Cricket

ফুটবলের ৭শ বছরের ইতিহাস জেনে নিন, অবাক হবেন আপনিও

মোহাম্মদ আল আমিন : বায়ুপূর্ণ পদগোলক পায়ের আঘাতে খেলার সাধারণ নাম ফুটবল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এর নাম (Soccer) সকার।
ফুটবল খেলার উৎপত্তি নিয়ে অনেকের নানা ধরণের মতও রয়েছে। বিভিন্ন নামে এই খেলাটি প্রাচীন, মিশর, পারশ্য, ব্যবিলন, গ্রিস চীনে প্রচলিত ছিল। তবে আধুনিক ফুটবলের বিকাশ ঘটে ইংল্যান্ডে। মধ্যযুগের শেষের দিকে ইংরেজ ক্রীড়াবিদ জে.সি, থ্রিং এই খেলার প্রথম নিয়ম তৈরি করেন।

জন ম্যাকক্রোকান নামক জনৈক লেখকের বর্ণনায় পাওয়া যায়, আয়ারল্যান্ডে ১৩০৮ খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত একটি ফুটবল খেলার তিনি দর্শক ছিলেন। ষোড়শ শতাব্দীতে ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে যে বল খেলা হত তার নাম ছিল ক্যালসিও স্টোরিকো।
অনেকে মনে করেন, এই খেলাই আধুনিক ফুটবলের প্রাথমিক রূপ ছিল। এই খেলায় সর্বোচ্চ ২৭ জন খেলোয়াড় থাকত। তবে কখনো কখনো এর সংখ্যা ১৫ বা ২০ জন নিয়ে দল গঠিত হতো এবং এর ভিতরে গোলরক্ষক থাকত ৫ জন।
১৮৪৮ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন বিশিষ্ট ফুটবল খেলোয়াড়রা কেম্ব্রিজে মিলিত হয়ে এই খেলার আগের আইন পরিবর্তন করে নতুন আইন তৈরি করেন। কিন্তু তখনও খেলোয়াড়দের সংখ্যার বিষয়ে তেমন আইন নির্ধারিত করা হয় নি।
১৮৭০ সালে আইন করা হয় যে প্রত্যেক দলে গোলরক্ষক-সহ ১১ জন করে খেলোয়াড় থাকবে। তাই ১৮৭০ সাল থেকেই আধুনিক ফুটবলের যাত্রা শুরু হয় বলা যায়।
এই আইন অনুসারে ১৮৭০ সালের ৫ই মার্চ ইংল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ডের মধ্যে প্রথম ম্যাচ খেলা হয়।
১৮৭৫ সালে সর্বপ্রথম গোলের পার্শ্ব খুঁটির উপরে আড়া ব্যবহার শুরু হয়। ১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দে সর্বপ্রথম ফুটবল খেলার মাঠের দৈর্ঘ্য ৯০ মিনিট নির্ধারণ করা হয়।
১৮৯০ সালের সর্বপ্রথম গোলপোস্টে জাল ব্যবহার করা হয়। ১৮৯১ সালে সর্বপ্রথম পেনাল্টি কিকের আবির্ভাব হয়। ১৯০৪ সালের ২১শে মে আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন গঠিত হয়। এই বছরেই অলিম্পিকে প্রদর্শনী খেলা হিসেবে ফুটবল প্রতিযোগিতা রাখা হয় এবং কোনো পুরস্কার বরাদ্দ ছিল না তার জন্য।
১৯০৬ সালের অলিম্পিকেও পুরস্কারহীন শর্তেই ফুটবল অলিম্পিকে রাখা হয়েছিল। আর এই বছরেই ফিফা সুইজারল্যান্ডে অলিম্পিকের গোত্র থেকে বেরিয়ে এসে একটি ভিন্ন আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

