Economy

বেসরকারি প্রকল্পে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগে নতুন শর্ত

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পর্যটনসহ বিভিন্ন বেসরকারি খাতের অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যাংকের বিনিয়োগে নতুন শর্ত দিয়ে নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এখন থেকে বেসরকারি খাতের অবকাঠামো প্রকল্প বা কোম্পানিতে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করতে চাইলে বিনিয়োগ করা প্রতিষ্ঠানকে একবছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের পরিশোধিত মূলধনের পাঁচ শতাংশের বেশি প্রথম বছরে তালিকাভুক্ত করা যাবে না।

ব্যাংকের বিনিয়োগে গুণগত মান বৃদ্ধি, বাজারে তারল্য সৃস্টি এবং ঝুঁকি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে সরকারি কোম্পানিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আগের নিয়ম বহাল রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফসাইট সুপারভিশন বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর আগে গত বছরের ১৬ মে সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো প্রকল্প বা প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে ব্যাংকের বিনিয়োগ নিয়ে নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

একবছর আগের ওই সার্কুলার অনুযায়ী, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদিত স্পেশাল পারপাস ভিহাকল (এসপিভি), বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল বা সমজাতীয় কোনো তহবিলের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, যোগাযোগ অবকাঠামো, পর্যটন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো বাস্তবায়নে অর্থ সংগ্রহ করতে চাইলে সেখানে বিনিয়োগ করতে পারবে বাণিজ্যিক ব্যাংক।
তবে এসব অ-তালিকাভুক্ত অবকাঠামো প্রকল্পে  বিনিয়োগ করে বিপাকে পড়ছে ব্যাংকগুলো। কারণ ব্যাংকের তহবিল আটকে থাকছে এবং সেখান থেকে সহজেই বের হতে পারছে না। তাই এখন থেকে বেসরকারি খাতের কোনো অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যাংক বিনিয়োগ করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে বিনিয়োগের তারিখ থেকে ১ বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নিতে হবে।
নতুন প্রজ্ঞাপনে সার্কুলারে বলা হয়েছে, এ ধরনের কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির বিষয়ে বিনিয়োগকারী ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে অপরিবর্তনীয় সমঝোতা চুক্তি সম্পাদন করতে হবে। কোনো ব্যাংক এরই মধ্যে কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে থাকলে এই নির্দেশনা জারির ৬ মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিটি তালিকাভুক্তির বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। সরাসরি তালিকাভুক্তি পদ্ধতিতে সম্পাদন করতে হবে।
এতে আরও বলা হয়, শেয়ার প্রতি মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যাংক যে মূল্যে কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ সম্পাদন করেছে, তার গড় মূল্যের কম ধার্য করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের পরিশোধিত মূলধনের পাঁচ শতাংশের বেশি প্রথম বছরে তালিকাভুক্ত করা যাবে না। পাশাপশি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর বিনিয়োগকারী ব্যাংকের বিনিয়োগের নিরাপত্তার জন্য অ-তালিকাভুক্ত থাকাকালীন গঠিত কোনো বিশেষ তহবিল সংশ্লিষ্ট কোম্পানি পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে কেবল নগদ লভ্যাংশ প্রদান বা তফসিলি ব্যাংকের সঙ্গে থাকা দায় পরিশোধ করার কাজে ব্যবহার করতে পারবে।

সারাবাংলা/জিএস/টিআর

সূত্রঃ সারাবাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close