International

বিশ্বের সবথেকে ধনী ব্যক্তি! একসময় গাড়ির মেকানিকের খরচ বইতে পারতেন না স্বপ্নের কারিগর

নিউ ইয়র্ক: কল্পনাকে বাস্তবায়িত করতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। তাঁর স্বপ্নই বাস্তবে ড্রোন হয়ে ওড়ে আকাশে। মঙ্গলে আস্ত শহর গড়ার জন্য স্বপ্ন দেখার সাহস রাখেন তিনি। প্রথম কোনও বেসরকারি সংস্থার তরফে মহাকাশে মানুষ পাঠিয়ে প্রমাণ করেছেন, তাঁর সব কল্পনা আদতে পাগলের প্রলাপ নয়। টেসলার মালিক সেই ইলন মাস্ক এখন বিশ্বের সবথেকে ধনী ব্যক্তি। অথচ সেই মাস্কের হাতেই একসময় গাড়ি সারানোর টাকা ছিল না।

ইলন মাস্ক একা নন, বিশ্বের বহু সফল ব্যক্তির জীবনের ইতিহাসটা অনেকটা একই রকম। মাস্কও তাই। সোনার চামচ মুখে দিয়ে জন্মাননি তিনি।

সম্প্রতি একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যালে। সময়টা ১৯৯৫। তখন ইলন মাস্কের হাতে গাড়ি সারানোর মত টাকা ছিল না। ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে তরুণ মাস্ক গাড়ির কাঁচ ঠিক করছেন নিজে। জানা যায়, ২০ ডলার দিয়ে ফেলে দেওয়া কাঁচ কিনেছিলেন ইলন মাস্ক, আর তা দিয়ে ঠিক করছিলেন গাড়ি।

ওই ছনি ট্যুইট করে ইলন মাস্ক লিখছেন, ‘২০ ডলার দিয়ে কাঁচ কিনেছিলাম, এরকম ফেলে দেওয়া জিনিসপত্র কেনার অনেক ভালো ভালো জায়গা আছে।

এর আগে ওই ছবি ট্যুইট করেছিলেন ইলন মাস্কের মা মায়ে মাস্ক, ২০১৯ সালে। মায়ের ট্যুইটের রিপ্লাইতে তিনি লিখেছিলেন, মেকানিককে টাকা দেওয়ার ক্ষমতা ছিল না বলে নিজেই ঠিক করেছিলেন সব কিছু। ফেলে দেওয়া জিনিস কিনেই গাড়ির সব পার্ট ঠিক করেছিলেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই আমাজন কর্তা জেফ বেজোসকে ছাপিয়ে বিশ্বের সবথেকে ধনী ব্যক্তি হিসেবে নাম উঠে এসেছে ইলন মাস্কের।

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় জন্ম ইলন মাস্কের। বয়স দশ বছর পার না হতেই ভেঙে যায় বাবা-মা’র সংসার। মা পেশায় ছিলেন মডেল, আর বাবা ইলেকট্রোমেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। মাস্কের আগ্রহ ছিল কম্পিউটারের দিকে, নিজে নিজেই শিখেছেন কম্পিউটার প্রোগ্রামিং।

স্কুলে খুব বাজেভাবে সহপাঠীদের হয়রানির শিকার হতে হতো মাস্ককে। ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, মাস্ককে একবার সিঁড়ির উপর থেকে ছুড়ে ফেলেছিলো একদল সহপাঠী। ওই ঘটনার পরে দুই সপ্তাহ হাসপাতালে কাটাতে হয়েছিল তাকে।

প্রথমে ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টোতে ব্যবসা শুরু করেন মাস্ক। ভাই কিমবালের সঙ্গে মিলে প্রতিষ্ঠা করেন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান জিপ২। শুরুতে এতো সহজে সাফল্য পাননি। ১৯৯৫ সালে ব্যবসা শুরু করার পর অফিসে ঘুমাতে হয়েছে মাস্ককে, কারণ বাসা ভাড়া নেওয়ার মতো অর্থ ছিল না তার হাতে। ১৯৯৯ সালে তার প্রতিষ্ঠানকে কিনে নেয় কমপ্যাক। মালিকানা হাতবদল বাবদ মাস্কের হাতে আসে দুই কোটি ২০ লাখ ডলার।

মাস্ককে আজকের অবস্থানে আসতে সাহায্য করেছে অনলাইনে আর্থিক লেনদেন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান পেপাল।

১৯৯৯ সালে ডিজিটাল অর্থ লেনদেন সংস্থা এক্স ডটকম প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। পরে তা কনফিনিটি নামের এক প্রতিষ্ঠানের অধীনে চলে আসে। ২০০১ সালে এ প্রতিষ্ঠানটিরই নাম পরিবর্তন করে পেপাল রাখা হয়।

মহাকাশ নিয়ে বরাবরই আগ্রহ ছিল মাস্কের। আর তাই দশ কোটি ডলার বিনিয়োগ করে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন স্পেসএক্স। ওই সময়টিতে সস্তা এবং পুনঃব্যবহারযোগ্য মহাকাশযান তৈরিতে মনোযোগ দেন মাস্ক। সময়ের সঙ্গে এ খাতেও সাফল্যের দেখা পান। ২০২০ সালে এসে মহাকাশে মানব নভোচারী নিয়ে যাওয়া প্রথম ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখায় স্পেসএক্স।

টেসলা প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৩ সালে। কিন্তু ওই সময় মাস্ক পুরো প্রকল্পটির সঙ্গে ছিলেন না। পরবর্তীতে তিনি বিনিয়োগ করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ দেন। মাস্কের বিনিয়োগ ও কৌশল ৬০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি মূল্যমানের প্রতিষ্ঠানে নিয়ে এসেছে প্রতিষ্ঠানটিকে।

টেসলার এই উন্নতি অবশ্য সাম্প্রতিক। গত কয়েক মাসে টেসলার বাজার দর বেড়ে ২০ হাজার পাঁচশ’ কোটি ডলারে এসে দাঁড়ায়। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে দামি গাড়ি নির্মাতা হিসেবে নতুন খেতাব পায় প্রতিষ্ঠানটি।

টেসলা মালিকানার প্রায় ২০ শতাংশের মতো রয়েছে মাস্কের হাতে। ওই ২০ শতাংশই তাকে নিয়ে গেছে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর অবস্থানে।

লাল-নীল-গেরুয়া…! ‘রঙ’ ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা ‘খাচ্ছে’? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম ‘সংবাদ’!

‘ব্রেকিং’ আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের।

কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে ‘রঙ’ লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে ‘ফেক’ তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই ‘ফ্রি’ নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.
হ্যাঁ, আমি অনুদান করতে ইচ্ছুক >

করোনাকালে বিনোদন দুনিয়ায় কী পরিবর্তন? জানাচ্ছেন, চলচ্চিত্র সমালোচক রত্নোত্তমা সেনগুপ্ত I

Back to top button