Doctor Tips

কোভিড মোকাবিলায় দেশে রাতারাতি চাই ২ লাখ নার্স, দেড় লাখ ডাক্তার; কী ভাবে সম্ভব? বলছেন ড. দেবী শেঠী

: দেশের কোভিড পরিস্থিতিতে নতুন করে যে সঙ্কট তৈরি হয়েছে, ভারতের প্রখ্যাত হার্ট সার্জন ড. দেবী শেঠী তার মোকাবিলায় কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। ভারতের সেই কার্যক্ষমতা আছে বলে তিনি মনে  করেন, তাই তিনি আশাবাদী। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কোভিডের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে লড়াই করার জায়গায় পৌঁছে যাওয়াটা ভারতের পক্ষে শুধু সময়ের অপেক্ষা।
কী বলেছেন তিনি? 

পুণের Symbiosis Golden Jubilee Lecture Series-এর অংশ হিসেবে দেওয়া একটি সাম্প্রতিক লেকচারে 
দেশের অন্যতম  পেশেন্ট-ফ্রেন্ডলি এই প্রখ্যাত চিকিৎসক একগুচ্ছ সমাধান দিয়েছেন। সবটাই করতে হবে অত্যন্ত  দ্রুত। দেবী শেঠী ওই ভিডিয়ো কনফারেন্সে বলেন, প্রথমবার যখন কোভিড (Covid) এল তখন দেশে সব চেয়ে বড় সমস্যা ছিল PPE Kit আর হাসপাতালে ভেন্টিলেশনের সুবিধার অপ্রতুলতা। কিন্তু ভারত দ্রুত তা অতিক্রম করে ফেলেছিল। এবারে এল অক্সিজেন সঙ্কট। সেটাও ভারত অতিক্রম করে ফেলছে।
কিন্তু এখন অন্য একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। ICU-তেই রোগীরা মারা যাচ্ছেন। কেননা, সেখানে পর্যাপ্ত  সংখ্যক ডাক্তার নেই, নার্স নেই। কেন এমনটা ঘটছে? দেশে এখন তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ মানুষ কোভিড পজিটিভ হয়ে চিকিৎসাধীন। একজন কোভিড পজিটিভ থেকে অন্ততপক্ষে ৫-১০ আক্রান্ত হচ্ছেন, যাঁরা টেস্ট করাননি। তা হলে দেখা যাচ্ছে, ১৫-২০ লক্ষ মানুষ প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছেন। এঁদের যদি ট্রিটমেন্টের আওতায় আনতে হয়, তাহলে, বয়সের বিষয় বাদ দিলে, আমরা জানি, এর অন্ততপক্ষে ৫% শতাংশের আইসিইউ লাগবেই। সেই সংখ্যাটা দাঁড়াচ্ছে গড়ে ৮০,০০০টি নতুন আইসিইউ বেড! ভারতে এই মুহূর্তে প্রায় ৯০,০০০-এর মতো আইসিইউ বেড রয়েছে। যা রোগীতে পূর্ণ। কোভিড এ দেশে এবার এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছয়নি। এরপর আরও মানুষ আক্রান্ত হলে আরও রোগীকে আইসিইউতে ভর্তি করাতে হলে, সেটা কার্যত অসম্ভব হবে। কেননা, এক্ষুনি দেশে নতুন ৫ লাখ আইসিইউ বেড প্রয়োজন!

আরও পড়ুন: ‘দেশের মানুষ মরছে, আর হাত গুটিয়ে বসে আছেন আপনি’, কেন্দ্রকে কটাক্ষ দিল্লি হাইকোর্টের
আচ্ছা, বেড না হয় হল, কিন্তু তারপর? আমরা  জানি, বেড রোগীর দেখভাল করে না। রোগীর পরিচর্যা করেন নার্স, চিকিৎসা করেন ডাক্তার। তা হলে রাতারাতি বাড়তি আইসিইউ-র জন্য এত সংখ্যক নতুন নার্স-ডাক্তার কোথা থেকে আসবেন?
ড. শেঠী জানান, এমনিতেই দেশে মেডিক্যাল স্পেশালিস্টের ঘাটতি আছে। তার উপর এই সঙ্কট। তবে এই সঙ্কটেরও ড. শেঠী খুব চিন্তাশীল একটা সমাধান বের করেন। তিনি জানান, সংখ্যার দিক থেকে বলতে গেলে বলতে পারি, এই মুহূর্তে আমাদের দেশে ২ লাখ নার্স ও দেড় লাখ ডাক্তার দরকার। অন্তত এক বছরের জন্য। কী ভাবে সম্ভব? আমাদের এখন ২ লাখ ২০ হাজার নার্স আছেন যাঁরা এখনও শংসাপত্র পাননি। তাঁদের যদি ডেকে বলা হয়, তোমাদের এক্ষুনি শংসাপত্র জরুরি নয়, তোমরা এক বছর কোভিড ওয়ার্ডে কাজ করো। যাঁরা এটা করবেন, আগামী বছর সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে তাঁদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হোক। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল কাউন্সিল কি এরকম একটা সিদ্ধান্ত নেবে? একই ভাবে ডাক্তার-সমস্যারও সমাধান করা যায়। এখন দেশ জুড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ডাক্তার লাইব্রেরিতে বসে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।  তাঁরা PG করতে চান। এখন, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন যদি দ্রুত একটা অনলাইন এগজাম নিয়ে এঁদের মধ্যে যাঁরা যোগ্য তাঁদের PG-তে উত্তীর্ণ করিয়ে দিয়ে বাকি যে এক লাখ রইল তাঁদের ডেকে বলে, তোমরা কোভিড ওয়ার্ডে কাজ করো, তা হলে আগামী বছর তোমরা যখন ফের PG পরীক্ষায় বসবে তখন তোমাদের গ্রেস নাম্বার দেওয়া হবে, তা হলে বোধ হয়  সঙ্কটটা কিছুটা কাটিয়ে ওঠা যাবে। টিয়ার-২ মানের যে সরকাারি হাসপাতাল আছে, সেখানে এই নতুন ডাক্তার ও নার্সদের দিয়ে ভাল ভাবে কোভিডের চিকিৎসা করা যায়। 
আরও আছে। আমাদের হাতে এই মুহূর্তে PG পরীক্ষা না দিয়ে বসে থাকা PG-অভিলাষী ডাক্তার আছেন ২৫,০০০। তাঁদের যদি বলা যায়, তোমরা যদি পরের বছর পরীক্ষা না দিয়েই শংসাপত্র পেতে চাও, তবে একবছর কোভিড ওয়ার্ডে কাজ করো। এ ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ  থেকে পাস করা কত ডাক্তার আছেন! সংখ্যাটা এক লাখের মতো।  যদি এঁদের থেকে ভাল রেজাল্টওয়ালা ২০,০০০ জনকে বেছে নিয়ে কোভিডে ওয়ার্ডে কাজ করার শর্তে দ্রুত পার্মানেন্ট রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়, তবে তাঁদেরও পাওয়া যাবে।
ফলে, এই সবটা সরকারি হস্তক্ষেপে ঘটলে দেশে যে কোভিড-সঙ্কট দেখা দিয়েছে, তার থেকে ধীরে ধীরে রেহাই মিলবে।
আরও পড়ুন: এই কোভিড-টু’তে ঘরে বেশি করে ডিম মজুত করুন আর বানিয়ে নিন বিচিত্র এগ-ডিশ

Back to top button