Islam

ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক জব্দ মাছ মাদরাসায় গ্রহণ করা যাবে কী

কাউসার লাবীব: সরকার কর্তৃক কিছু নিষিদ্ধ সময় থাকে, যখন জেলেদের জন্য নদী/সমুদ্রে মাছ ধরা নিষেধ৷ তারপরেও কিছু সংখ্যক জেলেরা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ ধরে৷ সরকারী বাহীনির কাছে ধরা পরলে,বাহীনির লোকেরা মাছগুলো জব্দ করে নেয়৷ তাৎক্ষণিক জেল-জরিমানা ইত্যাদি শাস্তি দেয়৷ পরবর্তিতে জব্দকৃত মাছগুলো ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে সাধারণত বিভিন্ন কওমি মাদরাসায় দিয়ে দেয়া হয়৷

সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জেলেদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য শাস্তি হিসেবে তাদের মাছগুলো জব্দ করা ও জেল-জরিমানা ইত্যাদি বিষয়ক রাষ্ট্রীয় আইন কি? এবং ইসলাম এ ধরনের শাস্তির ক্ষেত্রে কি বলে? জব্দ করার পর মাছগুলো রাষ্ট্রের কোন খাতে ব্যয় হবে৷ এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় আইন কি? মাদরাসা কর্তৃপক্ষ উক্ত মাছগুলো সদকা ফান্ড অথবা গরিব ছাত্রদের জন্য গ্রহণ করতে পারবে কি না? আজকে আমরা এসব বিষয়ের শরয়ি সমাধান জানবো-

শরয়ি সমাধান

রাষ্ট্রীয় আইন ‘মৎস সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ এর ১১ নং ধারায় আসছে যে, প্রথমবার আইন ভঙ্গকারীর শাস্তি হবে কমপক্ষে ১ মাস হতে সর্বোচ্চ ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড এবং তৎসহ সর্বোচ্চ ১,০০০/- টাকা জরিমানা । এবং পরবর্তীতে প্রতিবার আইন ভঙ্গের জন্য কমপক্ষে ২ মাস হতে সর্বোচ্চ ১ বছর সশ্রম কারাদন্ড এবং তৎসহ সর্বোচ্চ ২,০০০/- টাকা জরিমানা ।

এছাড়া, মৎস হ্যাচারি আইন ২০১০ এর ১১ নং ধারার ৪ নং উপধারা হিসেবে আইন হল, জব্দকৃত মাছ কর্তৃপক্ষ তা ধ্বংস বা, ক্ষেত্রমত, নিলামে বিক্রয় করিতে পারবে। তারপর তা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবে।

তাই, রাষ্ট্রীয় সকল জনকল্যাণ আইন মান্য করা আবশ্যক। সেই হিসেবে তা অমান্য করা অবশ্যই অপরাধ। সেই হিসেবে রাষ্ট্রীয় আইন মেনে নিষিদ্ধ সময়ে নিষিদ্ধ মাছ শিকার থেকে বিরত থাকতে হবে। জনগণের প্রয়োজনে এভাবে ক্রয়বিক্রয় বন্ধ ও চালুর ঘোষণা দেবার অধিকার রাষ্ট্রের রয়েছে। এভাবে নিষিদ্ধ বিষয় ক্রোক করাও ইসলামী শরীয়তে জায়েজ রয়েছে।

জব্দকৃত সম্পদ রাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্র বা জনগণের কল্যাণী কাজে ব্যয় করতে পারে। সেই হিসেবে মাদরাসায় দান করাও সম্পূর্ণরূপে জায়েজ। তাই মাদরাসা কর্তৃপক্ষের জন্য তা গ্রহণ করাতে শরয়ি কোন বিধিনিষেধ নেই।

-সূত্র, আহলে হক মিডিয়া

সূত্রঃ www.ourislam24.com
ইসলাম সম্পর্কিত তথ্য পেতে ourislam24.com ভিজিট করুন

Back to top button