offbeat news

ভারতের সমাজ সংস্কারে নেমেছিলেন সাহেব, মৃত্যুর পরেও দেওয়া হয়েছিল কঠিন শাস্তি

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : তিনি বাংলায় ইংরেজী শিক্ষা প্রবর্তনের অন্যতম পথিকৃৎ। এমন সমাজ সংস্কারের ফল হয়েছিল মারাত্মক। মৃত্যুর পরেও তাঁকে কষ্ট দেওয়া হয়েছিল। ঠাই হয়নি খ্রিষ্টান কবরখানায়। তিনি ডেভিড হেয়ার।

১৭৭৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি এমন দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বিখ্যাত এই সমাজ সংস্কারক। এসেছিলেন ব্যাবসায়ী হয়ে। পরে সমস্ত ছেড়ে দিয়ে নেমে যান ভারতের মানুষের উন্নতিতে। চেষ্টা শুরু করেন সমাজের ভাবনা পরিবর্তনের। শিক্ষার আল ফোটাতে সফল হয়েছিলেন তিনি। এমন ভালো কাজের জন্যই তৎকালীন ইংরেজ সরকার তাঁকে মৃত্যু পরবর্তী জীবনে শাস্তি দিয়েছিল।

হেয়ার সাহেবের ভারত আগমন ঘড়ি ব্যাবসায়ী হিসাবে। পরে সব ছেড়ে দেন। নিজেকে নিযুক্ত করেছিলেন সমাজ সংস্কারে। ১৮০০ সালে হেয়ার কলকাতায় এসেছিলেন। ঘড়ি ব্যাবসা ভালোই ফুলে ফেঁপে উঠেছিল। ঘড়ি তৈরিও করতেন ও সারাইয়ের কাজও করতেন। উপার্জিত বিপুল অর্থ নিয়ে তিনি দেশে চলে যেতেই পারতেন। যাননি। এই বাংলায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন। জীবন অতবাহিত করেন এই পোড়া দেশের দুঃস্থ মানুষের কল্যাণের স্বার্থে।

১৮১৭ সালে কলকাতায় হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠা ছিল সমাজহিতৈষী হিসেবে ডেভিড হেয়ারের প্রথম উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। একই বছর হেয়ার ইংরেজি এবং বাংলা পুস্তক মুদ্রণ ও প্রকাশনার জন্য ‘কলিকাতা স্কুল বুক সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা করেন। কলকাতায় মেয়েদের জন্য বেশ কিছু অনানুষ্ঠানিক স্কুল স্থাপন করে হেয়ার নারীশিক্ষার পক্ষে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। সমাজসেবায় সম্পূর্ণ সময় দেবার তাগিদে ১৮২০ সালে তিনি তাঁর ব্যবসা বন্ধু গ্রে সাহেবকে বিক্রি করে দেন।

রাজা রামমোহন রায় এবং ডিরোজিওর সঙ্গে ডেভিড হেয়ারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। ইয়ং বেঙ্গলের একজন মিত্র হিসেবে হেয়ার তাদের সংগঠন ‘Society for the Promotion of General Knowledge (১৮৩৮)-এর পৃষ্ঠপোষক হন। নিষ্ঠুর শ্রম আইনের বিরুদ্ধে হেয়ার জনমত গড়ে তোলেন।ওই আইনের আওতায় সে সময়ে ভারতীয় শ্রমিকদের দাস হিসেবে ইউরোপের উপনিবেশগুলোতে পাঠানো হত। ঔপনিবেশিক আমলের উৎপীড়নমূলক, অমানবিক আইনের সংস্কার সাধনের জন্য তিনি জনমত সৃষ্টির চেষ্টা করেন। দেশীয় সংবাদপত্রের ওপর থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের জন্যও সংগ্রাম করেন।

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা(১৮৩৫) ও দেশীয় ছাত্রদের পাশ্চাত্য চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়নে উৎসাহিত করার ব্যাপারেও ডেভিড হেয়ার বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪২ এর পয়লা জুন কলেরায় আক্রান্ত হয়ে ডেভিড হেয়ারের জীবনাবসান হয়। দেশীয় মানুষজনের প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তাঁর মরদেহ খ্রিষ্টান কবরখানায় স্থান দেওয়া হয় নি। অবশেষে বর্তমান কলেজ স্কোয়ার বা গোলদিঘীর প্রান্তে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়।

লাল-নীল-গেরুয়া…! ‘রঙ’ ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা ‘খাচ্ছে’? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম ‘সংবাদ’!

‘ব্রেকিং’ আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের।

কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে ‘রঙ’ লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে ‘ফেক’ তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই ‘ফ্রি’ নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.
হ্যাঁ, আমি অনুদান করতে ইচ্ছুক >

সিনেমার বড় পর্দা থেকে টেলি পর্দার জগতে কতটা সম্মান পাচ্ছেন মেয়েরা? জানাবেন মিডিয়া টিচার অনুজা বাগচী।

Back to top button