প্রযুক্তির খবর

স্যানিটারি ন্যাপকিনে ৪০ শতাংশ ভ্যাট বৃদ্ধি, ক্ষোভ সাধারণ মানুষের

ফাইল ছবি
স্বপ্না চক্রবর্তী : ৪০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের কারণে খুচরা এবং পাইকারি পর্যায়ে বেড়েছে নারীদের ঋতুস্রাবকালীন সময়ে জরুরী প্রয়োজনী স্যানিটারি ন্যাপকিনের দাম। এমনিতে উচ্চমূল্যের কারণে দেশের ১২ থেকে ১৫ শতাংশ নারী ঋতুকালীন সময়ে ঠিকভাবে প্যাড ব্যবহার করতে পারেন না। স্যানিটারি ন্যাপকিনের উপর থেকে এই ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে তাই জনসাধারণের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিবাদ। সামাজিক মাধ্যমগুলোতে প্রতিবাদী বক্তব্যসহ পালন করা হয়েছে মানববন্ধনও। এসব ভর্তুকি দিয়ে নামমাত্র মূল্যে নারীদের স্যানিটারি ন্যাপকিন সরবরাহসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য উন্নত ওয়াশরুম এবং ইমারজেন্সী প্যাড কর্ণার চালুর দাবি জানান। ঋতুকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরির জন্য উপযুক্ত শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।

বিশিষ্ট সাংবাদিক ফরিদ কবির তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ওয়ালে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, স্যানিটারি প্যাডের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর ঘোষণা এসেছে বেশ কয়েকদিন হলো। বাজেট প্রস্তাবে যে বিষয়টা থাকছে সেটা কাগজে এসেছিলো বেশ কিছুদিন আগেই। অর্থমন্ত্রীর বাজেট ঘোষণায় তার প্রতিফলন দেখাও গেলো! কিন্তু নারীমহলের কোনো ‘রা’ নেই! আজ এতোদিন পর দেখলাম, দু’-চারজন নারী মুখ খুলেছেন! বাকিরা মুখ খোলেননি এখনো। এমনকি, আমার বউ-মেয়েও না। এর বড় কারণ, স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করেন নারীরা। কিন্তু তার বেশিরভাগ ক্রেতা পুরুষরাই। হয় স্বামী হিসেবে। নয়তো মেয়ের বাবা হিসেবে। যেমন, আমার বউ আর আমার মেয়ের স্যানিটারি প্যাড আমিই কিনে দেই। তারা শুধু দয়া করে ব্র্যান্ডটা নির্ধারণ করে দেন। আমার পকেট থেকে কতো খসলো তা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নাই। কিন্তু, এটা নিয়ে মাথাব্যথা তাদের থাকাই তো উচিত। প্যাডের দাম বাড়লে অনেক মেয়েকেই প্যাড ছেড়ে ন্যাকড়া ব্যবহার করতে হবে। আর সে ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে তারাই। আমার আয় আরেকটু কম হলে আমিই বউ-মেয়েকে ত্যানা ব্যবহার করতে হয়তো বাধ্য করতাম! কাজেই, জিনিশটার দাম কোনোভাবেই বাড়তে দেয়া উচিত না। কোনোভাবেই না। কেউ একজন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলুন। নতুবা রাস্তায় নামুন।
একই দাবি জানান লেখিকা রুমা মোদক। তিনি বলেন, নারীরা বহু কষ্টে ন্যাকড়া ছেড়ে প্যাড পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছে। কিন্তু উচ্চমূল্যের কারণে অধিকাংশ মেয়েরাই এখনো প্যাড ব্যবহার করতে পারে না। তার ওপর যদি দাম আরও বাড়ে তাহলে আবার ন্যাকড়া’র যুগে ফিরে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে অধিকাংশেরই। এতে করে নারীদের যেমন বাড়বে স্বাস্থ্যঝুঁকি তেমনি বাড়বে জরায়ু ক্যান্সারের মতো জটিল রোগও।
সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে এর প্রতিবাদ জানিয়ে লিখেছেন, ‘ইহা বিলাস সামগ্রী নয়, ইহা ভাত ডাল তেল নুনের মতোই নিত্য ও অপরিহার্য সামগ্রী। ৪০শতাংশ ভ্যাট চান কী কারণে?

জুমবাংলা/এসএম/

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Back to top button
Close