International

মৃত্যুর ৯ মাস পর সৌদি থেকে দেশে ফিরলো লাশ

মৃ’ত্যুর ৯ মাস পর সৌদি আরব থেকে বৃহস্পতিবার (১৩ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আব্দুর রহিমের লা’শ পৌঁছায় নিজ বাড়িতে। সেখানে এক হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজন হা’রানোর ক’ষ্টে আপনজনদের চোখের জল শুকিয়ে গেছে। শোকে তারা কাতর।

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজে’লার বড়বাজু পাথাইলকান্দি গ্রামের মৃ’ত নসকর আলীর ছেলে আব্দুর রহিম (৫২) প্রায় ১৭ বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবের জেদ্দায় যান। কঠোর পরিশ্রম করে রোজগারের টাকা বাড়িতে নিয়মিত পাঠাতে থাকেন। তিনি কয়েক বছর পরপর দেশে আসতেন। সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল। ৩ মেয়ে নিয়ে স্ত্রী’ লিলি বেগম স্বাভাবিকভাবেই জীবন যাপন করছিলেন।

কিন্তু ২০১৯ সালের ১৭ মে সিলিন্ডার বিস্ফোরনে কর্মক্ষেত্রে আব্দুর রহিম মা’রা যান। পরিবারের সদস্যদের জীবনে নেমে আসে চরম অন্ধকার। একমাত্র ভরসার ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী’ সন্তানদের আকাশ ভেঙে পড়ে মাথায়।

নি’হত আব্দুর রহিমের মেয়ের জামাতা নাহিদ সরকার বলেন মা’রা যাওয়ার দীর্ঘ ৯ মাস অ’পেক্ষার পর আম’রা ওনার লা’শ ফিরে পেয়েছি। তিনি যেখানে কাজ করতেন সেখান থেকে কোন আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা পাই নাই। তদুপরি লা’শ ফিরে পেতে দূতাবাসসহ বিভিন্নস্থানে যোগাযোগ করতে আমাদের ৩০-৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

আব্দুর রহিমের বড় মেয়ে সাবিনা আক্তার পপি গাজীপুরের একটি গামের্ন্টস কারখানায় কাজ করেন, মেঝ মেয়ে পলি খাতুন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স পাশ করেছেন এবং ছোট মেয়ে গৃহিনী। পুরো পরিবারের দেখভাল এবং দায়িত্ব ছিল তার উপরই।

লা’শ ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিলাপ করতে করতে বলছেন এমন ভাগ্য যেন আর কারো কপালে না জুটে। কা’ন্না আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। তাদের দাবি সরকারের মাধ্যমে যদি কিছুটা আর্থিক সাহায্য কিংবা ক্ষতিপূরণ পাওয়া যেত , তাহলে তাদের অনেক উপকার হতো।

এ বিষয়ে কালিহাতীর সল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম বলেন পরিবারের আর্থিক দূরাবস্থা ঘুচাতে কৃষক পরিবারের সন্তান আব্দুর রহিম সৌদি আরবে যান। ম’র্মা’ন্তিকভাবে তিনি মা’রা যাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা এখন দিশেহারা। সরকার কিংবা কর্মকালীন সৌদি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্য পেলে পরিবারটা বাঁচতে পারবে। তিনি আরো বলেন স্থানীয় দেউপুর পশ্চিমপাড়া কবরস্থানে আব্দুর রহিমের লা’শ দাফন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close