Entrepreneur

শ্যামলের ‘ব্যাড হ্যাবিট’

তরুণ উদ্যোক্তা মহিউদ্দিন শ্যামল পড়াশোনা করেছেন একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। সবায় যখন পড়াশোনা করে চাকুরীর পিছে দৌড়াই তখন তিনি ভাবেন নিজে চাকরি করবেন না, নিজেই কিছু করবেন। এরপর মনস্থির করলেন এবং কিছু একটা করেও ফেললেন।

২০১৭ সালে পহেলা জানুয়ারী ব্যাড হ্যাবিট নামক একটি অনলাইন ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসার মূলধন মাত্র সাত হাজার টাকা। শুরু করার পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি এই Agambartaকে।

ব্যাড হ্যাবিট, কোনো খারাপ অভ্যাসের কথা বলছি না। বলছি গহনা বিক্রয়কারী অনলাইনভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কথা। প্রতিষ্ঠানটি ফেসবুকে ‘ব্যাড হ্যাবিট’ নামক পেজের মাধ্যমে গহনা বিক্রয় করে থাকে।

পাঠক আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে এতো নাম থাকতে প্রতিষ্ঠানের নাম কেন ব্যাড হ্যাবিট?

জানতে চাইলে ব্যাড হ্যাবিটের প্রতিষ্ঠাতা মহিউদ্দিন শ্যামল উদ্যোক্তা বার্তাকে বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই হাতে ব্রেসলেট, কানে দুল, গলায় বিভিন্ন রকম চেইন পরতাম। ছেলে বলে তখন সবাই বলতো এটা নাকি আমার বদ অভ্যাস। আমি সৌখিন মানুষ, এগুলো আমার শখ! কিন্তু সব সময় সব শখ সবাই মেনে নেয় না, ভালোভাবে দেখেও না। যখন ব্যবসায় নামব ভাবলাম তখন কেন যেন এই বিষয়টাই বার বার নাড়া দিল! ইচ্ছে করেই নাম দিলাম ব্যাড হ্যাবিট। আর তাই নারীদের গহনার পাশাপাশি পুরুষদের গহনা নিয়েও কাজ করি আমরা।’

ব্যাড হ্যাবিটে রয়েছে ব্যতিক্রমী সব গহনার সম্ভার। প্রকৃত রিকশা পেইন্টারদের দিয়ে প্রথম গহনায় কাজ করায় ব্যাড হ্যাবিট। রিকশার টিনের পাতেই হয়েছিল সেই গহনাগুলো।

এছাড়া তামা, পিতল, ব্রোঞ্জের গয়নার কাজও পাবেন তাদের এখানে। ঐতিহ্যবাহী পাটের গহনা, মাটির গহনা নতুন করে আবার সবার সামনে নিয়ে এসেছে এফ-কমার্স বা ফেসবুকভিত্তিক এই পেজটি।

গহনা বলতেই বাজার যখন ভারতীয় গহনায় সয়লাব তখন দেশি গহনা তৈরির এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

ব্যাড হ্যাবিট পেজটিতে বর্তমানে ৫ জন প্রতিদিন কাজ করছেন। বর্তমানে হাতে নকশা করা টিপ ব্যাড হ্যাবিটের বিশেষ আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শাড়ি বলি আর সালোয়ার কামিজ বলি, টিপ সবকিছুতেই একটা বাড়তি সৌন্দর্য এনে দেয়। আর সেই টিপ যদি হয় ড্রেসের মতোই নকশার তাহলে নিজের কাছেই একটা বাড়তি আনন্দ চলে আসে।

শুধু টিপ নয়, হাতের ব্রেসলেটে যদি থাকে শিউলি ফুলের নকশা তাহলে মনটা এমনিতেই ভালো হয়ে যাবে। আবার সহজে মেলে না এমন গহনা পাওয়া যাবে ব্যাড হ্যাবিটে। যেমন, পিতলের কারুকাজ করা কাজলদানি, বাজু, কোমরবন্ধ। ব্যাড হ্যাবিটে আরো আছে গোল্ড প্লেটেড গহনা। বিভিন্ন রকম গহনা নিয়েই ব্যাড হ্যাবিটের কাজ।

ক্রেতার সংখ্যা জানতে চাইলে শ্যামল বলেন, ‘ভিন্নধর্মী গহনা যারা পছন্দ করেন তারাই আমাদের ক্রেতা। আর এমন রুচিশীল মানুষের সংখ্যা কিন্তু অনেক।’

এফ-কমার্স বা ফেসবুক পেজভিত্তিক নতুন Agambartaদের উদ্দেশ্যে শ্যামল বলেন, যে যেই দিকটায় পারদর্শী সে সেই দিকটা নিয়ে কাজ করলে ভালো হয়। আর অনলাইন ব্যবসাতে প্রচুর মেধা ব্যয় করতে হবে। পরিশ্রম করা, ধৈর্য রাখা আর সততা এই গুণগুলো যাদের মধ্যে আছে তারা করতে পারে অনলাইন ব্যবসা।

 

 

খাদিজা ইসলাম স্বপ্না

The post শ্যামলের ‘ব্যাড হ্যাবিট’ appeared first on Agambarta Barta.

Leave a Reply

Back to top button
Close