Entrepreneur

দেশীয় পণ্য নিয়ে কাজ করতে চান তামান্না

দেশীয় পণ্য যদি সঠিকভাবে ক্রেতাদের কাছে উপস্থাপন করা যায় তাহলে বিদেশি পণ্যের চাহিদা কমবে। অল্প বয়সেই তামান্নার এমন চিন্তা ভাবনা তারপরই টুকটাক করে এগিয়ে চলা। তামান্নাস গ্যালারি এখন শিক্ষার্থীদের পছন্দের অনলাইন পেজ।

বলছিলাম উদ্যোক্তা তামান্না মান্নান অতশীর কথা। যিনি নিজেও একজন শিক্ষার্থী। তবে পারিবারিক ব্যবসা থাকায় ছোট থেকেই ব্যবসার প্রতি দৃঢ়তা ছিল অটুট। তাইতো বাবা-মার সহযোগিতায় চমৎকার ভাবে অনলাইনে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ডলস, কি-রিং থেকে শুরু করে পেন্ডেট, নেকলেস,কানের দুল, আংটি, হিজাব পিন সহ কাঠ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পণ্যের সমাহার তামান্নাস গ্যালারির কালেকশনে।

তামান্নাস গ্যালারির শুরুর কথা জানতে চাইলে তামান্না মান্না অতশী উদ্যোক্তা বার্তাকে বলেন, ‘‘শুরুটা ২০১৭ সাল, ঈদের জমানো টাকা দিয়ে কিছু সফট ডল আর গিফট আইটেম কিনে শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রেন্ডলি বাজেট দিয়ে অনলাইনে পোস্ট করি। আমার টার্গেট পিপলও ছিল শিক্ষার্থীরা।’’

‘‘এরপর একদিন আমার এক কাজিন উডেন পেন্ডেট দেখান যেটার মধ্যে হ্যান্ড পেইন্ট করা ছিলো এবং আমাকে বলছিলেন, ‘তুমিতো এইগুলো করতে পারো’। তখন আমার সফট ডল অনেক বেশি চলছিল। কাজিনের কথায় অনুপ্রেরণা পেয়ে ৩০০ টাকা দিয়ে ৪টি উডেন পেন্ডেট রেডি করলাম এবং আপলোড দেওয়ার দুই ঘন্টার মধ্যে আমার ৩টি পেন্ডেট সেল হয়ে যায়।’’

ক্রেতাদের রেসপন্স কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক ভালো, আমার এখানে ৫ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকার সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। আমি সব কিছু নিজ হাতে করি এবং একটু ভিন্ন রকম নকশা আনার চেষ্টা করে থাকি।

উদ্যোক্তা বলেন, আমি সব সময়ই দেশীয় পণ্য নিয়ে কাজ করতে চাই। কারণ দেশীয় পণ্য নিয়ে কাজ করলে বিদেশি পণ্যের চাহিদা কমবে এবং আমাদের দেশের তরুণরা এসব যদি নিদিষ্ট একটি দামে পায় তবে তারা বিদেশি পণ্যের দিকে কম ঝুঁকবে।রাজধানীতে তরুণ Agambartaদের নিয়ে বিভিন্ন সময় মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে আপনি কোনো মেলায় অংশ নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তামান্না বলেন: ‘‘বেশ কয়েকটা মেলায় অংশগ্রহণ করেছি। মজার ব্যাপার হলো মেলায় স্টলে আমি আর আমার মা থাকি। সবাই ভাবে এটা আমার মায়ের ব্যবসা কিন্তু মা সানন্দে গর্ব করে বলেন, এইটা আমার মেয়ের এবং সে সব নিজ হাতেই করে।তখন আমার অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে।’’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে তামান্না বলেন, ” দেশীয় পণ্য ও কাঠ নিয়েই কাজ করবো।নিজের লেখাপড়াটা শেষ করে শোরুম নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিব। আপতত অনলাইন পেজটাকে অনেক বড় করতে চাই। বাংলাদেশের মানুষের কাছে দেশীয় পণ্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। মেটালের থেকে আমাদের ভালো কিছু আছে এটা তুলে ধরতে চাই।”

উদ্যোক্তা বলেন, ব্যবসায় বাবা-মাকে সব সময় পাশে পেয়েছি তাইতো তাদের নিয়েই সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যেতে চাই।

খাদিজা ইসলাম স্বপ্না 

Leave a Reply

Back to top button
Close