offbeat news

ফেসবুক সংকল্পে সাহায্য এল সুদূর উত্তর থেকে, ত্রান পেল দক্ষিণের আমফান দুর্গতরা

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : নিবাস উত্তরে। সুদূর শিলিগুড়ি। মন কেঁদে উঠেছিল দক্ষিণের এক ঝড়ে তছনছ অঞ্চলের জন্য। তাই শুভজিত মন্ডল সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন ওঁদের জন্য। সাহায্য সাদরে গ্রহণ করেছে রাকেশদের ফেসবুক সংগঠন ‘সংকল্প’। সেই সাহায্য পৌঁছে গিয়েছে আমফান দুর্গত ৪০০ পরিবারের হাতে। এমন ‘সংকল্প’-এর মানুষদেরই দলে চেয়েছিল রাকেশরা।
ফেসবুক শুধু মিম বানানো নয়, ফেকবুক নয়। আসল মানুষের খোঁজও মেলে তা প্রমান হয়তো এই ফেসবুক গ্রুপ। যেখানে এক প্রান্তের মানুষ অন্য প্রান্তের মানুষের সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়ে দেন। না করতেই পারতেন। একটা ফেসবুক গ্রুপ আমফান বিধ্বস্তদের সাহায্য করবে বলেছে। নোটিফিকেশন দেখে চুপচাপ থেকে যেতে পারতেন শুভজিতের মতো মানুষরা। পরে কোনো একসময় পোস্টে লাইক, লাভ সাইন দিয়ে কার্যসিদ্ধি হতেই পারত। দেখানোই যেত ফেকবুকিয় সহমর্মিতা। কিন্তু তা হয়নি ফেসবুক গ্রুপের একের পর এক মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য। এগিয়ে আসতে যে কেউ বাধ্য হবে। ঠিক সেভাবেই সুদূর শিলিগুড়ির শুভজিত যোগদান করেছিলেন এই গ্রুপে। এবং যখন প্রায় ২৫০ জনের সাহায্য নিয়ে আমফান দুর্গতদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার জন্য প্রায় প্রস্তুত রিঙ্কি কুন্ডু,সম্রাট,সন্দীপদের সংগঠন সংকল্প ঠিক তখনই একটা ফোন আসে শিলিগুড়ি থেকে। সদস্য শুভজিত জানান তিনি ওই ২৫০ জনের মধ্যে ১৫০ জনের সামগ্রীর দায়িত্ব নিতে চান। সাহায্য আসে চটজলদি। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা রাকেশ সর্দার জানিয়েছেন , ‘আমাদের ২৫০ জনের সাহায্য তৈরি ছিল। সেটা ধরেই এগোচ্ছিলাম। ওনার সাহায্যের ফলে সেটা এক লাফে গিয়ে পৌঁছে যায় ৪০০-তে। আমরা আপ্লুত এমন সাহায্যে।’

তিনি আরও জানিয়েছেন , ‘সংকল্প একটি স্বেচ্ছাসেবী দল যে দল মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় গড়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রান্তের বন্ধুদের নিয়ে,সেই দল পৌঁছে গিয়েছিল ঝড়খালী এলাকায় ৪নং গড়ানবোস অঞ্চলের সেই সমস্ত মানুষের কাছে সাহায্য নিয়ে যারা এখনো প্রায় আমফানের প্রভাবে দুর্দশায় আছেন।তাদের জন্য মূলত শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং প্রয়োজনীয় দ্রব্য নিয়ে উপস্থিত হয়েছিল,পাশাপাশি ডক্টর অলক বিশ্বাস এর সহায়তায় সেখানকার মানুষজনদের মেডিকেল চেক আপ এবং প্রয়োজনীয় বেসিক মেডিসিন ও প্রদান করা হয়েছে এছাড়া স্যানিটারি ন্যাপকিন। প্রায় সাড়ে চারশো পরিবারের হাতে খাদ্য সামগ্রী এবং ২০০ এর অধিক মানুষজনদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।’

ওঁরা মনে করেন , ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুত্ব স্থাপনের পাশাপাশি মানুষের পাশে সংকল্প বিভিন্ন উপায়ে বিভিন্ন ভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। এই দিন কাজে যারা যুক্ত তাঁরা কেউ মেদিনীপুরের, কেউ বারাসাতের, আবার কেউ সোদপুরের।’ এঁদের সহায়তায় একের মন এক মেওন মানব কল্যাণকর কাজ সম্পন্ন হয় রাকেশ, সন্দীপ, প্রজ্জ্বলদের।

প্রশ্ন অনেক: তৃতীয় পর্ব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close