Bangladesh

ভোলায় ইলিশ শিকারের প্রস্তুতি জেলেদের

ভোলা জেলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে ইলিশ শিকারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেলেরা। আষাঢ়ের বর্ষণে সামনে ইলিশের ভরা মৌসুম। তাই মৎস্য শিকারে যাওয়ার জন্য জেলার প্রায় ৪ লাখ জেলে জাল বুনন, ট্রলার মেরামত ও পুরাতন জাল রিপু করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গত বছর এ জেলায় প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় এবছর আগ্রহ অনেক বেড়েছে জেলে পল্লীগুলোতে। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ধার-দেনা করে পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে ইলিশ ধরার। তারা স্বপ্ন দেখছেন ইলিশের প্রাচুর্যতায় তাদের অভাব দূর হবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আজাহারুল ইসলাম বাসস’কে জানান, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নদীতে পানি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে ইলিশ আসাও শুরু করেছে। সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কোন জাল নেই, তাই নদীতে নির্বিঘেœ ইলিশ আসতে পারবে। সামনের দিনগুলোতে জেলেরা তাদের কাঙ্খিত ইলিশ পাবেন। মার্চ ও এপ্রিল ২ মাস অভায়শ্রমে ইলিশসহ সব ধরেনের মৎস্য রক্ষা কার্যক্রম কঠোরভাবে পালিত হয়েছে। এটারও একটা ভালো প্রভাব পড়বে।

তিনি আরো বলেন, জাটকা ইলিশ আহরণে বিরত থাকা ৮৬ হাজার জেলে পরিবারের জন্য মার্চ-জুন এ চার মাসে প্রত্যেককে ১৬০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে এবছর ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করা যাবে বলে মনে করেন তিনি।

সরেজমিনে ভোলার মেঘনা পাড়ের জেলে পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, জেলেদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। কেউ পুরনো জালকে নতুন করে রিপু করছে। কেউ বা নতুন জাল বুনতে ব্যস্ত। আবার কেউ নৌকা-ট্রলার মেরামত করছে। কেউ নৌ-যানের নিচের অংশে পুডিং ও আলকাতরা লাগাচ্ছেন। সব মিলিয়ে একটা কাজের সময় বিরাজ করছে পল্লীগুলোতে। শিশু থেকে শুরু করে কেউ বসে নেই। সম্মিলিতভাবে পরিবারের সবাই কাজে হাত লাগাচ্ছে।

এখানকার জেলে লোকমান হোসেন ও ফরহাদ মাঝি বলেন, কয়েক পুরুষ ধরে মাছ ধরাই তাদের পেশা। আগে জ্যৈষ্ঠ মাস থেকেই ইলিশরে মৌসুম শুরু হতো। কিন্তুু এখন মৌসুম বদলে গিয়ে আষাঢ়’র মাঝামাঝি থেকে শুরু করে আশ্বিন মাস পর্যন্ত ইলিশের সময় থাকে। আর সাম্প্রতি নদীতে মাছও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা মনে করেন, এজন্য সরকারের জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম প্রধান ভূমিকা রাখছে।

জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি মো: নুরুল ইসলাম বাসস’কে জানান, বর্ষাকালের সাথে ইলিশের মৌসুমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকে। যেহেতু আজ পহেলা আষাঢ়, তাই বলা যায় সমানেই ইলিশের ভরা মৌসুম। এ সময়টাকে সামনে রেখে জেলার ৭ উপজেলার প্রায় ৮ হাজারের বেশি নৌকা-ট্রলার প্রস্তুত করা হচ্ছে। গতবার ব্যাপক ইলিশ পাওয়ায় এবার উৎফুল্ল চিত্তে রয়েছে জেলেরা। এবারো ব্যপক ইলিশের আশায় প্রস্তুতি চলছে বলে জানান জেলেদের এ নেতা।

শীবপুর ইউনিয়নের মেঘনা পাড়ের বাসিন্দা বক্কর মাঝি, জাফর মাঝি ও কালাম মাঝি বলেন, গত বছর নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় এবার এনজিওর কাছ থেকে প্রত্যেকে ৩০ হাজার টাকা করে ঋণ নিয়েছেন। এ টাকায় নতুন জাল ও ট্রলার মেরামত করছেন তারা। আশা করছেন প্রচুর ইলিশ ধরার মাধ্যমে লাভবান হবেন তারা। ধনীয়া ইউনিয়নের কোরার হাটের জেলে আমিন মাঝি ও জসিমউদ্দিন মাঝি বলেন, বৃষ্টি বাড়ার সাথে সাথে নদীতে ইলিশ মাছের চাপ আসে।তখন ট্রলার নিয়ে উত্তাল মেঘনার মাঝে জাল তোলা হয় এবং ইলিশ পাওয়া যায় ঝাঁকে ঝাঁকে। এবারো সেই আশা তাদের।

শীবপুর ইউনিয়নের ভোলার খালের মাছের আড়ৎদার মো: জোবায়ের বলেন, এখন পর্যন্ত জেলেদের জালে অল্প সংখ্যক ইলিশ ধরা পড়ছে। প্রতিবছর ইলিশের মৌসুমে মাছের ঘাটগুলো জমজমাট হয়ে উঠে। তাই সামনের ইলিশের সময়কে রেখে আড়ৎগুলোতে সংস্কারের কাজ চলছে। একইসাথে মাছ রাখার গোলা, সাঝি পরিস্কার করা হয়েছে।

স্থানীয় বরফকলের ম্যানেজার মো: আলাউদ্দিন জানান, গত বছর জেলায় সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়েছিলো। বরফ তৈরিতে তাদের ব্যস্ত থাকতে হয়েছিল তখন। লাভও হয়েছে ভালো। মূলত ইলিশের সময় উপর ভিত্তি করেই বরফের ব্যবসা চলে। তাই সামনের ইলিশের মৌসুম ঘিরে বরফ তৈরিরও প্রস্তুতি চলছে তাদের।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরো জানান, জেলেদের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নতির জন্য মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে সাসটেইনেবল কোষ্টাল এন্ড মেরিন ফিসারিজ প্রকল্প’র মাধ্যমে জেলার ৭ উপজেলার ৭০ টি গ্রাম নির্বাচন করা হয়েছে। প্রত্যেকটি গ্রামে ৮০ থেকে ১২০ জন নিবন্ধিত গরীব মৎস্যজীবীদের নিয়ে একটা দল গঠন করা হয়েছে এবং প্রত্যেকটি দলকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। প্রত্যেক দলকে ৬ লাখ টাকা করে একটি ফান্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী অর্থবছর থেকে প্রত্যেকটি ফান্ডে ১০ লাখ টাকা করে দেয়া হবে। সূত্র: বাসস

আজকের জনপ্রিয়:>> লাশ কাটা ঘরে লাশের সাথে কি করা হয় জানেন ? আপনার কল্পনা কেও হার মানাবে>>
অনেকেই জানেন না অল্প বয়সে চুল পাকার কারণ

Share:

সূত্রঃ zoombangla

Back to top button