International

জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার হবে, অ্যাপ ব্লক করা নিয়ে ভারতের পাশে আমেরিকা

ওয়াশিংটন : রাতারাতি ৫৯টি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কার্যত সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছে ভারত। মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে ভারতের পাশে দাঁড়াল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। স্টেট সেক্রেটারি মাইক পম্পেও বুধবার ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন।
পয়লা জুলাই হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পম্পেও বলেন বারতের এই চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সঠিক। ভারতের জাতীয় স্বার্থ ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘটনাকে আমেরিকা সমর্থন করে। তিনি জানিয়েছেন, এর ফলে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা আরও জোরদার হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও একই দাবি উঠেছে। মার্কিন কংগ্রেসের অনেক সদস্যই টিকটক নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, এই শর্ট ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ দেশের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক। রিপাবলিকান সেনেটর জন করনিন বলেছেন, ‘(লাদাখে) রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর টিকটক সহ বেশ কয়েকটি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে ভারত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও একই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’ অপর এক রিপাবলিকান সেনেটর রিক ক্রফোর্ড বলেছেন, ‘টিকটক অবশ্যই নিষিদ্ধ করা উচিত। আগেই এটি নিষিদ্ধ করা উচিত ছিল।’
এদিকে, গত কয়েক বছর আগে চিনের সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ওয়েইবোতে অ্যাকাউন্ট খোলেন প্রধানমন্ত্রী। মূলত ভারত এবং চিনের মধ্যে সম্পর্ককে আরও মজবুত রাখতেই খোলা হয় এই অ্যাকাউন্ট। শুধু তাই নয়, বন্ধুত্বের বার্তা দিতে চিনের ভাষাতেই একাধিক পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
তবে বুধবার সেই অ্যাকাউন্ট নিজের হাতে মুছে ফেলেছেন মোদী বলে খবর। সরিয়ে নিয়েছেন প্রোফাইল পিকচার, কোনও ছবি বা তথ্যও সেখানে আর দেওয়া নেই। অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করার প্রাথমিক ধাপ এটাই। সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এর আগে, ২৯শে জুন একধাক্কায় ৫৯ টা চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে ভারত। এরপরই এই ইস্যুতে পূর্ণ বিবৃতি দেয় ভারত সরকার। আর সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, এইসব অ্যাপের ডেটা গিয়ে জমা হত ভারতের বাইরে থাকা কোনও সার্ভারে। সেইসব সার্ভার চিনে রয়েছে বলেই জানা যায়। তাই এইসব অ্যাপ ভারতের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠছিল বলে অভিযোগ।

ইতিমধ্যেই বহু মানুষ এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়ে ছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে দেওয়া বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে এই বিষয়টিকে। আর তার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার। এমনটাই জানা গিয়েছে।
অনেকে বলছেন, মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্ত চিনের সাইবার দুনিয়ার উপর কার্যত ডিজিটাল স্ট্রাইক। এই সিদ্ধান্তে খুশি দেশের মানুষ। কার্যত চিনকে উচিৎ শিক্ষা বলেও মন্তব্য অনেকের। প্রসঙ্গত, লাদাখে গালওয়ান ভ্যালিতে চিনা হামলার পর থেকেই চিনা দ্রব্য বয়কট করার পক্ষে সওয়াল করেছিল ভারতের মানুষ।
এর মধ্যে সবার উপরে রয়েছে জনপ্রিয় অ্যাপ টিক টক। যে অ্যাপের মাধ্যমে ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেন বহু মোবাইল ব্যাবহারকারী। আর সেটি একটি চিনা অ্যাপ। তাই লক্ষ লক্ষ সাবস্ক্রাইবার থাকা সত্বেও নিষিদ্ধ করে দেওয়া হল সেই অ্যাপ। এছাড়াও রয়েছে আরও অনেক জনপ্রিয় অ্যাপ।

কলকাতার ‘গলি বয়’-এর বিশ্ব জয়ের গল্প

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close