offbeat news

মৃত্যুর ১৪ বছর পর ভারতীয় গির্জা থেকে দেশে ‘ফিরেছিলেন’ ভাস্কো দা গামা

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : এলেন , দেখলেন , জয় করলেন মানে ওই ভিনি ভিডি ভিসি বিষয়টা তাঁর সঙ্গে হয়নি। অনেক বিতর্ক জড়িয়ে ভাস্কো দা গামার (vasco da gama) ভারতে (India) আগমন নিয়ে। ইতিহাস ঘাঁটলে বলা যেতেই পারে ভারতে বিদেশি ঔপনিবেশিকতার পথ খুলে দিয়েছিলেন এই পর্তুগিজই। তাই তিনি একটা ইতিহাস তো বটেই। প্রাণটাও গিয়েছিল এই ভারতেই। প্রাণহীন দেহ দেশে ফিরেছিল প্রায় দেড় দশক পর। আজকের দিনেই ভারতে এসেছিলেন তিনি।

কোচির (Cochi) গির্জায় গেলেই দেখা মিলবে দা গামার শেষ চিহ্নের। ১৪৯৮ সালের ২০ মে। ভাস্কো দা গামা নৌবহর নিয়ে ভারতের কালিকটের কাছেই অবস্থিত কাপ্পাডুতে এসে উপস্থিত হন৷ পর্তুগিজদের ভারতে আসার মূল উদ্দেশ্য ছিল, বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থোপার্জন ও ঐশ্বর্য সংগ্ৰহ করা এবং খ্রিস্টান ধর্ম প্রচার। কোনওটাই সেবার ঠিকমতো হয়নি।

ভাস্কোর ভারতে পৌঁছনোর সময় তৎকালীন কালিকটের রাজা সামুদিরি। সেই সময়ে তিনি তাঁর দ্বিতীয় রাজধানী পোন্নানিতে ছিলেন। বিদেশি নৌবহর আসছে! খবর শুনেই তিনি কালিকটে ফিরে আসেন৷ বিশাল শোভাযাত্রার মাধ্যমে জাহাজের নাবিকদের অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল। সবই ভালো ছিল। ব্যবসা করতে চাইতেই রাজা বেঁকে বসেন। বলেই দেন সোনা কর দিয়ে ব্যবসা করতে হবে। এসব দিতে রাজি ছিলেন না তিনি। দেশে ফেরত যাবার সময় ভাস্কো প্রচুর লুঠ চালিয়ে যান ভারতে। ইতিহাস বলছে, তিনি জাহাজে তার অভিযানের খরচের ষাট গুণ বেশি জিনিস নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন।

পরে আরও দুবার ভারতে আসেন তিনি। তৃতীয় ভারত অভিযানের সময় ১৫২৪ সালে ভাস্কো দা গামার মৃত্যু হয়। কোচির সেন্ট ফ্রান্সিস গির্জায় তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়।

১৫০৩ সাল। পর্তুগিজ পেড্রো আলভারেজ ডি ক্যাব্রাল একটি গির্জা তৈরি করান। আলভারেজ আগে এখানে একটি কেল্লা গড়েন এবং তার ভিতরেই তৈরি করেন এই গির্জা। কালিকটের রাজার অনুমতি নিয়েই তৈরি হয় এটি। তখন এর নাম সেন্ট বার্থোলোমিউ। গির্জাটি ছিল সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি। ১৫১৬ সালে, বার্থোলোমিউ গির্জার সংস্কার করা হয়। নাম হয় সেন্ট ফ্রান্সিস চার্চ। এখানেই রয়েছে ভাস্কোর ভারতে থাকার শেষ চিহ্ন।

১৫২৪ সাল, তৃতীয় বারের জন্য ভারতে আসেন। মারা যান এখানেই। সেদিন ওই গির্জাতেই তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। ১৪ বছর পরে তাঁর দেহ যায় লিসবনে। তবে আছে ডা গামার সমাধি ফলক।

প্রসঙ্গত, তিনিই সেই পর্তুগিজ পর্যটক যিনি ৫২২ বছর আগে সমুদ্রপথে ইউরোপ থেকে ভারতে আসেন। প্ৰথম ইউরোপীয় ভাস্কো যিনি ব্যক্তি যিনি সম্পূৰ্ণ সমুদ্র পথে ভারতে আসেন। তার আগমন এশিয়া এবং ইউরোপকে জুড়ে দিয়েছিল। সাথে সংযোগ করেছিল আটলান্টিক মহাসাগর এবং ভারত মহাসাগরকে।

লাল-নীল-গেরুয়া…! ‘রঙ’ ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা ‘খাচ্ছে’? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম ‘সংবাদ’!

‘ব্রেকিং’ আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের।

কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে ‘রঙ’ লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে ‘ফেক’ তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই ‘ফ্রি’ নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.
হ্যাঁ, আমি অনুদান করতে ইচ্ছুক >

Back to top button