বাজি ফুটিয়ে আমাকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন। এরপর আমার জন্য বেশ কিছু খাবার নিয়ে আসেন। আমি যেন কষ্ট না পাই সেই ব্যবস্থা তারা করেছিলেন। শুটিং ইউনিটে আমি একাই মুসলিম ছিলাম। সত্যি অবাক হয়েছিলাম। বড় পরিচালকের সব দিকে খেয়াল থাকে। চলচ্চিত্রে যখন ব্যস্ত ছিলাম। তখন প্রত্যেকেই আমরা যার যার বাড়িতে ছোট আকারে হোক বা বড় আকারে হোক আয়োজন করতাম। সেসময় রান্না করে দাওয়াত করতাম। বিশেষ করে রাজ্জাক ভাইসহ অনেককেই বলা হতো। ওনাদের বাড়িতেও দাওয়াত করতেন। তখন মাংস পাঠানোর এই প্রচলন ছিল। আমাদের সময় ঈদ মানেই আমাদের সিনেমা মুক্তি পেতো। সেসময় পরিবারের সবাই আমাদের সিনেমা দেখতে যেত। কোরবানির ঈদে একটু ধুমধারাক্কা হইহুল্লোর টাইপের সিনেমা পছন্দ করত দর্শক।

Leave a Reply

Back to top button
Close