Bangladesh

ভারত থেকে আজ আসছে অক্সফোর্ডের টিকার ৫০ লাখ ডোজ

ফাইল ছবি

ভারত থেকে অক্সফোর্ডের টিকার ৫০ লাখ ডোজ দেশে আসছে আজ সোমবার। এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে আজ সকাল সাড়ে ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই টিকা পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন বেক্সিমকো ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপন।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

করোনা মহামারির মধ্যে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি ডোজ টিকা পেতে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে দেশি প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মা ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী প্রথম চালানের ৫০ লাখ ডোজ টিকা দেশে আসছে।

বেক্সিমকো ফার্মার এমডি নাজমুল হাসান পাপন জানান, প্রথম লটের টিকার ৫০ লাখ ডোজ গ্রহণ করতে তিনি নিজেই বিমানবন্দরে যাবেন। ভারতের মুম্বাই থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট সকাল ৮টায় রওনা হবে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে সকাল সাড়ে ১১টায়। বিমানবন্দর থেকে গ্রহণ করে টিকাগুলো বেক্সিমকোর টঙ্গীর ওয়্যারহাউসে নিয়ে রাখা হবে। এই টিকা সংরক্ষণের জন্য নতুন করে বিশেষভাবে ওয়্যারহাউস তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তী প্রতি মাসে ৫০ লাখ করে ছয় মাসে তিন কোটি ডোজ আসবে।

গত বৃহস্পতিবার ভারত সরকারের উপহার হিসেবে অক্সফোর্ডের টিকার ২০ লাখ ডোজ দেশে আসে। ওই টিকা রাজধানীর তেজগাঁও সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির স্টোরে রাখা হয়েছে।

এদিকে আগামী বুধবার দেশে ড্রাই রান বা টিকাদানের মহড়া শুরু হবে। ওইদিন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে এক নার্সকে টিকাদানের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রথম দিন সরাসরি করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে টিকা দেওয়া হবে। ব্যাপক হারে টিকাদান কার্যক্রম শুরুর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চারশ থেকে পাঁচশ জনকে টিকা দিয়ে সাত দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। প্রতিদিন দুই লাখ ডোজ করে প্রথম মাসে ৬০ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া হবে।

গতকাল রবিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের জানান, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে সরকার অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার যে তিন কোটি ডোজ টিকা কিনেছে, তার প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ টিকা সোমবার দেশে আসবে। ওই টিকা গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিশ্বজুড়ে করোনার টিকা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশেও সে অনুযায়ী টিকা দেওয়া হবে। টিকা নিয়ে সমালোচনার জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, টিকার বিষয়ে অনেকে অনেক কথা বলেন। একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলতে চাই- টিকা নেওয়া ব্যক্তির স্বাধীন বিষয়। জোর করে কাউকে টিকা দেওয়া হবে না।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘টিকা নিয়ে অনেকে বিদ্রূপ করছে, এটি ঠিক নয়। মানুষের জীবনের চিন্তা করে আমরা টিকা দিচ্ছি। এটি রাজনীতি বা কৌতুকের বিষয় নয়। ‘

সাড়ে ছয় হাজার কেন্দ্রে টিকাদানের প্রস্তুতি: জাতীয়ভাবে কভিড-১৯-এর টিকা বিতরণ ও প্রস্তুতির পরিকল্পনা অনুযায়ী, সারাদেশে সাড়ে ছয় হাজার কেন্দ্র থেকে এই টিকা বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে চার হাজার ৬০০টি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ১০ ও ২০ শয্যার হাসপাতালে ছয়শ কেন্দ্র, জেলা সদর হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল মিলে আরও চারশ, সিটি করপোরেশন এলাকার বিশেষায়িত হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়, নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে আটশ, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, পুলিশ হাসপাতাল, সচিবালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং সংসদ সচিবালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র মিলে আরও একশ টিকাদান কেন্দ্র থাকবে। শুরুর দিকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম চলবে। ২০ হাজার ৮০০ স্বাস্থ্যকর্মী টিকা প্রয়োগে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকবেন। তাদের সহায়তার জন্য ৪১ হাজার ৬০০ স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন। সারাদেশের জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকা বহনে পাঁচ হাজার ৪৬৯ জন বহনকারী এবং আট হাজার ৮৬৯ জন সুপারভাইজার থাকবেন।

সূত্রঃ zoombangla

Back to top button