Bangladesh

কোর্ট খুললেই এ টি এম আজহারের রিভিউ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম কোর্ট খুললেই রিভিউ (পুনবিবেচনা) আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
আপিল বিভাগের রায়ের রিভিউ আবেদন করার নির্ধারিত সময়সীমা গতকাল সোমবার শেষ হয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারনে এ সময় আদালতে ছুটি থাকায় আবেদন করা যায়নি। এ কারনে কোর্ট খুললেই আবেদন করা হবে বলে জানান আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

১৪টি যুক্তি দিয়ে রিভিউ আবেদন করার প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সময় শেষ হয়ে গেলেও আবেদন করা যায় কি না জানতে চাইলে এ আইনজীবী জানান, তামাদি আইনের সুযোগ নিয়ে এ আবেদন দাখিল করা হবে। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিন যেহেতু কোর্ট বন্ধ ছিল সেহেতু কোর্ট খুললে প্রথম দিনই আবেদন করার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে সহমত প্রকাশ করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, রিভিউ আবেদনের সময়সীমা ১৫ দিন। তবে এই ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন দাখিল করতে গিয়ে যদি দেখেন যে তা গ্রহণ করার মতো কেউ নেই, অর্থাৎ আদালত বন্ধ। তাহলে আদালত খোলার পর আবেদন দাখিল করার সুযোগ পাবেন।
আপিল বিভাগের রায় প্রকাশের পর থেকে রিভিউ করতে পরবর্তী ১৫ দিন সময় বেঁধে দেন আদালত। এ টি এম আজহারের ক্ষেত্রে এই ১৫ দিনের সময় গতকাল সোমবার ৩০ মার্চ শেষ হয়েছে।
করোনা ভাইরাসের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকেই সারাদেশের অফিস আদালত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। সে হিসেবে সুপ্রিমকোর্টসহ সারাদেশের আদালতে সাধারণ ছুটি শুরু হয়।
আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘আইন অনুযায়ী আসামি রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি পাবার দিন থেকে রিভিউয়ের জন্য দিন গণনা শুরু হবার কথা। কিন্তু আমরা আবেদন করলেও আজ পর্যন্ত প্রত্যায়িত অনুলিপি পাইনি। যদিও আমাদের অ্যাডভোকেট অন রেকর্ডকে একটি কপি দেওয়া হয়েছে গত ১৬ মার্চ। সেইদিনটি ধরেই ৩০ মার্চ হচ্ছে রিভিউ আবেদন করার শেষ দিন। এরইমধ্যে গত ২১ মার্চ এ টি এম আজহারুল ইসলাম আমাদের রিভিউ আবেদন করার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেভাবেই আমরা রিভিউ আবেদন প্রস্তুত করেছি।‘
১৪টি যুক্তিতে রিভিউ আবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এরমধ্যে অন্যতম যুক্তি হলো-আপিল বিভাগ সর্বসম্মতভাবে মৃত্যুদণ্ড দেয়নি। চার বিচারপতির মধ্যে তিনজন তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন। আর একজন বিচারপতি (কয়েকদিন আগে অবসরে যাওয়া বিচারপতি জিনাত আরা) তিনটি অভিযোগের মধ্যে দুটিতেই খালাস দিয়েছেন, আর একটিতে মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। সুতরাং যেসব অভিযোগ বিচারকের দৃষ্টিতেই সন্দেহজনক, তাতে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা সঠিক হবে না।’
মানবতাবিরোধী অপরাধে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর এক রায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আপিল করেন আজহার। এই আপিলের ওপর শুনানি শেষে গতবছর ৩১ অক্টোবর আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ সংখ্যা গরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল রাখেন। গত ১৫ মার্চ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। ওইদিনই এর কপি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। রায়ের কপি বিকেল ৫টার পর পৌঁছায় সেদিন পরোয়ানা কারাগারে পাঠানো যায়নি। এরপর পরোয়ানা প্রস্তুত করে ১৬ মার্চ ট্রাইব্যুনাল এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে মৃত্যুপরোয়ানা জারি করে। লাল কাপড়ে মুড়িয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। সেখান থেকে পরোয়ানা পাঠানো হয় কাশিপুর কারাগারে। সেখানেই বন্দী এ টি এম আজহারুল ইসলাম। সেখানে তা পৌছার পর তাকে মৃত্যুপরোয়ানা পড়ে শোনানো হয়।
এ মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশে ২০১২ সালের ২২ আগস্ট এটিএম আজহারকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকেই তিনি কারাবন্দি রয়েছেন।
সারাবাংলা/এজেডকে/এমআই

সূত্রঃ সারাবাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close