offbeat news

সুকান্তের কবি সত্ত্বার ভীত গড়েছিল দিদির সাহিত্য প্রেম

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : তিনি কবি, তিনি প্রতিবাদী, তিনি চির তরুণ। তিনি কবি সুকান্ত। একুশ বছরের জীবনে অসংখ্য কবিতা প্রতি পদে পদে আজও মানুষকে ভাবায়। প্রতিবাদ করতে শেখায়। কিন্তু তাঁর এই যে নাম সুকান্ত তা সেই নামের পিছনে এবং তার কবি হয়ে ওঠার জন্য ভূমিকা আছে তাঁর এক দিদির।

সুকান্তের জন্ম১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট। ৪৩, মহিম হালদার স্ট্রীট, কালীঘাটে। সুকান্তের এই নামটি হল কীভাবে? এর একটি ইতিহাস রয়েছে। সুকান্তের জেঠতুতো দিদি ছিলেন রানি। তিনি কবির জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তিনি তৎকালীন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক মণীন্দ্রলাল বসুর ‘সুকান্ত’ গল্পটি পড়েছিলেন। এবং সেই গল্প পড়েই তিনি কবির নাম রাখেন ‘সুকান্ত’।

সুকান্তের অন্যন্য দাদা, ভাই, বোন থাকলেও রানিদিদি ছিলেন খুব প্রিয়। ছোটবেলা থেকে সুকান্তের সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ তৈরিতে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। গল্প-কবিতা সবসময় শোনাতেন। সেই থেকেই তার সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। তবে এই রানিদিই হঠাৎ মারা যান। পরপরই মারা যান তাঁর মা।

এই সব ধাক্কা তাঁর মনে বড় প্রভাব ফেলেছিল। একাকিত্ব ঘিরে ফেলেছিল তাঁকে। নিঃসঙ্গ মনে হত। সঙ্গী হয়ে এসেছিল কবিতা।

সুকান্তের প্রাথমিক শিক্ষা হয়েছিল কমলা বিদ্যামন্দিরে। সেখানেই সাহিত্যেও হাতেখড়ি। প্রথম ছোটগল্প ছাপা হয় স্কুলেই।প্রকাশিত একটি পত্রিকায়। এর নাম ছিল ‘সঞ্চয়’। শিখা পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল বিবেকানন্দ জীবনী।।

পরে ভরতি হন বেলেঘাটা দেশবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ে। ১৯৪৪ সাল থেকেই রাজনীতিতে যোগদান করেন। ৪৫ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষা দিকেও পাশ করতে পারেননি।

স্কুলের বাঁধাধরা নিয়ম অপছন্দ ছিল। এদিকে পার্টির কাজে ব্যাপক ভাবে জড়িয়ে পড়েন। সঙ্গে কবিতা লেখা। একেই অভাবের সংসার। নাওয়া খাওয়া ভুলে কবিতা আর রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। রুগ্ন হয়ে যায় শরীর। আক্রান্ত হন যক্ষায়। জীবনকে থামে অকালেই। ১৯৪৭ সালের ১৩ মে আজকের দিনে।

কলকাতার প্রতি অদ্ভূত টান ছিল। বহু লেখায় তার প্রমান মেলে। কিন্তু সবথেকে ট্র্যাজিক বিষয় হল জীবিত অবস্থায় তাঁর কোনও বই প্রকাশিত হয়নি। মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় ‘ছাড়পত্র’। ধীরে ধীরে অন্য বইগুলি।

লাল-নীল-গেরুয়া…! ‘রঙ’ ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা ‘খাচ্ছে’? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম ‘সংবাদ’!

‘ব্রেকিং’ আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের।

কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে ‘রঙ’ লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে ‘ফেক’ তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই ‘ফ্রি’ নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.
হ্যাঁ, আমি অনুদান করতে ইচ্ছুক >

Back to top button