আন্তর্জাতিক

মায়ানমারে ফের গণহত্যার শিকার হতে পারে রোহিঙ্গা জনগণঃ রিপোর্ট – আগাম বার্তা

নেপিদ ও রাষ্ট্রসংঘ : মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে যে সব রোহিঙ্গা জনগণ এখনও রয়েছে, তারা দেশটির সেনাবাহিনী কর্তৃক ফের গণহত্যার শিকার হতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রবল। এমনই রিপোর্ট দিয়েছে রাষ্ট্রসংঘ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন।

এর আগে রোহিঙ্গা জনবসতি পূর্ণ এলাকায় গণহত্যা ও প্রবল অত্যাচারের অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছে মায়ানমারের সেনা। সেই আতঙ্কে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

এদিকে আশ্রিত এই ১১ লক্ষের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আর রাখা সম্ভব নয় বলেই জানিয়েছে তাদের ফেরত পাঠাতে তৎপর বাংলাদেশ সরকার। সর্বশেষ নির্ধারিত দিনেও তাদের ফেরত পাঠাতে পারা যায়নি। শরণার্থী রোহিঙ্গারা নিজেদের জীবন ঝুঁকি নিতে রাজি নয় বলেই সেই উদ্যোগে অংশ নেয়নি।

আরও পড়ুন : পাকিস্তানে হিংসা বন্ধে উদ্যোগ নিন, মোদীকে অনুরোধ পাক সমাজকর্মীর

এমনই পরিস্থিতিতে, সোমবার রাষ্ট্রসংঘের ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন’ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়ে দেয়, মায়ানমারে এখনও যে সব রোহিঙ্গা রয়েছে তাদের জীবনের আশঙ্কা প্রবল। রিপোর্টে বলা হয়েছে, মায়ানমার সেনাবাহিনির কয়েকজন জেনারেলকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, পূর্বতন আরাকান বা এখনকার রাখাইন প্রদেশে এখনও প্রায় ৬ লক্ষ রোহিঙ্গা বাস করছে। তাদের চলাফেরায় প্রবল কড়াকড়ি করেছে মায়ানমার সরকার। এই কারণেই বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১১ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থী রাখাইন প্রদেশ ফিরতে চাইছে না।

আরও পড়ুন : নয়া নিয়মের গেরো, আধার কার্ড বানাতে ব্যাংকের বাইরে রাতভর লম্বা লাইন

এর আগেও রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে মায়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার ও গণহত্যার অভিযোগের রিপোর্ট দেওয়া হয়। যদিও নোবেল জয়ী নেত্রী সু কি-এর নেতৃত্বে চলা সরকার সেই অভিযোগ খারিজ করে। বলা হয়, রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা রুখতে অভিযান চালিয়েছিল সেনা।

রিপোর্টে উঠে এসেছে, ২০১৭ সালে ২৫ অগস্ট রাখাইন প্রদেশের ৩০টি সেনা চৌকিতে একযোগে হামলা হয়। এরপর মায়ানমার সেনাবাহিনি রোহিঙ্গাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় গণহত্যা। প্রাণ বাঁচাতে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা সমুদ্রপথ বা স্থলপথে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে ঢুকে পড়ে।

Leave a Reply

Back to top button
Close