International

‘খেলা হবে’, গেমের মাধ্যমেই বাঁচবে বণ্যপ্রাণ

নিউইয়র্ক : আপনি পাবজি খেলেন। লড়াই করেন কখনও একা কখনও দলে। তারপর গুলি করে মেরে যুদ্ধ জেতেন। কিন্তু গেম খেলে কোনওদিন প্রাণী বাঁচিয়েছেন? সেটাও সম্ভব হবে এবার মোবাইল গেমের মধ্যে। এমনটাই করছে ওয়াইল্ড চেন নামে একটি সংস্থা। তারা বলছেন, প্রাণী দত্তক নেওয়ার কথা। বলছেন বৃক্ষ রোপণ করতে এবং এটার মাধ্যমেই আবার এমন সব গাছ, প্রাণী সংরক্ষণ করা যাবে। সংস্থা বলছে এটি ঠিক ঠাক ভাবে এগোলে ‘ডিজিটাল স্যাঙ্কচুয়ারি’ হয়ে যেতে পারে। কীভাবে? সংস্থার থেকে জানা যাচ্ছে, ‘এই গেমে যদি গাছ, প্রাণী সংরক্ষণ করা যায় তাহলে সরাসরি প্রকৃতিতেও সেই কাজ হবে।’ আউটডোরে এই কাজ করবে গেম তৈরি করা সংস্থা।

জানা যাচ্ছে বিশ্বে ৩৫ হাজার প্রজাতি প্রায় শেষ হওয়ার মুখে। ‘ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কন্সারভেশন অফ নেচার’ এমনটাই জানা যাচ্ছে। কীভাবে হবে এই কাজ? সংস্থা জানাচ্ছে খেলার শুরুতেই একটি ডিম দেওয়া হবে। তারপর খেলোয়াড় নিজের ইচ্ছামতো একটি প্রাণীকে বেছে নিয়ে ওই ডিম প্রাণীর জন্য সংরক্ষণ করবে। এরপর সঙ্গে সঙ্গে তথ্য চলে আসবে জে প্রকৃতিতে এই মুহূর্তে এতগুলি চিতা বা হাতি রয়েছে। খেলোয়াড়কে এবার তার নিজের বেছে নেওয়া প্রাণীর জন্য সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সে যেখানে যত গাছ ডিজিটালি রোপণ করবে বা খাবার স্থান তৈরি করবে ঠিক সেভাবেই ফিল্ডে কাজ করবে ওই সংস্থা। আপাতত এই গেম রয়েছে ফান্ডিং প্রসেসিংয়ে। যত ভালো ফান্ডিং হবে তত ভালো প্রাণী সংরক্ষণ ও গাছ বসানোর কাজও বেশি করে হবে। আর সেই কাজ করবে ওই গেম তৈরি করা সংস্থা। এর মাধ্যমে বন্য প্রাণীকে তার নির্দিষ্ট ভালো জায়গা বানিয়ে তার সুন্দর ভাবে বাঁচার পথ দেখাবে এই গেম।

প্রসঙ্গত , ভারত তার প্রাণীজগৎ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য পৃথিবীখ্যাত। মুষ্টিমেয় কিছু গৃহপালিত পশু যেমন গোরু, মহিষ, ছাগল, মুরগি, এবং ব্যাক্ট্রিয়ান ও ড্রোমেডারি উট ছাড়াও ভারতে বহু ধরনের প্রাণী বসবাস করে। এখানে বসবাস করে বেঙ্গল ও ইন্দোচীন বাঘ, এশীয় সিংহ, ভারতীয় ও ইন্দোচীন চিতা, তুষার চিতা, মেঘলা চিতা, হরিণের বিভিন্ন জাত, যেমন চিত্রা, হাঙ্গুল, বারশিঙ্গা; ভারতীয় হাতি, ভারতীয় গণ্ডার, এবং আরও অনেক। এলাকাটির সমৃদ্ধ এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ বণ্যপ্রাণী ১২০+ জাতীয় উদ্যানে, ১৮ বায়োস্ফিয়ার সংরক্ষণে এবং ৫০০+ বণ্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে সংরক্ষিত আছে। ভারতে পৃথিবীর সবচেয়ে জীববৈচিত্র্যপূর্ণ এলাকা গুলির একটি আছে এবং এখানে পৃথিবীর ৩৬টি জীববৈচিত্র্য হটস্পট – বা ধনভাণ্ডার গুলির ৪টি আছে – সেগুলি হল পশ্চিমঘাট পর্বতমালা, পূর্ব হিমালয়, ইন্দো-বার্মা ও সুন্ডা ল্যান্ড। যেহেতু ভারতে বহু দুর্লভ ও বিপন্ন প্রজাতি বসবাস করে, সেইহেতু এই প্রাণী গুলির সংরক্ষণের জন্য বণ্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা কার্যকর। ভারত ১৭টি বিশালবিবিধ দেশগুলির একটি। একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারত ও অন্য ১৬টি বিশালবিবিধ দেশে একত্র ভাবে পৃথিবীর প্রায় ৬০-৭০% জীববৈচিত্র্য আছে। ভারতে, যা ইন্দোমালয় এলাকার একটি অংশ, বাস করে ৭.৬% স্তন্যপায়ী, ১২.৬% পক্ষী, ৬.২% সরীসৃপ, এবং ৬.০% সপুষ্পক উদ্ভিদের প্রজাতি।

