Saidpurসৈয়দপুর

সৈয়দপুর রেলওয়ের দেড়শ’ বছরের পুরনো দৃষ্টিনন্দন ভবন গিলে খেয়েছে পাইলট কলেজ কর্তৃপক্ষ! – আগাম বার্তা

নীলফামারীনিউজ, ডেস্ক রিপোর্ট- প্রায় দেড়শ’ বছরের পুরনো বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি ঐতিহ্যবাহী বি আর সিং ইন্সটিটিউট ভবন রাতের আধারে গিলে খেয়েছে সৈয়দপুর পাইলট বালিকা স্কুল এন্ড কলেজ এবং সৈয়দপুর রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি বিভাগ কর্তৃপক্ষ। এ ভবনের ইট ও রডের বর্তমান বাজার মুল্য অন্তত ৫০ কোটি টাকা।

অথচ সৈয়দপুর রেলওয়ের বিভিন্ন অবকাঠামো ও জমি রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বরত কর্মকর্তা আই ডাব্লিউ তৌহিদুল ইসলাম জেনেও না জানার ভান করে হাত-পা গুটিয়ে বসে রয়েছেন। এ বিষয়টি এখন সৈয়দপুর শহর জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তোলপাড়।

গত ১৯জুন সরেজমিনে গিয়ে এলাকার বিভিন্নজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের আওতায় ১৮৭০ সালে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা স্থাপনের পরে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার রেল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চিত্তবিনোদনের জন্য নির্মান করা হয় বিভিন্ন অডিটোরিয়াম ও ইন্সটিটিউট। তারই একটি হলো বি আর সিং ইন্সটিটিউট ভবন। পরবর্তীতে এ মাঠেই স্থাপন করা হয় সৈয়দপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।

এ সময় তারা ওই ভবনটিসহ পুরো ক্যাম্পাস সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘিরে নেয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই ভবনটি প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানোর কাজে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছে। ভবনটির কারুকার্য ছিলো দৃষ্টিনন্দন এবং নকশাখচিত। দিনের পর দিন বিদ্যালয়ের কলেবর বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ এ প্রতিষ্ঠানটিকে স্কুল এন্ড কলেজে রুপান্তর করে রেলওয়ের আশেপাশের জমিতে নির্মান করেন একাধীক ভবন। গত ১৫ রমজান থেকে ২২ রমজানের মধ্যে কর্তৃপক্ষ দৃষ্টিনন্দন এই ঐতিহ্যবাহী দেড়শ’ বছরের পুরনো ভবনটি ভেঙ্গে বিক্রি করে দেয় রড ও লক্ষাধীক ইট।

একটি সূত্র জানায়, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি হাজার ইট বিক্রি করা হয় পাঁচ হাজার টাকা করে। যার বাজার মুল্য অন্ত:ত ৫০ কোটি টাকা। এ বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাতের সাথে স্কুল এন্ড কলেজ ও সৈয়দপুর রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তাগন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোকছেদুল মোমিন।

সৈয়দপুর পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ রাজিব উদ্দীন মুঠো ফোনে বলেন, প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মোখছেদুল মোমিন কিডনি রোগে অসুস্থ হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গঠিত প্রকল্প কমিটি সদস্যগন গত রমজান মাসে রেলওয়ের ওই ভবনটি ভেঙ্গে ফেলে। ওই ভবনের ইট ও রড প্রকল্প কমিটির সভাপতির সিদ্ধান্তে কী করা হয়েছে তা আমার জানা নেই। গভর্নিং বডি ও প্রকল্প কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন মোখছেদুল মোমিন। কমিটির সিদ্ধান্তের বাইরে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের বাইরে যাওয়ার কোন ক্ষমতা নেই-বলে দাবী করেন তিনি। এর বেশী কিছু আমি বলতে পারব না বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর রেলওয়ের আই ডাব্লিউ’র সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ওখানে রেলওয়ের ভবন ছিল কিনা আমার জানা নেই। এটা জানেন হক সাহেব। কে এই হক সাহেব জানতে চাইলে তিনি তার ব্যাখ্যা দেননি।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন হলেন সৈয়দপুর পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি। তিনি অসুস্থ, ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভবনটি ভেঙ্গে ইট রড বিক্রি করার বিষয়টি তাই তদন্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি এলেই আমি তদন্ত করব। এর বেশী কিছু বলতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Back to top button
Close