International

চিন থেকে আসছে ‘ডিফেকটিভ’ মাস্ক, কিট, বাতিল করছে ইউরোপের একাধিক দেশ

বার্লিন: আগেই অভিযোগ জানিয়েছিল স্পেন। আর এবার অভিযোগ উঠতে শুরু করল একের পর এক দেশ থেকে। ডিফেকটিক জিনিস আসছে চিন থেকে। ইউরোপের একাধিক দেশ থেকে সেসব জিনিস ফেরত পাঠানো হল।
হাজার হাজার মাস্ক, কিট ঠিক নেই বলে জানিয়েছে ওইসব দেশগুলি। অভিযোগ তুলেছে স্পেন, তুরষ্ক ও নেদারল্যান্ড। ইউরোপে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এই ভাইরাসে। ইতালিতেই মৃত্যু হয়েছে ১০,০০০ মানুষের।
শনিবার জার্মান স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে সেখানে ৬ লক্ষ ফেস মাস্ক এসেছিল। ২১ মার্চ চিনা সংস্থার তৈরি সেসব মাস্ক আসে। কিন্তু, সেখানকার লোকজন জানিয়েছেন যে মাস্কগুলি মুখে ফিট করছে না, ফিল্টারও ঠিকঠাক নয়। ফলে বাকি জিনিসগুলি দিতে বারণ করা হয়েছে।
একই অভিযোগ করেছে স্পেন। সাড়ে তিন লক্ষ কিট ঠিকভাবে কাজ করলেও টেস্ট কিট কাজ করছে না বলে জানানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে, চিন থেকে যেসব টেস্ট কিট কিনেছিল স্পেন সেগুলি খুব একটা ভালো নয়। করোনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে ওইসব কিট ঠিকঠাক রেজাল্ট দিচ্ছে না বলে অভিযোগ। এইসব কিটের ফলাফল নাকি মাত্র ৩০% সঠিক। চিনের স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফ থেকে একথা জানানো হয়েছে।
চিনা সংস্থা ‘শেনজেন বায়োইজি’ থেকে এইসব টেস্ট কিট কেনা হয়েছিল। সেগুলির মান একেবারে ভাল নয়। হাসপাতালে যখন এইসব টেস্ট কিট দিয়ে রোগীদের পরীক্ষা করা হয়েছে, তখন তাতে ঠিকঠাক ফলাফল আসেনি। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সালভাডর ইলা জানান, চিন থেকে ৪৬৭ মিলিয়ন ডলারের চিকিৎসা সামগ্রী কেনা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ৯৫০ টি ভেন্টিলেটর, ৫৫ লক্ষ টেস্ট কিট, ১ কোটি ১০ লক্ষ গ্লাভস ও কয়েক কোটি ফেস মাস্ক।

যদিও স্পেনের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে ওই চিনা সংস্থা। তাদের দাবি নমুনা সঠিকভাবে নেওয়া হয়নি অথবা কিট সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়নি বলেই ফলাফল ভুল এসেছে। তারা ওইসব কিট পাল্টে দেবে বলেও জানিয়েছে।
চলতি সপ্তাহে চার হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে স্পেনে, মৃতের সংখ্যা ছাপিয়ে গিয়েছে চিনকেও। আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ হাজারের বেশি মানুষ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন আমেরিকার সঙ্গে প্রতিযোগিতা নেমেই নিজেদের চিকিৎসা সামগ্রী এভাবে বিক্রি করছে চিন। কঠিন পরিস্থিতিতে আমেরিকার সঙ্গী হিসেবে পরিচিত স্পেন, ইতালি, ফ্রান্সকে চিনের কাছেই হাত পাততে হয়েছে সাহায্যের জন্য।
ফরেন আফেয়ারস এক্সপার্ট গর্ডন চ্যাং লেন, চিন নিজেই তৈরি করেছে বিষ, আর সেটাকেই বিক্রি করে সমাধান দিচ্ছে। এমনকি অভিযোগ, এই ভাইরাসের দায় আমেরিকার দিকেও ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে চিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close