Entrepreneur

বই বিক্রি করে জীবনে সফল সালমান সৈয়দ

সালমান সৈয়দ

সমাজে একটা প্রবাদ প্রচলন আছে যে, প্রতিটি শিশু জন্মগতভাবে সমান। এই বাক্যটি আপনার সত্য বলে মনে হতে পারে, তবে এটি কখনও বাস্তবায়ন হয় না। কেননা আপনি যখন সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম গ্রহণ করবেন তখন রাস্তায় জন্ম নেওয়া শিশুটি আপনার থেকে সুযোগ-সুবিধা কম পাবে। কিন্তু আপনি যদি চান তাহলে নিজ চেষ্টার মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করতে পারেন।

২৫ বছর বয়সী সালমান সৈয়দের কাহিনী, যা পৃথিবীর সবচেয়ে নিরলস ব্যক্তিটিকে অনুপ্রাণিত করবে এবং সমস্ত ব্যক্তিদের হৃদয়ে বিশ্বাস জাগিয়ে তুলবে। কারণ এটি কোনো রূপকথার চেয়ে কম নয়! আসুন জেনে নেই তার সেই কাহিনী:

সালমানের জন্ম মুম্বাইয়ের হাজী আলির একটি ফুটপাতে। শৈশবটি কাটিয়েছেন মাকে আবর্জনা সংগ্রহ করা আর বাবাকে ছোট একটি কাজ করতে যেটা আবার  তাদের বেঁচে থাকার জন্য যথেষ্ঠ ছিল না। সালমান এসটিডি ২ তে থাকার সময় তাকে স্কুল ছাড়তে হয়েছিল। পরে তিনি তার মাকে সহায়তা করতে শুরু করেন এবং ট্র্যাফিক সিগন্যালে পুরাতন বই বিক্রি করতেন।

বইয়ের প্রতি আগ্রহ দেখে তার বাবা তাকে বর্ণমালা শেখানোর শুরু করেন এবং ইংরেজী পড়াতে শেখান। এমনকি তার বাবা কিছু মানুষদের কাছ থেকে ইংরেজী বড় শব্দ লিখে আনতেন এবং তাকে সেটা শেখাতেন।

সালমানের বয়স যখন বার বছর, তখন ক্যারোলিন নামের একজন শিক্ষক মুম্বাইয়ের নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুদের শিক্ষা দিতেন। তিনি প্রতিদিন ট্রাফিক সিগন্যালে সালমানকে দেখতেন। অবশেষে, সালমানকে নতুন এক স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। পরিবারের বাড়তি আয়ের জন্য সে সকালের ক্লাস করত আর সন্ধ্যায় বই বিক্রি করত। তখন তিনি স্বপ্ন দেখতেন উদ্যোক্তা হওয়ার। বইয়ের ব্যবসায় করার, কেননা এতে করে তার কষ্ট কম হত আর টাকা বেশি রোজগার হত। তবে কখনও টাকার সমস্যার জন্য তিনি এই স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি।

তিনি ২০১১ সালে এসটিডি ১০-এ পরীক্ষা দেন, তবে পরীক্ষায় তিনি পাশ করতে পারেননি। তবে সালমান কখনও হাল ছেড়ে দেননি। তিনি পড়াশোনার প্রতি আরো বেশি মনোযোগ দেন এবং পাশ করেন। তিনি এসটিডি ১১ পরীক্ষায় ৮১ এবং এসটিডি ১২ তে ৯১ নম্বর পেয়ে পাশ করেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন যে, তিনি নিজে চাইলে কিছু করতে পারবেন। তখন তিনি কেসি কলেজে ভর্তি হন এবং সেই সময় পড়াশোনার খরচ চালাতে তিনি টুরিস্ট গাইড হিসেবে কাজ করতেন।

ভাল ছাত্র হওয়ার জন্য সালমান ২০১৭ সালে ফ্রি স্কলারশিপ পেয়ে আমেরিকা পড়তে যাওয়ার সুযোগ পান। বর্তমানে তিনি আমেরিকায় উদ্যোক্তা আরটি হিউস্টন কমিউনিটি কলেজে পড়াশোনা করছেন।

তিনি বলেন, আমি জীবন থেকে অনেক কিছু শিখেছি। জীবনের কঠিন বাস্তবতা নিজ চোখে দেখেছি। আজ আমি এই পর্যায়ে এসেছি শুধুমাত্র পরিশ্রম আর ঝুঁকি নেওয়ার জন্য। কেননা ছোটবেলায় যখন আমি বই বিক্রি করতাম তখন আমি শিখেছিলাম ব্যবসার মাধ্যমে বেশি টাকা আয় করা সম্ভব। কেননা আমি কম দামে বই কিনে আনতাম এবং সেগুলো আবার বেশি দামে বিক্রি করতাম। তবে আমার ইচ্ছা ছিল একটি বড় বইয়ের দোকান দেওয়ার, তবে আর্থিক সমস্যার কারণে সেটা করা সম্ভব হয়নি। পরে যখন আমি টুরিস্ট গাইড হিসেবে কাজ করতাম তখন ভ্রমণের প্রতি এক ভালবাসার জন্ম নেয়। তাই চিন্তার পরিবর্তন ঘটে, নতুন কিছু করার ইচ্ছা হয়।

বর্তমানে তিনি স্বপ্ন দেখেন পড়াশোনা শেষ করে একটি ট্রাভেলস কোম্পানি দেওয়া এবং সেই সমস্ত গরীব পরিবারগুলোকে সহায়তা করা; যারা টাকার অভাবে সন্তানদের শিক্ষা দিতে পারেন না।

মো. হৃদয় সম্রাট

Leave a Reply

Back to top button
Close