Technology

ভারতীয়দের করোনার রক্ষা কবচ হয়ে উঠেছে ৬০হাজার বছরের পুরনো জিন

নিউইয়র্ক : বর্ষা গিয়েছে , শীত গেল। এবার ফের আসছে গরম। আক্রমনের পর থেকে যখনই কোনও ঋতু পরিবর্তন হয়েছে বারবার বলা হয়েছে এইসময়ে ভারতে ব্যাপক আকার নেবে করোনা। হয়েওছে। শীর্ষে পৌঁছেছে সংক্রমণ। এখন তা অনেকটাই কম। সার্বিকভাবে দেখলে ভারতের মতো জনবহুল দেশে আক্রান্তের সংখ্যা যেমন তুলনামূলক কম তেমনই করোনাকে হারানোর সংখ্যাও প্রচুর বেশী। বেশীরভাগ মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে তথ্য মিলেছে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে। এর কারণ খুঁজতে বিজ্ঞানীরা নয়া তত্ত্ব খুঁজে পেয়েছেন। তাঁরা বলছেন এর জন্য দায়ী নিয়ানডার্থালের প্রজাতির মানবের ডিএনএ, যা ভারতের মানুষের মধ্যে রয়েছে হাজার হাজার বছর ধরে। সেটাই করোনার বিরুদ্ধে মানুষকে লড়তে ব্যাপকভাবে সাহায্য করছে। এর জেরেই মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়া রোগীর সংখ্যাও কম।

জাপান ও জার্মানির বিজ্ঞানীরা বলছেন , নিয়ান্ডারথালের প্রজাতির মানব ও আধুনিক মানবের মধ্যে যৌন সংসর্গ হয়েছিল। তার ফলেই সেই জিন থেকে গিয়েছে ভারতের মানুষের মধ্যে আর সেটাই বড় ঢাল হচ্ছে করোনার বিরুদ্ধে লড়ার জন্য। প্রসঙ্গত অন্য একটি গবেষণাপত্র অনুযায়ী, নিয়ানডার্থাল মানবের থেকে মানুষের দেহে এসেছে করোনাভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত জিন। যে ‘হোমিনিন’ (মনুষ্যগোত্রীয়) গোষ্ঠীর প্রজাতির অস্তিত্ব পৃথিবীতে ৬০,০০০ বছর আগে ছিল। এমনটাই দাবি করা হয়েছিল ওই গবেষণায়। সেই গবেষণা করেছিলেন সুইডেনের দুই জিন বিশেষজ্ঞ ভ্য়ান্তে পাবো এবং হুগো জেবার্গ। তাতে যুক্ত ছিল জার্মানির ম্যাক্স প্লাঙ্ক ইনস্টিটিউট, জাপানের ওকিনাওয়া ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্য়ান্ড টেকনোলজি এবং সুইডেনের ক্যারোলিনসকা ইনস্টিটিউটও। গবেষণা অনুযায়ী, ইউরোপের (প্রায় আট শতাংশ) তুলনায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের (প্রায় ৩০ শতাংশ) মানুষের সংক্রমিত হওয়ার হার বেশি। কারণ ওই জিনের অংশ দক্ষিণ এশিয়ার মানুষদের ক্ষেত্রে বেশি প্রভাবশালী বলে গবেষণায় দাবি করা হয়েছে।

নিয়ানডার্থাল একটি জীবাশ্ম-নৃতাত্ত্বিক প্রজাতির নাম যারা প্লাইস্টোসিন যুগে বাস করতো। এরা হোমো গণের অন্তর্ভুক্ত। এজন্যই তাদের দ্বিপদী নাম ‘Homo neanderthalensis’ বা ‘Homo sapiens neanderthalensis’। তাদের আবাসস্থল ছিল ইউরোপ এবং এশিয়ার মধ্য ও পশ্চিম অঞ্চল। ৬০০,০০০ – ৩৫০,০০০ বছর আগে ইউরোপে প্রথম প্রাক-নিয়ানডার্থাল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব ঘটে।

এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলোকে অনেক সময় ‘Homo heidelbergensis’ নামক অন্য একটি ক্ল্যাডিস্টিক প্রজাতির বৈশিষ্ট্য শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যেখানে জীবাশ্ম হয়ে যাওয়া কঙ্কালের অবশেষ পাওয়া যায়নি সেখানেও ব্যবহৃত পাথরের যন্ত্রপাতির মাধ্যমে নিয়ানডার্থালদের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়। নিয়ানডার্থালদের করোটির ক্ষমতা আধুনিক মানুষের চেয়ে বেশি। এটা নির্দেশ করে, সম্ভবত তাদের মস্তিষ্কের আকারও মানুষের চেয়ে বড় ছিল। তারা মূলত মাংসাষী ছিল, এ কারণে শিকারেও তাদের দক্ষতা ছিল অতুলনীয়। গড়পরতায় তাদের উচ্চতা তখনকার হোমো স্যাপিয়েন্সদের সাথে তুলনীয় ছিল।

পুরুষদের উচ্চতা ছিল ১৬৫-১৬৮ সেমি (৫’৫), হাড়ের শক্তিশালী গড়নের কারণে তারা বেশ ভারী ছিল। তাদের হাত ও বাহুতে অনেক শক্তি ছিল। নারীদের উচ্চতা ছিল ১৫২-১৫৬ সেমি (৫’১)। তাদের স্তনের আকৃতি খুব বড় ছিল। কারণ খুব দ্রুত মস্তিষ্কের আকার বৃদ্ধির জন্য প্রচুর শক্তির প্রয়োজন ছিল। আর নিয়ানডার্থাল শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে এই শক্তির একমাত্র উৎস ছিল মায়ের স্তন্য।

লাল-নীল-গেরুয়া…! ‘রঙ’ ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা ‘খাচ্ছে’? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম ‘সংবাদ’!

‘ব্রেকিং’ আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের।

কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে ‘রঙ’ লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে ‘ফেক’ তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই ‘ফ্রি’ নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.
হ্যাঁ, আমি অনুদান করতে ইচ্ছুক >

জীবে প্রেম কি আদৌ থাকছে? কথা বলবেন বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ অর্ক সরকার I।

Back to top button