offbeat news

ফার্স্ট নয়, লাস্ট হয়েই শৈশব ফেরানোর দাওয়াই ‘ব্যাকডেটেড’ প্রজন্মের

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, হাওড়া : ফার্স্ট হতে হবে। নম্বর চাই অনেক। খেলতে যাবো মা? উত্তর আসে না। বাবার চোখ কোটকটানি দেখে বছর দশেকের বালক আর কিছু বলতে সাহস পায় না। রিমি কুমির ডাঙা কি জানেই না। শর্টকাট কসরতির মোবাইল গেমেই থমকে আজকের প্রজন্ম। প্রকৃত ছোটবেলাকে ফেরত দিতে চেষ্টা করল ‘স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ’। মাধ্যম , অঙ্কন প্রতিযোগিতা। পৃথ্বীশরা শুধু স্বপ্ন দেখায় না।
বাস্তবে স্বপ্নকে পূরণ করার চেষ্টা করে। তাই তো ঘরে ঘরে যখন অজান্তে তৈরি হচ্ছে এক একটি ইশান অবস্তির মতো ছেলে মেয়ের দল, যারা বাবা মায়ের প্রত্যাশা আর মোবাইল গেমের আড়ালে হারিয়ে ফেলছে আসল ছোটবেলাটা তখন সেই জীবনের প্রকৃত রূপ দেখানোর চেষ্টা করছে একদল যুবক যুবতী। মাধ্যম একটা সাধারণ বসে আঁকো প্রতিযোগিতা। আপাত দৃষ্টিতে, একটা সাধারণ অঙ্কন প্রতিযোগিতাই ছিল ‘স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ’-এর উৎকর্ষ নামাঙ্কিত অনুষ্ঠানটি। যা অনুষ্ঠিত হয়েছিল উদং-য়ের একটি খেলার মাঠে।
কিন্তু প্রতিযোগিরা যখন মাঠে এল তখন দেখল মাঠটি সাজানো কাগজের নৌকা, এরোপ্লেন, মাছ, বিভিন্ন ওরিগ্যামি দিয়ে। আঁকবে কি, হাঁ করে সেগুলোর দিকে তাকিয়ে রইল ছোট্ট ছোট্ট ছেলে পিলের দল। ওঁরা তো এমন জিনিস কোনওদিন দেখেইনি। পাবজি গেমে ঠাঁয় ঠাঁয় গুলি চালানো পর্যন্তই তো ওঁদের দৌড়।
শুধু জানত মা বলেছে ভালো করে আঁকবি আর বাবার প্রাইজ জেতার সহজ উপায়ের মন্ত্র। শ্রেষ্ঠা আঁকার কাগজ হাতে পলাশকে কাগজের খেলনা গুলোর দিকে আঙুল দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করছিল, ‘ এই ওগুলো কি আমাদের দেবে?’ স্মৃতি আকাশের দিকে তখন তাকিয়ে রয়েছে। জিজ্ঞাসা করতেই বলল, ‘মাছ ভাসছে, এরোপ্লেন উড়ছে আকাশে। কি সুন্দর। কি করে এগুলো বানায় কে জানে?’ আজকের ছোটদের এই অবাক প্রশ্নই হয়তো ‘স্বপ্ন দেখার উজান গাঙ’-এর অঙ্কন প্রতিযোগিতার সার্থকতা। এটাই তো ওরা চেয়েছিল। পৃথ্বীশ জানালেন, ‘আমাদের প্রতিযোগিতাটা গৌণ, প্রকৃত ছোটবেলাটাকে চেনানোই আমাদের মূল উদ্দেশ্যে ছিল।


সেটায় মনে হয় সফল হয়েছি আমরা। এবার যারা প্রতিযোগিতায় জিতবে তাদের পুরস্কারটা উপরি পাওনা।’ অনুষ্ঠানে লাইভ আর্ট বিভাগও ছিল, যেখানে ফুটে উঠল বাংলার হারিয়ে যাওয়া , ক্ষয়ে যাওয়া কিছু কুটির শিল্প। যার মধ্যে জড়ির কাজ, সেলাইয়ের কাজ, পটচিত্র, শোলার কাজ অন্যতম। সবমিলিয়ে গ্রামীন বাংলা দেখল আসল শৈশবচিত্র। ইশানরা কি এবার মাঠের দিকে তাকাবে? প্রশ্ন অবশ্য থেকেই যাবে। একদিনে পৃথিবী উল্টে যায় না। সময় দেবে সময় পরিবর্তনের উত্তর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close