offbeat news

জাতির জনক গান্ধীজী, তবু সুভাষকেই রাষ্ট্রনেতা মেনেছিলেন বিশ্বকবি

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : নেতাজীকে নিয়ে রাজনীতির শেষ নেই। সময়ান্তরে তা নানা রূপ নিয়েছে। একসময় বামেরা তাঁকে অপমান করেছে, এখন তাঁকে সম্মান দেওয়া নিয়ে নিজেদের জায়গা পাওয়ার চেষ্টা করে। বিজেপি সরকার তাঁর নামে ট্রেন করে , এমনকি ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের নামটাও তাঁর নামাঙ্কিত করার পরিকল্পনা করছে। রাজ্য সরকার এর মাঝে আবার তাঁর নামে বাস টার্মিনাস বানাচ্ছে। নেতাজীর জন্মদিন কী নামে পরিচিতি হবে তা নিয়েও টানাটানি চলছে বিস্তর। বলা যায় রাজনীতির নোংরা খেলা চলছে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুকে নিয়ে। কিন্তু বিশ্বকবি তাঁকে রাষ্ট্রনেতা মেনেছিলেন অনেক আগেই। গান্ধীজী ফাদার অফ নেশন হলেও। বিশ্বকবির উক্তি , ভাবনা অন্য এক বিতর্ককে উস্কে দিতেই পারে। সুভাষকে রাষ্ট্রনেতা মেনে নেওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলেছিলেন রবীন্দ্রনাথ, তাও আজকের দিনেই অর্থাৎ ২১ জানুয়ারি।

সালটা ১৯৩৯। তখন কংগ্রেস রাষ্ট্রপতি সুভাষ। তিনি গিয়েছেন শান্তিনিকেতনে। উদ্দেশ্য কবিগুরুর দর্শন। সেখানে সুভাষচন্দ্র বসুকে বিপুল সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেই অনুষ্ঠানেই এই কথা বলেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আম্রকুজ্ঞের ওই অনুষ্ঠানে সুভাষকে অভ্যর্থনা জানিয়ে কবিগুরু বলেন, ‘কল্যাণীয় সুভাষচন্দ্র, সমস্ত দেশে যে অভ্যর্থনার ভিতর দিয়ে তুমি এসেছো, আমাদের দেশ তোমাকে যে আসন দিয়েছে সেই আসনের বার্তা রয়েছে ঋষিদের পবিত্র বাণীর ভিতরে। তাদের বাণীতে তুমি পেয়েছো তোমার আসন। আমরা সুখী হয়েছি আজ তোমাকে এখানে পেয়ে। আমার সুখী হবার একটা কারণ হচ্ছে এই – এই সুযোগে তুমি আমার পরিচয় পাবে। বাণীর সাধনায় আমার সিদ্ধি সম্বন্ধে অনেক কথা শুনেছ। কিন্তু তোমার দৃষ্টিতে পড়বে -তুমি যদি এসে দেখ, এই কর্মক্ষেত্র আমার পরিচয়। তোমাকে আমি রাষ্ট্রনেতারূপে স্বীকার করেছি মনে মনে।’ একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার সংকল্প আছে জনতার মধ্যে আমার সেই বাণী প্রকাশ করব।’

কবিগুরুর এই সংবর্ধনার উত্তরে সুভাষচন্দ্র বলেছিলেন, ‘গুরুদেব, আপনার অখন্ড সাধনা, মহত্ত্ব ও গৌরব উপলব্ধি করতে পারব সে দূরাকাঙ্ক্ষা আমি করি না । সে উপলব্ধি যখন আসে একদিনে আসে না। সে উপলব্ধি হচ্ছে ক্রমিক ও সারা জীবনব্যাপী। তবে আমার মনেহয় যদি আমরা চলার পথেঘাটে থাকি তাহলে সে উপলব্ধি ক্রমশ প্রসার লাভ করবে। আপনি শুধু জাতিকে, শুধু জাতিকে কেন , সমগ্র মানবসমজকে আদর্শের পথ দেখিয়েছেন – শুধু দেখিয়েছেন তা নয় মানুষকে সেই পথে চালাবার চেষ্টা করি এসেছেন। আমরা এইটুকু আপনার চরণে নিবেদন করতে চাই – এই আদর্শ আমাদেরও জীবনের আদর্শ। আমরা আমাদের জীবনে তার সফল করতে পারি বা নয়া পারি সেই আদর্শ কে আমরা অন্তরে রেখেছি, বাইরে রেখেছি এবং সেই আদর্শ অনুকরণ করতে চেষ্টা করছি, ভভবিষ্যতেও করবো।’

কবিগুরু এও সুভাষচন্দ্র কে বলেছিলেন ‘সুভাষচন্দ্র, বাঙালি কবি আমি, বাংলাদেশের হয়ে তোমাকে দেশনায়কের পদে বরণ করি। তরুণ বীরের বেশে তুমি করবে বিশ্বজয়। তুমিই দেশনায়ক’

তথ্যসূত্র : ‘পশ্চিমবঙ্গ-নেতাজি সংখ্যা ১৪০৩, রবীন্দ্র -সান্নিধ্যে সুভাষ’

লাল-নীল-গেরুয়া…! ‘রঙ’ ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা ‘খাচ্ছে’? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম ‘সংবাদ’!

‘ব্রেকিং’ আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের।

কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে ‘রঙ’ লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে ‘ফেক’ তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই ‘ফ্রি’ নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.
হ্যাঁ, আমি অনুদান করতে ইচ্ছুক >

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।

Back to top button