International

ডাক্তারি পরীক্ষা বলছে ফ্লয়েডকে খুন করেছে পুলিশ

ওয়াশিংটন: ডাক্তারি পরীক্ষায় উঠে এলো পুলিশই জর্জ ফ্লয়েডকে খুন করেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ ফ্লয়েডের মৃত্যু ঘিরে আগুন জ্বলছে মার্কিন মুলুক। এবারএই মৃত্যুর ব্যাপারে ডাক্তারি রিপোর্ট এসেছে। যাতে বলা হয়েছে, এটা নরহত্যা ছাড়া আর কিছু নয়। পুলিশ হাটু দিয়ে ফ্লয়েডের গলা চেপে ধরেছিল। ফলে শ্বাস প্রশ্বাস নিতে পারছিল না সে। তারই জেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু ঘটে। এটা সর্বৈব একটা খুনের ঘটনা।
তাছাড়া ফ্লয়েড হৃদরোগজনিত সমস্যায় ভুগছিল এবং শরীরে মেথাম্ফেটামাইন ওষুধ ছিল বলে ওই ডাক্তারি রিপোর্ট জানিয়েছে। তবে খুন বলা হলেও সেটা ইচ্ছাকৃত নাকি অনিচ্ছাকৃত সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। গত ২৫ মে মিনিয়াপোলিসে শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড নির্মমভাবে নিহত হন।চেক জালিয়াতির অভিযোগে ফ্লয়েডকে পুলিশ ধরে এবং একেবারে রাস্তায় ফেলে তাকে মারতে থাকে। ওই সময় তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বলে জানালেও পুলিশ ভ্রুক্ষেপ করে না।
উল্টে হাঁটু দিয়ে গলা চেপে বসে থাকেন ডেরেক শওভিন নামক পুলিশটি। এ সময় আরও দুইজন পুলিশ তার পিঠের ওপর চাপ দিয়ে বসে ছিলেন। এর ফলে মৃত্যু হয়। শওভিনের বিরুদ্ধে থার্ড ডিগ্রি প্রয়োগ এবং নরহত্যার চার্জ আনা হয়। তাছাড়া তার সঙ্গী আরও তিন পুলিশকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে। এদিকে,সোশ্যাল মিডিয়ায় শ্বাসরোধকারী এই নৃশংস হত্যার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

পাশাপাশি গোটা মার্কিন মুলুকে অশান্তির ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায় । ট্রাম্প প্রশাসন যতই ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করার চেষ্টাই করুক না কেন বাগে আনতে পারছে না উত্তেজিত জনতাকে। গত কয়েক দিনে অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছে অন্তত ৩০টি শহরে। কারফিউ জারি করেও বিক্ষোভের আগুন নেভাতে ব্যর্থ হচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। করোনা আটকাতে লকডাউন সামাজিক দূরত্ব বিধি ইত্যাদি কোনও কিছুই বলতে গেলে মানা হচ্ছে না।
এদিকে বেগতিক দেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে খুব নিরাপদে আছেন বলে মনে করছেন না। তাই একেবারে মাটির তলায় বাংকারে ট্রাম্প আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। আবার বিভিন্ন মহল থেকে নিহত ফ্লয়েড এবং প্রতিবাদকারীদের পাশে থাকার বার্তা আসছে। তীব্রভাবে সমালোচনা করা হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনকে। এই পরিস্থিতিতে কৃষ্ণাঙ্গদের পাশে থাকার সংহতির বার্তা দিয়েছেন সুন্দর পিচাই, সত্য নাদেলা, টিম কুকের মতো বাণিজ্যের দুনিয়ার নেতৃবৃন্দরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close