Entrepreneur

তারুণ্যের গল্পের নাম ফাহা’স কিচেন

Agambartaর রেস্টুরেন্ট- “ফাহা’স কিচেন” টিম

তরুণ আর তারুণ্য,প্রচন্ড ইচ্ছেশক্তি এগুলোকেই ভর করে প্রচন্ড সাহসিকতা নিয়ে ঘটে যাওয়া এক অনন্য গল্পের নাম ফাহা’স কিচেন।

শুরুটা খুব সাধারন, নিছক একটি ফেইসবুক পেইজ খুলে তাতে নিজের রান্নার ছবিগুলো দিয়ে পোস্ট করতেন,আর স্বজনদের টুকটাক কমেন্টেই সন্তুষ্টিতে আটকে থাকতেন ফাহা হোসাইন।

উদ্যোক্তা- ফাহা হোসাইন

এরপর Agambartaর ক্যামেরার ঝোঁক চেপে বসে পকেটের পয়সায় ক্যামেরা কিনে ফুড ফটোগ্রাফির নানা খুঁটিনাটিতে দিন কাটছিলো ফাহার।পড়াশুনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিতে হলেও ক্রিয়েটিভ কিছু করার পোকা মাথায় ছোট বেলা থেকেই ছিলো।

ফাহা হোসাইন উদ্যোক্তা বার্তাকে বলেন, গত বছর কোন এক সন্ধ্যায় প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চু কথাচ্ছলেই বলেন এবার একটা রেস্টুরেন্ট দেয়া প্রয়োজন,প্রচন্ড সাহস এবং উৎসাহ যোগান তিনি, তাতে সাড়া দেন আমার জীবন সঙ্গী দেলোয়ার হোসাইন, যে কথা সে কাজ, এরপর শুরু হয় লোকেশান খোজার কাজ এবং সে সময়ে সব চাইতে চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠে কর্মঠ কিছু তরুনদের খুজে বের করা, যারা চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করে।

চট্টগ্রাম শহরের প্রানকেন্দ্র আগ্রাবাদ এলাকায় আগ্রাবাদ হোটেলের পাশেই অত্যাধুনিক ৩০ তলা আজীজ কোর্টের ২য় তলায় ফাহা’স কিচেন।

রেস্টুরেন্টের অনেক গুলো থিম এর মধ্যে পড়াশুনা অবস্থায় আছে এমন ছেলেমেয়েদের সুযোগ দেয়াটাই ছিলো আমাদের উদ্দেশ্য, যা এদেশে খুব একটা দেখা যায়না। অদক্ষ শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের নিয়ে কাজ করার দুঃসাহসিকতা কেউ হয়তো করতে চাইবেনা, যার জন্য ব্যবসা জগত একেবারেই নতুন, আমি এমন দুঃসাহস দেখিয়েছি।

মোট ১৮৭ টি আবেদন এর মধ্যে ৬ জনকে নিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করেছি,যারা রান্নাকে পেশা হিসেবেই নিয়েছে, যাদের জন্য ফাহা’স কিচেন একটি প্রেরনার জায়গা। অদক্ষ শেফদের নিয়ে ট্রেইনিং শুরু করি ফেব্রুয়ারী ২০১৯, দেড় মাস এর ট্রেইনিং এ তারা তাদের যোগ্যতা প্রমান করে, কেউ ডেজার্ট, কেউ ড্রিংকস, কেউবা পাস্তা স্পেশালিস্ট এখন।

ফাহা আরো জানায়, ফাহা’স কিচেন রেস্টুরেন্টের সেল্ফি কর্নারের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আমারই তোলা কিছু বেস্ট ফুড ফটোগ্রাফিকে ক্যানভাসে এক্রিলিক পেইন্ট দিয়েই আমি আঁকিয়েছে আর পাশে প্রয়াত বাচ্চু দার ছবি আর উনার লেখা কিছু লাইন।

তাই রেসিপি ক্রিয়েশান এবং ভালো ছবি এই দুই এর পেছনে সময় লেগে থাকা।

২০১৬ সালে প্রথম আলো,ইত্তেফাক পত্রিকায় রেসিপি দিয়ে কাজের শুরু, পরে যে কাজের বিস্তৃতি পুরো বাংলাদেশে গড়িয়েছে,পত্রিকাগুলো ছাড়াও
লুক@মি,অনন্যা,আনন্দ ভুবন, দ্য মিরর, ক্যানভাস,স্প্যাশ, আইস টুডে, রোদসী, সাপ্তাহিক সহ আরো অনেক ম্যাগাজিন এ আমার তোলা ছবি এবং রেসিপি প্রকাশিত হয়েছে নিয়মিত।

কিভাবে ফাহা’স কিচেন এখন এগিয় চলেছে জানতে চাইলে ফাহা হোসাইন জানান, ৫ জন মেয়ে শেফ এবং ১ জন ছেলে শেফ,যারা সবাই ব্যাক্তিগত জীবনে কলেজ,বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত, মেয়েদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি তাদের পেশাগত জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়ে ফাহা’স কিচেন কাজ করছে।

২০১৯ সালের ১৪ ই এপ্রিল, ফাহা’স কিচেন যাত্রা শুরু করে, যার বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে এখানকার মেনু গুলো অন্যদের থেকে আলাদা, প্রতিটি রেসিপি আমাদের নিজস্ব রেসিপি, যার স্বাদ পেতে হলে সবাইকে ফাহা’স কিচেনে আসতে হবে।

বেশিরভাগ গ্রাহক দামগুলোতেও ভীষন খুশি, আমাদের কিচেন দৃশ্যমান, ব্যবহৃত হচ্ছে খাটি রান্নার উপকরন এবং কিছু বিদেশি উপাদান। রেস্টুরেন্টের যাত্রা শুরুর পর রোজায় ইফতার পার্টি গুলো ব্যাপক সাড়া পেয়েছি, এমনো হয়েছে টানা প্রি বুকিং থাকার কারনে অনেকের ইচ্ছা থাকা স্বত্তেও ফিরিয়ে দিতে হয়েছে।

আমাদের অনন্য বৈশিষ্ট্য গুলোর মধ্যে আরেকটি হচ্ছে, কোন রকম ইন্টেরিয়র এডভাইসার ছাড়াই, নিজের পছন্দের পুরো রেস্টুরেন্ট ডেকোরেট করেছি,যা নিয়ে শতভাগ কাস্টমারদের মন্তব্য ছিলো মন জুড়ানো, এখানে বেশ লম্বা সময় নিয়ে খাবার গুলো স্বাদ নিতে পারেন সবাই।

গর্বের সঙ্গে ফাহা বলেন, ফাহা’স কিচেনের যাত্রা চট্টগ্রাম থেকেই শুরু তবে এ যাত্রা হয়তো কোনদিন দেশের সীমা ছাড়িয়ে বিদেশেও গড়াবে, এমন প্রত্যাশাই রাখি, ফাহা’স কিচেনের পুরো পরিবার এখন সেরা স্বাদ দিতেই ব্যস্ত, চট্টগ্রামে সেরা রেস্তোরার খেতাবের জন্যই আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টায় আছি।

 

 

ডেস্ক রিপোর্ট, উদ্যোক্তা বার্তা

Leave a Reply

Back to top button
Close