বহু ভারতীয় প্রজাতির পূর্বপুরুষ টাক্সন যার উৎপত্তি গন্ডোয়ানাল্যান্ডে, যার অন্তর্গত আসলে ভারত ছিল। উপদ্বীপীয় ভারতের লরেশিয়ার প্রতি গমন ও ধাক্কা প্রজাতিতে বিশাল বদল এনেছিল। যদিও, ২ কোটি বছর আগে আগ্নেয়প্র্রক্রিয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বহু ভারতীয় স্থানীয় ধরনের বিলুপ্তি ঘটালো। তারপর দ্রুত, ভারতে স্তন্যপায়ীরা ঢুকে পড়ল এশিয়া থেকে, উদীয়মান হিমালয়ের দুই দিকের প্রাণীভুগোলিক গিরিপথ দিয়ে। ফলস্বরূপ, ভারতীয় প্রজাতিগুলির মধ্যে, মাত্র ১২.৬% স্তন্যপায়ী এবং ৪.৫% পাখিই স্থানীয়, ৪৫.৮% সরীসৃপ এবং ৫৫.৮% উভচরের সঙ্গে। উল্লেখযোগ্য স্থানীয়রা হচ্ছে নীলগিরি লেঙ্গুর এবং পশ্চিমঘাটের খয়েরি ও গাঢ় লাল বেড ডোমস্‌ টোড বা কচ্ছপ। ভারতে বাস করে আইইউসিএন-চিহ্নিত বিপন্ন প্রাণীগুলির মধ্যে ১৭২টি প্রাণী, অর্থাৎ ২.৯%। এগুলির অন্তর্গত এশীয় হাতি, এশীয় সিংহ, বেঙ্গল টাইগার, ভারতীয় গণ্ডার, স্বাদুপানির কুমির, এবং ভারতীয় হোয়াইট-রাম্পড্‌ শকুন, যা একটি প্রায়-বিলুপ্তি ভুগেছিল এবং আইইউসিএন লাল তালিকায় ২০০০ সাল থেকে আছে।

সাম্প্রতিক দশকগুলিতে, মানব আক্রমণ ভারতের বণ্যপ্রাণীর বিরাট ক্ষতি করেছে; সমাধানে, জাতীয় উদ্যান ও সংরক্ষিত এলাকার রীতি, ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রতিষ্ঠিত, সম্প্রসারিত করা হয়েছিল। ১৯৭২ সালে, ভারত কার্যকর করল বণ্যপ্রাণী সুরক্ষা আইন ও ব্যাঘ্র প্রকল্প অতি গুরুত্বপূর্ণ আবাস রক্ষা করতে; আরও ফেডারেল সুরক্ষা ৮০’র দশকে সালে কার্যকর হয়। ৫৪৩টি অভয়ারণ্যের পাশাপাশি, এখন ভারতে ১৮টি বায়োস্ফেয়ার সংরক্ষণ আছে, যার ১০টি আন্তর্জাতিক বায়স্ফেয়ার সংরক্ষণের নেটওয়ার্কের অংশ; ২৬টি জলাভূমি রামসার কনভেনশানে নিবন্ধভুক্ত।

মহেঞ্জো দারোর সিলমোহরগুলিতে প্রদর্শিত, অশ্বত্থ গাছটি, গৌতম বুদ্ধকে ছায়া প্রদান করেছিল যখন তিনি বিশেষ জ্ঞানলাভ করেন। ভারতের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ও বণ্যপ্রাণী এলাকার সংস্কৃতিতে স্পষ্ট প্রভাব রেখেছে। শব্দটি রুডইয়ার্ড কিপলিং-এর দ্য জাংগল বুক-এও খ্যাত করা হয়েছে। ভারতের বণ্যপ্রাণী আরও অনেক গল্প এবং উপকথার বিষয় হয়েছে যেমন পঞ্চতন্ত্র।

লাল-নীল-গেরুয়া…! ‘রঙ’ ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা ‘খাচ্ছে’? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম ‘সংবাদ’!

‘ব্রেকিং’ আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের।

কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে ‘রঙ’ লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে ‘ফেক’ তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই ‘ফ্রি’ নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.
হ্যাঁ, আমি অনুদান করতে ইচ্ছুক >

জীবে প্রেম কি আদৌ থাকছে? কথা বলবেন বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ অর্ক সরকার I।

Back to top button