Entrepreneur

বুয়েট শিক্ষার্থী মাইমুনার ‘হিজাবিয়ানা’

পাশে থেকে একটু ভরসা ও বিশ্বাস মানুষকে কতটা আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং সাফল্যের দিকে নিয়ে যায় তার প্রমাণ সফল উদ্যোক্তা মাইমুনা বিনতে রেজা। নানান বাধার সম্মুখীন হয়েও হাল না ছেড়ে সাফল্যের মুখ দেখেছেন কারণ কারো কোন কথা কানে না নিয়ে নিজের কাজে মন দিয়ে কাজ করে গেছেন।

মায়ের দেওয়া এক লাখ টাকার পুঁজি মাত্র তিন বছরে ২০ লাখ টাকায় নিয়ে গেছেন ব্যবসায় নিষ্ঠা আর সততা দিয়ে। মাইমুনা বিনতে রেজা একজন সফল উদ্যোক্তা ও ডিজাইনার। বুয়েটের ‘আরবান এন্ড রিজিয়োনাল প্লানিং’ এ বিএসসি শেষ করেছেন।

শুরুটা কেমন ছিলো এই Agambartaর? চলুন জানা যাক,২০১৬ সালে ছাত্রাবস্থায় বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে মাইমুনার কাঁধে। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গিয়েছিলো তাই নিজের ও তার মা’র দায়িত্ব তখন মাইমুনার ওপর এসে পড়ে। বড় বোন  ব্যবসা করার পরিকল্পনা দেন।

মাইমুনা বিনতে রেজা তখন পড়াশোনা করতেন মাত্র দ্বিতীয় বর্ষ শেষ করে তৃতীয় বর্ষে। বড় বোন মারিয়া যেহেতু ডিজাইন ভালো পারতেন তাই ডিজাইনের মধ্যেই কিছু করার চিন্তা করলেন। প্রথমে হিজাব দিয়ে ব্যবসা শুরু এই Agambartaর তাই নামও দিলেন ‘হিজাবিয়ানা’।

পরে হিজাবের সাথে অ্যাবায়াস, গাউনস, হিজাব পিন, হিজাব স্কার্ফ, হিজাব ক্যাপ, সালোয়ার-কামিজ, ওয়ান-পিস, থ্রি-পিস ইত্যাদি বিভিন্ন রকম পণ্য যোগ করেন ‘হিজাবিয়ানাতে’।

মাইমুনা বিনতে রেজা উদ্যোক্তা বার্তাকে বলেন, ছাত্রাবস্থায় চাকরি পাওয়াটা অনেক কষ্টকর তাই  ভাবলাম নিজে কিছু করি তাহলে কোন নিয়ম কানুনের মধ্যে থাকতে হবে না, নিজের পড়াশোনাও ঠিক রাখতে পারবো সাথে আয়ও হবে। যা দিয়ে পরিবারের দেখাশোনা করতে পারবো।

ব্যবসা শুরুর মূলধন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এক লাখ টাকা দিয়ে শুরুটা ছিল। বাবা মারা যাবার পর মা এই টাকাটা দেন ব্যবসা করার জন্য। মা দ্বিতীয় বার আমাকে বলেননি টাকাটা সাবধানে খরচ করো। মা জানতেন আমি খারাপ কিছু করবো না। মায়ের সেই ভরসার কারণেই আজ আমি এখানে।’

সেই শুরুর এক লাখ টাকা এখন গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ টাকাতে। পেজ মেইনটেইন করার জন্য আছেন কিছু পেইড কর্মচারী।

মাইমুনা বিনতে রেজা বাধার সম্মুখীন হয়েছেন অনেক ভাবে তার মধ্যে তিনি বলেন, প্রথমত মেয়ে মানুষ ব্যবসা করবে এইটা নিয়ে অনেক কথা শুনতে হয়েছে। দ্বিতীয়ত পড়তাম তৃতীয় বর্ষে তাই পড়ার চাপ ছিলো অনেক। তারপর অনেকে বলেছেন, টেক্সটাইলে পড়ে এইগুলো করবা ভালো কোথাও ক্যারিয়ার গড়তে পারবা?

এমন রকম অনেক কথা শোনার পরও থেমে থাকেননি এই উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, আমার মা সবসময় পাশে থেকে আমাকে মানসিক ভাবে সহায়তা করেছেন। মায়ের জন্যই হিজাবিয়ানা সেই শুরু থেকে এই পর্যন্ত আসতে পেরেছে। সবটুকু কৃতিত্ব ও হিজাবিয়ানার সফলতা মায়ের জন্য।

ব্যবসার সফলতার ছোট্ট একটি উদাহরণ দিয়ে উদ্যোক্তা বলেন, এইবার আমি প্রথমবারের মতো বি’ইয়ার তরুণ উদ্যোক্তা পণ্য মেলাতে অংশগ্রহণ করেছিলাম। মেলা একটু দেরিতে শুরু হবে জানতে পেরে আমিও একটু দেরি করে যাই। গিয়ে  দেখি ২০ জন কাস্টমার আমার প্রোডাক্টের জন্য লাইন ধরে দাঁড়িয়ে  আছে।

পুরো মেলাতে আমার কাস্টমার বেশি ছিলো, এইটা নিঃসন্দেহে আমার জন্য অনেক সফলতার। প্রোডাক্টের জন্যই কাস্টমারদের এতো ভালোবাসা পাচ্ছি। এই মেলাতে অনেক সাড়া পেয়েছি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মাইমুনা বলেন, প্রথমে ঢাকাতে অফিস সাথে পিক-আপ পয়েন্ট এবং আমাদের বিক্রি বেশি  হয়  যেসব জায়গা গুলোতে তারমধ্যে চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট, কুমিল্লা, রাজশাহী, বরিশাল   এরকম কিছু জায়গায় শাখা দেওয়ার চিন্তা ভাবনা আছে।

দেশীয় হিজাব বিদেশেও জনপ্রিয় করার ইচ্ছা আছে Agambartaর। মাইমুনা বলেন, “আমার বড় একটা কাস্টমার আমেরিকা, কানাডা, দুবাই, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে। ইচ্ছা দেশীয় কারিগরের এই হিজাব ডিজাইন বিদেশে আরো বেশী করে ছড়িয়ে দিতে।”

খাদিজা ইসলাম স্বপ্না

The post বুয়েট শিক্ষার্থী মাইমুনার ‘হিজাবিয়ানা’ appeared first on Agambarta Barta.

Leave a Reply

Back to top button
Close