offbeat news

পুরীর জগন্নাথের প্রসাদ কলকাতার পরিবারে, খেয়েই পুণ্য লাভ

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ‘রাজার ঘরে যে ধন আছে, টুনির ঘরেও সে ধন আছে’। অনেকটা এমনই শ্যামপুকুর স্ট্রীটের দাস পরিবারের জগন্নাথ দেবের উৎসব। পুরীতে রথ যাত্রায় যে সব ভোগ , খাবার দেওয়া হয় তেমনই সব পদের আয়োজন করা হয় তাঁদের পরিবারে। এই বছরেও তার অন্যথা হল না।
করোনার নিয়ম মেনে দাস পরিবারের সদস্যরা রথের রশিতে টান দিলেন না। তা বলে কী জগন্নাথ দেবের পেট পুজোয় টান পড়বে? তা হতে দেওয়া যায় না। এলাহি আয়োজন। জিবে গজা, সন্দেশ, দই, পানতুয়া, রাবরি, রসমালাই, ছানার গজা , রসগোল্লা সহ নানা ধরণের মিষ্টি। সঙ্গে আম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস শসা, আপেল, বেদানা, নারকেলের মতো ফল। পরিবারের সদস্য খোকন দাস বলেন , ‘রাজেশ দৈতাপতি আমাদের বাড়িতে এসে জগন্নাথ দেবের মন্দির প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছেন। তিনিই বলে গিয়েছেন কী ধরণের ভোগ হবে। সেই অনুযায়ী আমরা জগন্নাথ দেবকে প্রতিদিন। ভাত , ডাল, তরকারি,পাঁচ রকম ভাজা দেওয়া হয়। দেওয়া হয় ক্ষীরের পায়েস। কোনও সাদা তেলে নয়। ভোগ রান্না হয় ভালো ঘি-য়ে।’
জগন্নপুরীর পাক শালার রীতি মেনে দাস বাড়িতে এভাবেই রথের রান্না হয়। প্রভুর প্রিয় ভাজাভুজি। তাই অন্নভোগের সঙ্গেও থাকে পটল বেগুন নারকেলের মত হাজারো ভাজা পদ থাকে। তবে আলু প্রভুর ভোগে নৈব নৈব চ। রাঙালু আছে। কিন্তু আলু ব্রাত্য খোদ পুরীর ভোগ রন্ধন রীতি মেনেই।

পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, ‘এবারে আমরা দুঃখিত যে রথের চাকা গড়াল না। স্বাস্থ্যবিধি যে মানতেই হবে।’ সবাই তাই মাস্ক পড়ে সোশ্যাল দূরত্ব মেনে আরতি দেখলেন। তবে রথে না হলেও।দেবতার যাত্রা বন্ধ হয়নি। শাস্ত্রের বিধান মেনে দেহ রথে করে নিয়ে যাওয়া হল জগন্নাথ বলরাম সুভদ্রাকে। মাথায় বিগ্রহ বসিয়ে পালিত হল রথযাত্রা।

তবে মাসির বাড়ি নয়, এই জগন্নাথ যান রামকৃষ্ণের বাড়ি। ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার পর রামকৃষ্ণ দেব ছিলেন যে বাড়িতে সেখানেই এখন তাঁর মন্দির। দাশ বাড়ির রীতি অনুযায়ী ওই মন্দিরেই মাসির বাড়ি মানা হয়।

পরিবেশের বন্ধুরা, স্কুলেই চলছে সবুজ বাঁচানোর লড়াই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close