offbeat news

রাস্তারধারে বন্ধুর কোলে মাথা রেখে ঘরমুখী পরিযায়ী শ্রমিক, লকডাউনে অসহায়তার নির্মম ছবি

ভোপাল: জীবন যেন শাস্তি দিচ্ছে। লকডাউনে চারিদিকে শুধুই অসহায়তার নির্মম ছবি। রাস্তার ধারে বন্ধু কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে আর দেখা গিয়েছে তাঁর জন্য সাহায্যের জন্য আর্তি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে সেই ছবি। শ্রমিকদের বাড়ি ফেরার জন্য যে তীব্র কষ্ট তাঁর আঁচ এসে পৌঁছচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে।
মধ্যপ্রদেশের ভোপাল থেকে উত্তরপ্রদেশে বাড়ি ফিরছিলেন, শিভপুরি জেলায় রাস্তার ধারে বন্ধুর কোলে মাথা পেতে দিয়েছেন। বন্ধু সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়েছেন তবে শেষ রক্ষা করা যায়নি।
কয়েকঘণ্টা পরেই থেমে গিয়েছে লড়াই। লকডাউনে ফাঁকা রাস্তায় হেঁটে যাওয়ার অন্তরায় চরম রোদ, হাসফাঁসে গরম। আদ্রতা চিরকালের মতন শুষে নিয়েছে ২৪ বছরের একটি তাজা প্রাণ। হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা করা যায়নি।
অমৃত ছিল গুজরাত থেকে উত্তরপ্রদেশের পথে একদল শ্রমিকদের একজন। ট্রাকে করে যাচ্ছিলেন। পোশাক কারখানায় কাজ হারিয়ে যেন বাড়ি ফেরায় আরও কিছুটা তাড়া লেগেছিল। একদিকে কাজ হারানোর হতাশা অন্যদিকে পরিবার।
সুরাতের পোশাক কারখানায় কাজ হারিয়ে বাড়ি ফিরতে উত্তর প্রদেশের বস্তি এলাকায় পৌঁছতে অমৃত চেষ্টা থামায়নি। ইন্দোরগামী ট্রাকের পিছনে শুধু দাঁড়ানোর জায়গা পেতে ৪০০০ টাকা দিয়েছে সে। তবে এই গরমে অসুস্থ হয়ে যায় তাই শিভপুরিতে তাঁকে ট্রাক থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর বন্ধু ইয়াকুব তাঁকে ছেড়ে যেতে পারেনি, তাই সেও ট্রাক থেকে নেমে যায়।
পথচলতি মানুষের কাছে ইয়াকুবকে সাহায্য চাইতে দেখা যায় কারণ তাঁর কোলেই মাথা রেখেছিল অমৃত। তবে কেউ থামেনি। স্থানীয় একজন সেই ছবি ক্যামেরাবন্দি করেছেন, তবে যতক্ষনে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে ততক্ষনে অমৃত শেষ হয়ে গিয়েছে।

শিভপুরির সিভিল সার্জেন ডঃ পি কে খারে জানিয়েছেন, “অমৃত জ্বরে ভুগছিলেন এবং বমিও করছিলেন। অতিরিক্ত গরমে শরীর বিভিন্ন জ্বালাযন্ত্রণায় ভুগছিলেন তবে করোনা পরীক্ষা করা হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে”।
ইয়াকুবকে জেলা হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তাঁরও করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে তবে রিপোর্ট এখনও আসেনি।
দু’মাসের লকডাউনে কাজ হারিয়েছেন লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক। বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন, বিশ্বাস শত কিলোমিটার পেরিয়ে হলেও বাড়ি পৌঁছবেন। কেউ বা হেঁটে কেউবা সাইকেলে। তবে কিছুদিন আগে থেকে স্পেশাল ট্রেন দেওয়া হলেও মানুষ অনেক।
কেন্দ্রকে পথচলতি শ্রমিকদের খাবার-জল দিতে বলার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার জানিয়েছে, আদালতের পক্ষে কে হাঁটছে আর কে হাঁটছে না তা দেখা সম্ভব নয়। এসব রাজ্যের কাজ। এসব কোর্ট কেন শুনবে এবং সিদ্ধান্ত নেবে”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close