রুপচর্চা

নিজের মেকআপ নিজেই করুন

আগামবার্তা ডেস্ক : এখনকার মেয়েরা একটুবেশি সৌন্দর্য্য সচেতন। একটু বাইরে যাওয়ার দরকার হলেই পোশাকের সাথে তাদের সাজটাও ঠিক-ঠাক হওয়া চাই। আর অনুষ্ঠান হলে তো কোনো কথায় নেই। তবে সমস্যা অনেকেই ঘরে বসে নিজের পারফেক্ট মেকআপ নিজে করতে পারেন না। তাই তাদের জন্যই আজকের এই গাইডলাইন- ১। প্রাইমার : যে মেকআপই করুন না কেন, একদম প্রথমেই হাতে নিতে হবে প্রাইমার। হাতের তালুতে অল্প প্রাইমার নিয়ে পুরো মুখে এবং গলায় ভালো করে লাগান। এমনভাবে লাগান যাতে মিশে যায় ত্বকের সঙ্গে। প্রাইমার এর কাজ হল পুরো মেকআপ-এর বেস গ্ৰাউন্ড তৈরি করা মেকআপ কে দীর্ঘস্থায়ী করতেও কিন্তু প্রাইমারই ভরসা। তাই গেট টুগেদার হোক বা অফিস, প্রাইমার কিন্তু অবশ্যই দরকার। তবে বেছে নিতে হবে ভালো ফ্যাশন ব্রান্ডের প্রাইমার। খারাপ গুণমানের প্রাইমার কিন্তু প্রভাব ফেলতে পারে আপনার ত্বকের উপর যা মোটেই ভালো খবর নয়। ২। চোখকে সাজ : প্রফেশনালদের মতে, প্রাইমারের পর চোখের সাজটা সেরে ফেলা উচিত। এক্ষেত্রে প্রথমেই এঁকে নিতে হবে আইব্রো। ঠিকভাবে আইব্রোস এঁকে না নিলে আইশ্যাডো ব্লেন্ডিং-এ সমস্যা হতে পারে। বর্ডার লাইন স্পষ্ট হলে অনায়াসে লাগাতে পারবেন নিজের পছন্দের রঙের আইশ্যাডো । তবে আইশ্যাডোর রঙ যেন মানানসই হয় আপনার সেদিনের পোশাকের সঙ্গে, নয়তো কমে যাবে চোখের আকর্ষণ। চোখের বেস মেকআপ আকর্ষণীয় করে তুলতে হালকা রঙের আইশ্যাডো ভালো করে মিশিয়ে নিন আইব্রো-এর ক্রিস লাইনের সঙ্গে। এরপর লাইনার দিয়ে এঁকে নিন পছন্দের স্টাইলে আইলাইন। একেবারে শেষে মানানসই গাঢ় রঙের আইশ্যাডো দিয়ে কমপ্লিট করার পালা চোখের সাজ। মনে রাখুন, আইশ্যাডো ব্লেন্ডিং যেন ঠিকমত না হলে অসম্পূর্ণ থেকে যাবে চোখের সৌন্দর্য। ৩। মুখের মেক-আপ : এবারে ফেস মেকআপ-এর পালা। পুরো মুখে এবং গলায় একইরকম শেড রাখতে ব্যবহার করুন ফাউন্ডেশন। এটি কিন্তু বেস মেকার হিসাবেও কাজ করে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হল ফাউন্ডেশনের শেড চয়েস করা। অনেকেই ফর্সা দেখানোর জন্যই লাগিয়ে থাকেন খুব হালকা শেড যা সবসময় মানানসই হয় না ।তাই নিজের স্কিন টোনের সঙ্গে মানানসই, এমন ফাউন্ডেশন বেছে নিন। সঠিক টোনের ফাউন্ডেশন আপনাকে করে তুলবে আত্মবিশ্বাসী আর উজ্জ্বল। তবে পাশাপাশি রইল আরেকটি টিপস্। রোজ ফাউন্ডেশন ব্যবহার কিন্তু ত্বকের পক্ষে ভালো নয় একেবারেই। তাই এর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন নামী ব্র্যান্ডের BB বা CC ক্রিম। এগুলোও সমান উজ্জ্বল রাখে আপনার ত্বক। চোখের তলায় ডার্ক সার্কেল ঢাকতেও রয়েছে উপযুক্ত মেকআপ। এর জন্য ব্যবহার করুন কনসিলার । এটি সহজে ঢেকে দেয় ডার্ক সার্কেল বা কপালের ভাঁজের দাগ। মুখের ছোটখাটো ব্রণর দাগও ঢাকতেও কনসিলারই ভরসা। লিক্যুইড না পাউডার ফর্মড কনসিলার? বেছে নিন নিজের ইচ্ছেমতো।

আরো পড়ুন:- ‘সকলের প্রার্থনায় এই হাসিটা আবারো দেখা গেছে’

৪। চিক ও জ-লাইন : ভারী চেহারার প্রধান সমস্যা হলো জ-লাইন এবং চিক্ ।এই দুই অংশ আকর্ষণীয় করতে ব্যবহার করুন কনট্যুর। পাউডার, ক্রিম, স্টিক বিভিন্ন ফর্মে এটি পাওয়া যায়। পার্টি বা জমকালো সাজের সঙ্গে অবশ্যই থাকুক ব্লাশার। সামান্য ব্লাশার আপনার চিক্-কে করে তুলবে নজর কাড়া। পরের কিট হল হাইলাইটার। রোজের প্রয়োজনে না হলেও বিশেষ অনুষ্ঠানে গর্জিয়াস লুক পেতে হাইলাইটার খুব প্রয়োজন। অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না যে কীভাবে ব্যবহার করবেন এটি। আসলে পুরো মেকআপ-এ প্রাণ এনে দেয় হাইলাইটার। মেকআপ এর ধরনের সাথে মানানসইভাবে হাইলাইট করূন চোখের উপরের আইব্রো’স এর দিকের অংশ অথবা ঠোঁটের নীচের অংশ। ৫। ঠোঁট : শেষে পালা ঠোঁটের। আই মেকআপ,ব্লাশার ইত্যাদির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাছুন লিপ কালার। তার আগে অবশ্যই এঁকে নিন লিপ লাইন। রোজকার হালকা মেকআপ এর সাথে লিপ লাইন এঁকে ব্যবহার করতে পারেন লিপ গ্লস বা হালকা লিপ কালার। ৬। সেটিং স্প্রে: সেটিং স্প্রে ছাড়া কিন্তু মেক-আপ অসম্পূর্ণ। তাই সবশেষে আসবে এটি। এতেই দীর্ঘস্থায়ী হবে আপনার মেকআপ।

Leave a Reply

Back to top button
Close