Economy

ট্যাক্স জটিলতায় আটকে আছে সোনা আমদানি

জানুয়ারি ৮, ২০২০ | ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ শেখ জাহিদুজ্জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ঢাকা: সোনা আমদানির জন্য একমাস আগে ১টি ব্যাংকসহ ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠান আমদানির জন্য আবেদন করলেও শুল্ক (আমদানির ক্ষেত্রে বিশেষ ট্যাক্স) জটিলতায় তা আটকে আছে। সোনা আমদানির শুল্ক প্রাথমিকভাবে ৫ শতাংশের কথা বলা হলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নতুন ভ্যাট আইনে আসলে তা ১৫ শতাংশ। এর সঙ্গে আছে আরও ৫ শতাংশ ট্রেড ভ্যাট। এত ট্যাক্স দিয়ে সোনা আমদানি করলে তা ভরিতে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। আর এই আশঙ্কা থেকেই লাইসেন্স নিয়েও আমদানিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বিজ্ঞাপন বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি (বাজুস) বলছে, সোনা আমদানি করতে তাদের ৫ শতাংশ শুল্কের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আমদানি করতে গিয়ে তারা দেখছেন এটি আসলে ১৫ শতাংশ। এই পরিমাণ ভ্যাট দিতে গেলে অতিরিক্ত গুনতে হবে ৭ হাজার ৫শ টাকা, ৫ শতাংশ অ্যাডভান্স ট্রেড (এআইটি) ২ হাজার ৫শ টাকা ও ২ হাজার টাকা শুল্ক। মোট ১২ হাজার টাকা। অথচ যারা ব্যাগেজ সুবিধায় ২০ ভরি সোনা আনতে পারেন তাদের ট্যাক্স দিতে হয় ভরিতে মাত্র ২ হাজার টাকা। এছাড়া আমদানি শুল্ক কিভাবে ১৫ শতাংশ হলো তাও তারা জানেন না। এই জটিলতা সমাধানে এরইমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে কয়েক দফা চিঠিও দিয়েছে বাজুস। তবে সবমিলিয়ে পণ্যটি আমদানিতে আরও প্রায় ১ মাস সময় লাগবে বলে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। ২০১৮ সালের অক্টোবরে সোনা নীতিমালার অনুমোদন দেওয়া হয় মন্ত্রিসভায়। গত বছরের ১১ মার্চ সোনা আমদানির জন্য আবেদন আহ্বান করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন জমা নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর গত বছরের ১ ডিসেম্বর ১টি ব্যাংকসহ ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে সোনা আমদানির জন্য লাইসেন্স দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সোনা আমদানি করতে লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড, জুয়েলারি হাউস, রতনা গোল্ড, অরোসা গোল্ড করপোরেশন, আমিন জুয়েলার্স, স্রেজা গোল্ড প্যালেস, জরোয়া হাউস লিমিটেড, মিলন বাজার, এসকিউ ট্রেডিং, এমকে ইন্টারন্যাশনাল, বুরাক কমোডিটিস এক্সচেঞ্জ, গোল্ডেন ওয়ার্ল্ড জুয়েলার্স, রিয়া জুয়েলার্স, লক্ষ্মী জুয়েলার্স, বিডেক্স গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ড, ডি ডামাস, দি আর্ট অব গ্যালারি ও মধুমতি ব্যাংক। অভিযোগ রয়েছে, দেশে যে পরিমাণ সোনার চাহিদা রয়েছে তার বড় একটি অংশ আসে চোরাই পথে। আর চোরাই পথে আসা সোনা প্রতিনিয়ত কাস্টমসসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করে চলেছে। সর্বশেষ গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৬৪০ পিস (৬৪ কেজি) সোনা উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টম হাউজ। সেই সময়ের এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ সোনার বড় চালান আটক করা হলো। এ আমি উদ্বিগ্ন ও বিচলিত। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যেগুলো ধরা হয় তাছাড়াও আরও যে আসছে না এটা বলা যাচ্ছে না। আমাদের আরেকটি উদ্বেগের কারণ হলো, সোনা চোরাচালানের রুট হিসেবে বাংলাদেশ ব্যবহার হচ্ছে। এসব সোনা যে সবই কাজে লাগছে তাও নয়। হয়তো বাইরেও কোথাও চলে যাচ্ছে। আমরা পলিসি করে আমদানি সহজ করে দিয়েছি। বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্সও দিয়েছে। আমরা কাস্টম ডিউটিও কমিয়ে দিয়েছি। এরপরও চোরাচালানের ঘটনায় উল্টো প্রশ্ন রাখেন তিনি। আমদানি জটিলতা নিয়ে কথা হয় বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড এর মালিক দিলীপ কুমার আগরওয়ালের সাথে। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানও সোনা আমদানির লাইসেন্স পেয়েছে। আমরা জানতাম সোনা আমদানিতে ভরি প্রতি ট্যাক্স ২ হাজার টাকা। যখন আমরা এলসি করতে গেলাম তখন দেখি ভরি প্রতি ১২ হাজার টাকা ট্যাক্স পড়ছে। এ বিষয়ে এনবিআরকে ৩টি চিঠি দিয়েছি, ৮দিন মিটিং করেছি। বিষয়টির দ্রুত সুরাহা হলে আমরা আমদানি করতে পারব। যারা ব্যাগেজে সোনা আনছেন তাদের ট্যাক্স দিতে হয় ভরিতে ২ হাজার টাকা আর যারা আমদানি করবেন তাদের যদি ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হয় তাহলে আমরা কেন সোনা আমদানি করব? আমরা বিষয়টি সমাধানে অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংককেও চিঠি দিয়েছি। আমরা চিঠি দিতে পারি আলোচনা করতে পারি কিন্তু বাকি কাজটা সংশ্লিষ্টদেরই করতে হবে। আগরওয়ালের আরও বলেন, সোনার দাম প্রতি মুহুর্তে উঠা নামা করে। বর্তমানে সোনার ভরি ৬০ হাজার টাকার ওপরে। সোনা আমদানিতে এখন যে ভ্যাট রয়েছে সেটি দিয়ে আমদানি করলে ভরিতে পড়বে ৯০ হাজার টাকা। সবকিছু মাথায় রাখতে হবে। একটি নীতিমালা করতেই ৪৭ বছর লেগে গেছে। ১ বছর লেগেছে সোনা কর মেলা করতে। ৮ মাস লেগেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিলারশিপ দিতে। এখনো মাস খানেক সময় লাগবে সোনা আমদানি করতে। আর ট্যাক্সের পরিমাণটা একটা জায়গায় এনে তারপর সোনা আমদানি করা হবে। সোনা আমদানি করতে আমাদের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই। করমেলায় সরকারকে যেমন ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব দিতে পেরেছি। একইভাবে খুব দ্রুত ট্যাক্স রেট ঠিক করে সোনা আমদানির রাজস্বও সরকারকে দেওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে এনবিআরের সদস্য (শুল্ক নীতি ও আইসিটি) সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া সারাবাংলাকে বলেন, আমরা বাজুসের পক্ষ থেকে চিঠি পেয়েছি। বিষয়টি সমাধানে দ্রুত কাজ চলছে। আশা করছি খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বিজ্ঞাপন সারাবাংলা/এসজে/জেএএম
সূত্রঃ সারাবাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close