International

ভারত-চিন সংঘাতের আবহে জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে অস্ট্রেলিয়া

সিডনি:  ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমশ বাড়ছে উত্তেজনা। ইতিমধ্যে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একাধিক যুদ্ধ জাহাজ পাঠিয়ে রেখেছে আমেরিকা। চিনের নৌবাহিনীরও পালটা যাতায়াত এই অঞ্চলে স্বভাবতই ব্যাপক উত্তেজনা। এই পরিস্থিতিতে সামরিক ব্যয় ব্যাপক পরিমাণে বাড়ানোর ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ওপর বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে চায় ক্যানবেরা। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে আগামী দশ বছরে অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাজেট ৪০ শতাংশ বাড়িয়ে ২৭ হাজার কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভবিষ্যতের যুদ্ধ মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করতে এই বরাদ্দ চেয়েছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গিয়েছে।
দীর্ঘ দিন বাণিজ্য সম্পর্ক সত্ত্বেও করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে অস্ট্রেলিয়া এবং চিনের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী চিনের বিরুদ্ধে ভাইরাসটি ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। যদিও সেই অভিযোগ বেজিং উড়িয়ে দিয়েছে। আর তা নিয়ে কার্যত দুই দেশের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে এসে দাঁড়িয়েছে। যার প্রভাব ইতোমধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কের ওপরও পড়েছে।
এর মধ্যেই সামরিক ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব আনলেন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী। যা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। স্কট মরিসন বলছেন, সামরিক ক্ষেত্রে ব্যয় বাড়ানোর দরকার হয়ে পড়েছে। তার কারণ হিসাবে তিনি জানিয়েছেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল বর্তমান সময়ের লড়াইয়ের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠছে। তিনি বেশ কয়েকটি উত্তেজনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
এর মধ্যে রয়েছে ভারত ও চিনের সীমান্ত সংঘাত আর দক্ষিণ চিন সমুদ্র ও পূর্ব চিন সমুদ্র ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা। প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা বাজেট অস্ট্রেলিয়ার জিডিপি’র প্রায় দুই শতাংশ। তিনি বলছেন, এর বেশিরভাগই ব্যয় হবে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উন্নয়নে। মার্কিন নৌবাহিনীর কাছ থেকে ২০০টি দীর্ঘ পাল্লার জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কিনবে অস্ট্রেলিয়া।

এগুলি ৩৭০ কিলোমিটার দূরে পর্যন্ত আঘাত হানতে পারে। এছাড়া শব্দের চেয়ে দ্রুত গতিতে ছুটতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে আরও বিনিয়োগ করবে এই সংস্থা। এসব ক্ষেপণাস্ত্র হাজার হাজার মাইল দূরে আঘাত হানতে পারে। এছাড়া দেড় হাজার কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার বিনিয়োগ হবে সাইবার যুদ্ধ মোকাবিলার সরঞ্জাম উন্নয়নে। প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলছেন ভবিষ্যতে এই খাতে ব্যাপক আকারের হুমকি মোকাবিলা করতে হবে।

গত মাসে তিনি অভিযোগ করেন অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সংস্থা ও বাণিজ্যের ওপর সাইবার হামলার চেষ্ট চলছে। মূলত চিনকে সামনে রেখেই এহেন অভিযোগ করেছিল অস্ট্রেলিয়া। মরিসন বলেছেন, আমেরিকা এবং চিনের মধ্যে উত্তেজনা গত কয়েক বছর ধরেই বেড়েছে।
তিনি বলেন, করোনাভাইরাস দু’দেশের এই উত্তেজনাকে সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে। আর গত কয়েক দশকের মধ্যে বিশ্বের নিরাপত্তা ভয়ানক হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে সামরিক ক্ষেত্রে নিজেদের মজবুত হওয়াটা খুব প্রয়োজন বলে মন্তব্য অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর।

কলকাতার ‘গলি বয়’-এর বিশ্ব জয়ের গল্প

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close