১৯০৮ সালের অলিম্পিকে ফুটবল প্রথম আনুষ্ঠানিক খেলার মর্যাদা পায়। এই প্রতিযোগিতা ছিল অপেশাদার খেলোয়াড়দের জন্য। এই অলিম্পিকেই ইংল্যান্ড জাতীয় অপেশাদার ফুটবল দল অংশগ্রহণ করে জয়লাভ করে।
১৯০৯ সালে তুরিনে স্যার থমাস লিপটন নিজের নামে একটি ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করেছিল বিভিন্ন ফুটবল ক্লাব। তবে এই ক্লাবগুলো ছিল বিভিন্ন দেশের। তাই এই প্রতিযোগিতাকেই অনেকে প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবল হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এই খেলায় পশ্চিম অকল্যান্ড জয়ী হয়েছিল এবং খেলার নিয়ম অনুসারে এরা চিরকালের জন্য ট্রফি নিয়ে যায়।
১৯১২ সালের অলিম্পিকে ইংল্যান্ড জাতীয় অপেশাদার ফুটবল দল অংশগ্রহণ করে জয়লাভ করে।
১৯১৪ সালের ফিফা অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় অনুষ্ঠিত ফুটবল প্রতিযোগিতাকে “অপেশাদার বিশ্ব ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে রাজি হয় এবং এই প্রতিযোগিতা পরিচালনার দায়িত্ব নেয়।
১৯২০ সালের গ্রীষ্ম অলিম্পিকে বিশ্বের প্রথম আন্তঃমহাদেশীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেয় মিশর ও তেরটি ইউরোপীয়ান দল। এতে বেলজিয়াম স্বর্ণ পদক লাভ করে।
১৯২৪ সালে উরুগুয়ে অলিম্পিক ফুটবল প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ লাভ করে। ১৯২৬ সালে ফুটবলে প্রথম বুট ব্যবহার করা হয়। ১৯২৮ সালে উরুগুয়ে অলিম্পিক ফুটবল প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয়বার স্বর্ণ লাভ করে এবং এই বছরই ফিফা অলিম্পিকের বাইরে আলাদাভাবে নিজস্ব আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়।
১৯২৮ সালে সর্বপ্রথম আর্সেনালের পরিচালক খেলোয়াড়দের সহজে চেনার জন্য, খেলোয়াড়ের গায়ের পোশাকে নাম্বর বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তখন স্বাগতিক দলের জার্সি নাম্বর থাকত ১-১১ পর্যন্ত এবং সফরকারী দলের নাম্বর থাকত ১২-২২ পর্যন্ত।
১৯৪০ সালে সিদ্ধান্ত হয় যে একই নাম্বার বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়রাও নিতে পারবে কিন্তু নম্বর ঐ ১-২২ পর্যন্ত থাকতে হবে। ১৯৯৩ সালে প্রথম জার্সিতে খেলোয়াড়ের নাম লেখা হয় এবং যেকোন নম্বর খেলোয়াড় নিতে পারবে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশ হিসেবে উরুগুয়েকে নির্বাচন করা হয়। প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল ১৩ই জুলাই। এই প্রতিযোগিতায় উরুগুয়ে বিজয়ী হয়।
ফ্রান্সের লিসিয়েন লরেন্ট বিশ্বকাপে সর্বপ্রথম গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন মেক্সিকোর বিপক্ষে।
১৯৩২ সালে লস এঞ্জেলসে অনুষ্ঠিত গ্রীষ্ম অলিম্পিকে ফুটবলকে না রাখার পরিকল্পনা করা হয়। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে তখন ফুটবল (সকার) জনপ্রিয় ছিল না। ফুটবলের পরিবর্তে সেখানে আমেরিকান ফুটবল (রাগবি ফুটবল) জনপ্রিয় ছিল।
তাই ফিফা এবং আইওসির মাঝে অপেশাদার খেলার মর্যাদা নিয়ে মতবিরোধও দেখা দেয়। ফলে ফুটবল অলিম্পিক থেকে বাদ পড়ে যায়।
১৯৫১ সালে এশিয়ান গেমস-এ অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৫৪ সালে বিশ্বকাপ প্রথম টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়। বর্তমানে ফুটবল খেলাটি টেলিভিশনে সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান। এমনকি অলিম্পিক গেমসের চেয়েও বেশি মানুষ বিশ্বকাপ দেখে থাকে।
১৯৬৬ সাল থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপের একটি নিজস্ব মাস্কট বা প্রতীক রাখা হয়। বিশ্বকাপ উইলি প্রথম বিশ্বকাপ মাস্কট হিসেবে ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দের বিশ্বকাপে ব্যবহৃত হয়েছে।

১৯৭২ সালে বাংলাদেশে প্রথম ফুটবল ফেডারেশন গঠিত হয়।

আগাগবার্তা/ডেস্ক

শেয়ার করুন

আপনি আরও যা পড়তে পারেন

Leave a Reply

Back to top button
Close