আন্তর্জাতিক

গনমাধ্যমের কন্ঠরোধকারি ১০ দেশের তালিকা সিপিজে’র

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক থেকে : বিশ্বে মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বেশী কালাকানুন জারি রয়েছে ইরিত্রিয়ায়। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে নর্থ কোরিয়া এবং তুর্কেমিনিস্তান। এসব দেশে গণমাধ্যমের ওপর সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সরকারের সমালোচনার আভাস পেলেই সংশ্লিষ্ট পত্রিকা/সাংবাদিককে গ্রেফতারের ঘটনা ঘটে। এমনকি অনলাইন পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও এমন বর্বরতার বাইরে নেই।

বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের হাল-হকিকত আলোকে সরেজমিনে অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস’ তথা সিপিজে ১০ সেপ্টেম্বর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। এ তালিকায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বিরাজ করছে এমন ১০ দেশের নাম চিহ্নিত করা হয়। অপর ৭ দেশ হচ্ছে সৌদি আরব, চীন, ভিয়েতনাম, ইরান, ইক্যুয়াটরিয়াল গীনি, বেলারোস এবং কিউবা। মতপ্রকাশে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যে আইন রয়েছে তা কোনভাবেই মানছে না এসব দেশ। এসব দেশে রাষ্ট্র পরিচালিত সংস্থার খবরাখবর প্রকাশ করতে হয়। যারা এ রীতি মানে না তাদেরকে জেলে নেয়া হয় অথবা দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়। এসব কারণে প্রায় সকলেই সরকারের অনুগত সাংবাদিকতা করতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকেই নিজে থেকেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন গণমাধ্যমের প্রচার ও প্রকাশনা অব্যাহত রাখার স্বার্থে।

সারাবিশ্বের পেশাদার সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে আপসহীন ‘সিপিজে’ উল্লেখ করেছে, সিরিয়া, ইয়েমেন এবং সোমালিয়াতেও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবেশ নেই। তবে সেখানে সরকারের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ নেই। সে সব দেশে সামাজিক-রাজনৈতিক-আঞ্চলিক ইস্যুতে দাঙ্গা-হাঙ্গামা চরমে উঠায় সাংবাদিকরাও ঠিকমত কাজ করতে সক্ষম হচ্ছেন না। জঙ্গিবাদে বিশ্বাসীরাও ছাড় দিতে চাচ্ছে না তাদের সমালোচনামূলক সংবাদ-প্রবন্ধ-নিবন্ধ লেখকদের।

সিপিজের নির্বাহী পরিচালক জুয়েল সাইমন এ প্রসঙ্গে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইন্টারনেটের প্রসার ঘটায় সবকিছুতেই অবাধ স্বাধীনতা আসা উচিত ছিল। বাস্তবে ঘটেছে তার উল্টো। যেসব দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হয়েছে বলে আমরা দেখছি,সেগুলোতে ইন্টারনেটও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছে। এসব দেশের প্রশাসন তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে মান্ধাতা আমলের বর্বরতা চালাচ্ছে। গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের অন্যতম হাতিয়ারে পরিণত করা হয়েছে সর্বাধুনিক এই প্রযুক্তিকে।

Leave a Reply

Back to top button
Close